1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

দিল্লিতে জলকষ্টের সুযোগে জলের অবৈধ ব্যবসা

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে জলের কষ্ট চরমে ওঠে গ্রীষ্মে, এবং সেটা প্রায় প্রতিবছরই৷ সুযোগটা কাজে লাগাতে জল সরবরাহের অবৈধ ব্যবসা ফেঁদে বসেছে তথাকথিত জল মাফিয়া চক্র৷ আর পুর কর্তৃপক্ষ তাদের অক্ষমতা ঢাকতে না দেখার ভান করে থাকে৷

রাজধানী দিল্লি মহানগরীতে জলাভাব বরাবরই ছিল৷ কিন্তু সেটা চরমে ওঠে পিচ গলা গরমকালে৷ ত্রাহি ত্রাহি রব ওঠে সর্বত্র৷ শহরের নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও বস্তিবাসীরা দিল্লি জল বোর্ডের জলের ট্যাংকার আসার পথ চেয়ে থাকে৷ আসার কোনো নির্দিষ্ট সময় না থাকলেও সকাল থেকেই লম্বা লাইন পড়ে যায়, বিশেষ করে নিম্নবিত্ত ও গরিব এলাকায়৷ খুব কম সময়ের জন্য জল বোর্ডের ট্যাংকার আসে৷ ট্যাংকার আসার সঙ্গে সঙ্গে পড়ে যায় হুড়োহুড়ি৷ কেউ প্লাস্টিকের এক জ্যারিকেনের বেশি জল নিতে গেলেই শুরু হয় ঝগড়া আর ধাক্কাধাক্কি৷ দিল্লি জল বোর্ডের দাবি গোটা দিল্লিতে দৈনিক প্রায় ৯০০ ট্যাংকার পাঠানো হয়৷ তা সত্ত্বেও ২০১৪ সালের গরমেও জলকষ্টের ছবিটা পালটায়নি৷

দিল্লির ভেঙে পড়া জল সরবরাহ ব্যবস্থা এবং নিদারুণ জলকষ্টের সুযোগে রমরমা ব্যবসা ফেঁদে বসেছে ছোট ছোট ট্যাংকারে করে জল সরবরাহের অবৈধ ‘ট্যাংকার মাফিয়া'৷ প্রতিদিন তথাকথিত এই ‘ট্যাংকার মাফিয়াদের' প্রায় ২০০০ ট্যাংকার নামে নতুন দিল্লির রাস্তায় রাস্তায়৷ চড়া দাম দিয়ে সেই অপরিশুদ্ধ জল কিনতে বাধ্য হয় গরিব বড়লোক নির্বিশেষে৷ কোনো কোনো অবৈধ ব্যবসাদার হাজার লিটার জলের জন্য দাম নেয় তিন হাজার টাকা৷ কেউ কেউ ট্যাংকার পিছু ৬০০ টাকা৷

বলা বাহুল্য, দিল্লির ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার জলের চাহিদা মেটানো দিল্লি জল বোর্ডের সাধ্যের বাইরে৷ ১৯৯১ সালে দিল্লির জনসংখ্যা ছিল ৯০ লাখ৷ আর আজ সেটা দাঁড়িয়েছে এক কোটি ৭০ লাখে৷ রুজি রোজগারের ধান্ধায় হাজার হাজার অন্য রাজ্য থেকে দিল্লিতে এসে আস্তানা গেড়েছে৷ ধীরে ধীরে ঘরবাড়ির চাহিদা বাড়ছে৷ বৈধ অবৈধভাবে বাড়ি তৈরি হচ্ছে৷ বাড়ি তৈরির জন্য প্রচুর জল চুরি করা হয় দিল্লি জল বোর্ডের পাইপ লাইন থেকে৷ অবৈধভাবে তৈরি বাড়িতে জলের লাইন দেয়া হয় না যেখানে থাকে শহরের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ৷ ‘ট্যাংকার মাফিয়াদের' কাছ থেকে জল কিনে কিংবা জল বোর্ডের পাইপ লাইন থেকে জল চুরি করে তাঁদের জলাভাব মেটাতে হয়৷ কর্তৃপক্ষ জেনে শুনেও না দেখার না জানার ভান করে থাকে৷ কারণ অবৈধ চক্র টাকা দিয়ে তাঁদের মুখ বন্ধ করে রাখে৷ যে পরিমাণ পাইপ-বাহিত জল প্রতি ঘরে দেয়া হোত, তা কম করেও চাহিদা মেটানো যাচ্ছে না৷ ঘাটতি থেকে যাচ্ছে প্রায় ১৬ কোটি গ্যালন৷

