1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

দিল্লির রাস্তায় এলো ই-রিক্সা

দিল্লির রাস্তায় আজকাল দাপটে চলছে পরিবেশ-বান্ধব ইকো-রিক্সা বা ই-রিক্সা৷ প্রচলিত সাইকেল রিক্সার বিকল্প হিসেবে কম দূরত্বে দ্রুত যাতায়াতের পক্ষে যা খুবই সুবিধাজনক৷ তবে এই রিক্সার সংখ্যা বাড়ায় হচ্ছে ট্র্যাফিক জ্যামও৷

রিক্সার বিবর্তনে হাতে টানা দু'চাকার রিক্সা, তিন চাকার সাইকেল রিক্সা থেকে হালের ব্যাটারি-চালিত দূষণ মুক্ত, শব্দহীন তিন চাকার ই-রিক্সা৷ পোট্রোল নয়, ডিজেল নয়, প্রাকৃতিক গ্যাস নয়, স্রেফ চারটি ১২ ভোল্টের ব্যাটারিতে ২৫০ ওয়াটের কম বিদ্যুতে চার থেকে পাঁচজন যাত্রি নিয়ে ঘণ্টায় ২০ থেকে ২৫ কিলোমিটার গতিতে চলতে পারে৷ এই বাহন নন-মোটরাইজড বাহনের আওতায় পড়ে বলে ট্র্যাফিক নিয়ম-কানুন এই বাহনের ওপর প্রযোজ্য হয় না৷

Eco-Friendly Tricycles/Rickshaws on Delhi roads. Man ferrying passengers in battery operated rickshaw in Delhi. Copyright: DW via Arafatul Islam, DW Bengali

ই-রিক্সা চালকরা যেমন খুশি চালান, যেখানে সেখানে পার্ক করেন

শুধু তাই নয়, বাহনের পারমিট বা রেজিস্ট্রেশন নেবার দরকার হয় না৷ এর সুযোগ নিয়ে ই-রিক্সা চালকরা যেমন খুশি চালান, যেখানে সেখানে পার্ক করেন৷ স্বাভাবিকভাবেই যা ট্র্যাফিক জ্যামের কারণ হয়৷ ট্র্যাফিক পুলিশ জরিমানা করতে পারে না, যেহেতু এগুলো ট্র্যাফিক নিয়মের মধ্যে পড়ে না৷ তবে পুলিশ এবং পরিবহন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এদের জন্য আলাদা পার্কিং-এর জায়গা নির্দিষ্ট রাখা দরকার৷ পাশাপাশি ট্র্যাফিক আইনের বাইরেও এরা থাকতে পারে না৷

দিল্লি ট্র্যাফিক পুলিশের এক শীর্ষকর্তা বলেন, অনেক ই-রিক্সা বেশি শক্তি-সম্পন্ন মোটর ব্যবহার করে থাকে বেশি যাত্রি নিতে পারবে বলে৷ ২৫০ ওয়াটের পরিবর্তে অনেক ই-রিক্সায় লাগানো আছে ৬৫০ ওয়াটে চলা ৮৫০ অশ্বশক্তির ইঞ্জিন৷ উচ্চ শক্তির ইঞ্জিনে আপত্তি নেই, কিন্তু যাত্রি-বাহন হিসেবে দিল্লি সরকারকে ই-রিক্সার লাইসেন্স ও রেজিস্ট্রেশন ইস্যু করার জন্য বলা হয়, যাতে ট্র্যাফিক নিয়ম লঙ্ঘন করলে শাস্তি দেয়া যায়৷ কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী শীলা দিক্ষিত আপাতত তাতে সায় দেননি৷ তাঁর মতে, দিল্লি মেট্রো স্টেশন এবং আশেপাশের আবাসিক কলোনিগুলির মধ্যে যাতায়াতে সাধারণ মানুষের সুবিধা হবে৷

Eco-Friendly Tricycles/Rickshaws on Delhi roads. Man ferrying passengers in battery operated rickshaw in Delhi. Copyright: DW via Arafatul Islam, DW Bengali

ই-রিক্সা আমদানি করা হয় চীন থেকে খোলা অবস্থায়

ই-রিক্সা আমদানি করা হয় চীন থেকে খোলা অবস্থায়৷ ভারতে সেটা জোড়া দেয়া হয় মাত্র৷ ইঞ্জিনের হর্স-পাওয়ার বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই৷ ই-রিক্সার সংখ্যার ওপরও কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই৷ কয়েকটি মডেলে বিক্রি হয়৷ যেমন, ময়ুরী ,ডিলুক্স, বাই-বাই৷ দাম পড়ে ৯৫ হাজার টাকা থেকে এক লাখ পঁচিশ হাজার টাকা৷ চালানোর খরচ সেদিক থেকে খুবই কম৷ এক রাত্রি ব্যাটারি চার্জ দিলে ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার চলে, ডয়চে ভেলেকে জানালেন ই-রিক্সা চালক রফিক এবং মাহিন্দর৷ আয়ের কথা তুলতে ওঁনারা জানান, দৈনিক আয় গড়ে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা৷ তার মধ্যে ই-রিক্সার মালিককে দিতে হয় ৩৫০-৪০০ টাকা৷ মাথা পিছু ভাড়া ঠিক হয় দুরত্ব হিসেবে৷ শুরু ১০ টাকা থেকে৷

ইকো-রিক্সা কতটা মজবুত এবং নিরাপদ তাই নিয়ে ট্র্যাফিক পুলিশ এবং ই-রিক্সা অপারেটরদের মধ্যে বিবাদ আদালত পর্যন্ত গড়ায়৷ এরপর আদালত ই-রিক্সার কাঠামোর মজবুতি এবং যাত্রি নিরাপত্তা পরীক্ষা করার আদেশ দেয়৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন