1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

দুই কোরিয়ার যোগসূত্র তিন গুপ্তচর

উত্তর কোরিয়ার তিন গুপ্তচরের কাণ্ডকারখানা নিয়ে তৈরি একটি চলচ্চিত্র দক্ষিণ কোরিয়ায় বিপুল সাফল্যের পর দেশের সীমানার বাইরে মুক্তি পাচ্ছে৷ বিভক্ত দেশের দুই সমাজের মধ্যে মিল দর্শকদের মন ছুঁয়েছে৷

মস্কো বিমানবন্দরে আটকে পড়া মার্কিন ‘হইসেলব্লোয়ার' এডওয়ার্ড স্নোডেনকে নিয়ে যা চলছে, তা হলিউডের স্পাই-থ্রিলারকেও হার মানায়৷ বিশেষ করে বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট এবো মরালেসকে যেভাবে মস্কো থেকে দেশে ফেরার পথে ভিয়েনায় অবতরণ করতে হলো, তেমন ঘটনা হলিউড চিত্রনাট্যেও সহজে দেখা যায় না৷

এমনই এক বাস্তব ঘটনার প্রেক্ষাপটে থ্রিলার ছবি তৈরি হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ায়৷ ইংরিজি নাম ‘সিক্রেটলি গ্রেটলি'৷ মূল চরিত্র উত্তর কোরিয়ার তিনজন গুপ্তচর৷ তবে তারা ঠিক জেমস বন্ডের মতো পারদর্শী নয়, বরং প্রায়ই গোলমাল করে বসেন৷ অনেকটা ‘মিস্টার বিন'-এর মতো৷ ফলে থ্রিলার-এর মধ্যে কমেডি-র অংশই বেশি৷ ছবির বাণিজ্যিক সাফল্য অভাবনীয়৷ মুক্তি পাওয়ার মাত্র ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে এত মানুষ ছবিটি দেখেছেন, যে বক্স অফিসের আগের সব রেকর্ড ভেঙে গেছে৷ এবার হলিউডের দেশ অ্যামেরিকায়ও ছবিটি মুক্তি পাচ্ছে৷

Nordkorea Fernsehen Kim Jong Un Seoul Südkorea

উত্তর কোরিয়া সম্পর্কে দক্ষিণে আগ্রহের শেষ নেই

এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে কোরীয় উপদ্বীপের বিভাজনের মর্মান্তিক কাহিনিও৷ প্রায় ছয় দশক ধরে উত্তর কোরিয়া দক্ষিণের মানুষের নাগালের বাইরে৷ তবে উত্তর কোরিয়া সম্পর্কে কৌতূহল কমার বদলে বেড়ে গেছে৷ ‘সিক্রেটলি গ্রেটলি' ছবির পরিচালক জাং চেওল সু বলেছেন, দেশের বর্তমান নেতৃবৃন্দ সহ সবার ছবিটি দেখা উচিত৷ তাহলে তাঁরা বুঝবেন, কীভাবে তরুণ প্রজন্ম এই বিভাজনের ফলে প্রভাবিত হচ্ছে৷

ছবির কাহিনি বেশ মজার৷ মূল চরিত্র গুপ্তচর ওন নরিউন হোয়ান৷ তিনি পাঁচটি ভাষায় পারদর্শী৷ গুলি চালানোয় প্রায় অব্যর্থ – সাফল্যের মাত্রা ৯৮.৭ শতাংশ৷ গল্ফ কোর্সে জাদু দেখাতে পারেন৷ অর্থাৎ উত্তর কোরিয়ার প্রয়াত নেতা কিং জং ইল সম্পর্কে যে সব গুণগান করা হতো, গুপ্তচর ওন-এরও অবিকল সেই সব গুণ রয়েছে৷ যাই হোক, তাকে দক্ষিণ কোরিয়ায় পাঠানো হয়েছে, সেখানে বোকা সেজে থাকতে বলা হয়েছে৷ দক্ষিণে পৌঁছে দুই কমরেডের সঙ্গে দেখা৷ তাঁদের একজন গিটার বাজাতে না পেরেও নিজেকে রকস্টার হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করে চলেছেন৷ আরেকজন হাই স্কুলের নিষ্পাপ এক ছাত্র সেজে রয়েছেন৷ তবে দক্ষিণের জীবনযাত্রা তাদের তেমন পছন্দ হয় নি৷ বরং কিছু একটা করে দেখিয়ে নিজেদের দেশে কিংবদন্তি হয়ে ওঠার চেষ্টায় মন দিলেন এই তিন গুপ্তচর৷

এই তিন মূর্তির কাণ্ডকারখানা দর্শকদের হাসির খোরাক যুগিয়েছে৷ কিন্তু বিভক্ত দুই সমাজের একটা চিত্র তাদের ভাবিয়েছে৷ রাজনৈতিক বিভাজন সত্ত্বেও মানুষের মধ্যে সম্পর্ক যে সম্ভব, এই ছবি সেই পথ দেখানোর চেষ্টা করেছে৷

এসবি/ডিজি (রয়টার্স)

নির্বাচিত প্রতিবেদন