দিল্লি জল বোর্ডের এক পদস্থ কর্মকর্তা ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘জলাভাবের যে চিত্রটা তুলে ধরা হচ্ছে তা অস্বীকার না করেও বলা যায় যে, এটা অতিরঞ্জিত৷ দিল্লি মহানগরীরতে জলের গড় চাহিদা ১০৫০ মিলিয়ন গ্যালন৷ আমরা দিতে পারছি ৯৫০ মিলিয়ন গ্যালন৷

এমন ১৬ লাখ পরিবারকে জল সরবরাহ করা হয় যেসব বাড়িতে জলের নিজস্ব মিটার আছে৷ আর গ্রুপ-হাউজিং ফ্ল্যাটের ২০ লাখ পরিবারকে জল সরবরাহ করা হয়, যাঁদের নিজস্ব জলের মিটার নেই, আছে গ্রুপ হাউজিং সোসাইটির নামে৷ দিল্লি জল বোর্ডের প্রাথমিক দায়িত্ব পানীয় জল সরবরাহ করা৷ তাই অন্যান্য ঘর গৃহস্থালির কাজে যেমন, কাপড় কাচা, স্নান করা, ঘর ধোয়া, বাসন ধোয়া, গাড়ি ধোয়া, বাগানে জল দেয়া ইত্যাদির জন্য বাড়তি জল তাঁদের কিনতে হয়, না হয় অবৈধ উপায়ে ভূগর্ভস্থ জল তুলতে পাম্প বসাতে হয়৷''

দিল্লি মহানগরীতে সরবরাহ করা জল কোথা থেকে আসছে? এর উত্তরে দিল্লি জল বোর্ডের ঐ কর্তা ব্যক্তি ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘জল আসছে হিমালয়ের গঙ্গা থেকে৷ গরমকালে বাড়তি জলের জন্য জল বোর্ড ১৬২টি গভীর টিউবওয়েল বসিয়েছে৷ দিল্লিতে ঐ জল পরিশোধনের জন্য আছে ৯টি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট৷''

‘ট্যাংকার মাফিয়ারা' কোথা থেকে জল আনে? উত্তরে তিনি জানান, ‘‘রাজধানি এলাকার সীমা-লাগোয়া জায়গায় অবৈধ কুঁয়ো খুঁড়ে৷ জলবোর্ডের ট্যাংকারের ড্রাইভারকে পয়সা দিয়ে জল চুরির অভিযোগ এসেছএ৷ অবাধে ভূগর্ভস্থ জল ব্যবহারের দরুণ দিল্লির জলস্তর ক্রমশই নীচে নেমে যাচ্ছে৷ কোনো কোনো জায়গায় ৯ ফুট পর্যন্ত৷ এতে পরিবেশ এবং মানব-বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিতে পারে৷ জলের অপব্যবহার, অবৈধ ব্যবসা এবং জল চুরি রুখতে টাকা দিয়ে প্রয়োজনমত জল কেনার জন্য পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হচ্ছে ‘ওয়াটার এটিএম'৷ আগামী বছরে ১০টি বস্তি এলাকায় বসানো হবে ৫০০ ‘ওয়াটার এটিএম'৷

Wasserversorgung Neu Delhi

‘ট্যাংকার মাফিয়া'

জল বোর্ডের কর্তাব্যক্তিদের মত যাই হোক না কেন, দিল্লির ওয়াটার ম্যানেজমেন্টে যথেষ্ট ফাঁক আছে৷ নতুন মোদী সরকার ‘জলই জীবন' কথাটা মাথায় রেখে পারবেন কি দিল্লির জল সরবরাহের দূরবস্থা দূর করতে? মোদী শাসনের ১০০ দিনে তার কোনো লক্ষণ চোখে পড়েনি এখনো৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন