1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

দিল্লি গণধর্ষণকাণ্ডের আসামিদের ফাঁসি বহাল

ভারতে দিল্লি গণধর্ষণকাণ্ডের চারজন অপরাধীর ফাঁসির সাজা বহাল রেখেছে হাইকোর্ট৷ বৃহস্পতিবার ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আসামিপক্ষের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে দিল্লি হইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ৷

অভিশপ্ত ২০১২ সালের ১৬ই ডিসেম্বরের সেই রাত৷ দিল্লির চলন্ত বাসে ২৩ বছরের তরুণী ‘নির্ভয়া'-কে বিভৎসভাবে গণধর্ষণ করার অপরাধে ট্রায়েল কোর্টে চারজনের ফাঁসির সাজা হয়৷ সেই রায় বহাল রাখতে সরকারপক্ষ দিল্লি হাইকোর্টে আর্জি জানায় আইন অনুসারে৷ আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে সাজা মকুব করার আবেদন রাখে৷ দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি রেভা ক্ষেত্রপাল এবং বিচারপতি প্রতিভা রাণীর এক ডিভিশন বেঞ্চ তাদের আবেদন খারিজ করে ফাঁসির সাজা বহাল রাখে৷ রায়দানকালে আদালতে উপস্থিত ছিলেন নির্ভয়ার মা-বাবা৷ রায় ঘোষণার পর নির্ভয়ার মা বিচার বিভাগের ওপর পূর্ণ আস্থা ব্যক্ত করে বলেন, ‘‘এই রায়ই চেয়েছিলাম আমরা৷'' স্বাভাবিকভাবেই, শাস্তি কার্যকর হলেই সন্তুষ্ট হবেন তাঁরা৷

ঐ বাসের চালকসহ ছয়জন কর্মী নির্ভয়াকে ধর্ষণ করার পর মারধর করে তাঁর সঙ্গের পুরুষবন্ধুকে৷ তারপর চলন্ত বাস থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় তাঁদের৷ গুরুতর আহত ও বিধ্বস্ত নির্ভয়াকে উপযুক্ত চিকিৎসা সত্ত্বেও বাঁচানো যায়নি৷ সিঙ্গাপুর হাসপাতালে নির্ভয়া মারা যান ২০১২ সালের ২৯শে ডিসেম্বর৷ ঐ পাশবিক ঘটনায় প্রতিবাদের ঝড় বয়ে যায় গোটা দেশে৷ ঝাঁকুনি দিয়ে যায় সুস্থ নাগরিক সমাজের বিবেককে৷ নাগরিক সমাজের দাবিতে সরকার ধর্ষণ ও নারী নিগ্রহ বিরোধী আইন আরো কঠোর করে বিচার বিভাগীয় কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী৷

Indien Proteste in Delhi

দিল্লিতে এক তরুণীকে গণধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে ফেটে পড়ে সারা ভারত

অপরাধীদের গ্রেপ্তারের পর দিল্লির ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে শুরু হয় তাঁদের বিচার৷ সাক্ষ্য প্রমাণ হিসেবে পুলিশ পেশ করে নির্ভয়ার শেষ জবানবন্দি, তাঁর পুরুষবন্ধুর প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ, আসামিদের কাছ থেকে উদ্ধার করা রক্তমাখা জামা-কাপড়, ডিএনএ রিপোর্ট যা নির্ভয়ার ডিএনএ-র সঙ্গে মিলে যায়৷ এছাড়াও মেডিকেল ও ফরেনসিক রিপোর্ট৷ সাক্ষ্য নেয়া হয় মোট ৮০ জনের৷ সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ১৩০ দিন শুনানি হবার পর, ট্রায়াল কোর্ট ছয়জন আসামির মধ্যে চারজনকে ফাঁসির সাজা দেন বিরলের মধ্যে বিরলতম অপরাধের শাস্তি হিসেবে৷ ছয়জনের মধ্যে বয়সের দিক থেকে একজন নাবালক থাকায়, জুভেনাইল জাস্টিক বোর্ডের বিচারে তাকে সর্বোচ্চ তিন বছরের সংশোধনাগার জেলে আটক রাখা হয়৷ মূল অপরাধি রাম সিং জেলবন্দি থাকাকালীন জেলের ভেতরেই আত্মহত্যা করায় পার পেয়ে যায়৷ ভারতে সাধারণত ধর্ষণের মামলার ফয়সালা হতে বহু সময় কেটে যায়, কিন্তু এক্ষেত্রে মাত্র মাত্র আট মাসেই রায় দেয়া হয়৷

তবে মৃত্যুদণ্ডের যৌক্তিকতা নিয়ে ভারতে এখনো চলেছে বিতর্ক৷ বলা হচ্ছে, ধর্ষণের অপরাধে ফাঁসির সাজা দেওয়া সত্ত্বেও দেশে ধর্ষণ বা নারী নিগ্রহ কমেনি বরং বেড়েছে৷ তাহলে ফাঁসির সাজার সার্থকতা কতটা? আসল উদ্দেশ্য, সমাজের সুস্থ মানসিকতা সবার আগে গড়ে তোলা জরুরি৷ তবে সেটা করার দায়িত্ব কার? পরিবারের, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের, সমাজসেবীদের না সংশোধনাগারের? প্রশ্নটা এখানেই৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়