1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

দায় স্বীকার করে ক্ষমা চাইলেন আশরাফুল

বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতহাসে স্পট ফিক্সিং-এর দায়ে প্রথমবারের মতো জাতীয় দলসহ সব ধরণের ক্রিকেট থেকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে তারকা ক্রিকেটার মোহাম্মদ আশরাফুলকে৷ আশরাফুল দায় স্বীকার করে দেশের মানুষের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন৷

আইসিসি-র চূড়ান্ত তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বা বিসিবি৷ মাত্র ১৭ বছর বয়সে জাতীয় দলে স্থান করে নেয়া আশরাফুল বাংলাদেশ ক্রিকেটের অনেক স্বপ্নের ধন৷ ১৭ থেকে ২৯ – এই ১২ বছর বা এক যুগে আশরাফুল তাঁর ক্রিকেট দিয়ে জাতিকে মাতিয়েছেন৷ তৈরি করেছেন অনেক রেকর্ড৷ টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে তিনি সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ান৷ আর তা করেছেন সেই অভিষেকের মুহূর্তেই৷

Bangladesh's batsman Mohammad Ashraful, leaves the field after his dismissal by South Africa's bowler Andre Nel, unseen, during their Super Eight Cricket World Cup match at the Guyana National Stadium in Georgetown, Guyana, Saturday, April 7, 2007. Ashraful, scored 87 runs during his innings. (AP Photo/Themba Hadebe)

সব ধরণের ক্রিকেট থেকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে তারকা ক্রিকেটার মোহাম্মদ আশরাফুলকে

কার্ডিফে অস্ট্রেলিয়ার মতো মহাপরাক্রমশালী দলকে বধের নায়ক তিনিই৷ আবার ২০০৪ সালে চট্টগ্রাম টেস্টে ভারতের বিপক্ষে ১৫৮ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে ক্রিকেট প্রেমী বাঙালির হৃদয়ে জায়গা করে নেন তিনিই৷ সেই আশরাফুলকে মঙ্গলবার জাতীয় ক্রিকেট দল থেকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করলো বিসিবি৷ অভিযোগ তিনি বিপিএল-এ স্পট ফিক্সিং-এ জড়িয়েছেন৷

আইসিসি-র তদন্তে তিনটি ম্যাচের কথা বলা হয়েছে৷ আর তা হলো ২রা ফেব্রুয়ারি ঢাকা- চট্টগ্রাম, ১১ই ফেব্রুয়ারি ঢাকা- খুলনা এবং ১২ই ফেব্রুয়ারি ঢাকা-বরিশাল বিপিএল ম্যাচ৷ বিসিবি-র সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আইসিসি-র দুর্নীতি দমন বিভাগ আকসুর তদন্ত কমিটির কাছে আশরাফুল নিজেই তাঁর অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন৷ সংবাদ মাধ্যমে তা প্রকাশিতও হয়েছে৷ আশরাফুল তার প্রতিবাদ করেননি৷ তাই তাঁকে প্রাথমিকভাবে জাতীয় ক্রিকেট দলসহ সব ধরনের ক্রিকেট থেকে দূরে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি৷ আকসুর চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে৷ জানা গেছে, তাতে আশরাফুলকে পাঁচ বছরের জন্য ক্রিকেট থেকে বহিষ্কার করা হতে পারে৷ বিসিবি সভাপতি জানান, চূড়ান্ত প্রতিবেদনে যদি আরো কারো বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে তাঁদের বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে৷

বিসিবি আশরাফুলকে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে সাময়িক বহিষ্কারের পর তিনি সংবাদ মাধ্যমেকে বলেন, দেশের ক্রিকেটের স্বার্থে তিনি সব দায় স্বীকার করে নিচ্ছেন৷ তিনি তাঁর এই অপরাধের জন্য দেশের মানুষ, ক্রিকেট প্রেমী, ভক্ত এবং অনুরাগীদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন৷ তিনি বিবেকের দংশনে আকসুর কাছে দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন বলে জানান৷ আর বিসিবি-র দেয়া সব শাস্তি তিনি মেনে নেবেন বলেও জানিয়েছেন আশরাফুল৷

এদিকে জাতীয় ক্রিকেট দলের আরেক সাবেক অধিনায়ক রকিবুল হাসান বিসিবি-র সিদ্ধান্তকে সময়োচিত এবং যথার্থ বলে মনে করেন৷ তিনি ডয়চে ভেলেক বলেন, অনেক দিন ধরেই এই কেলেঙ্কারির কথা শোনা যাচ্ছিল৷ তাই এই শস্তিমূলক ব্যবস্থার পর বাংলাদেশের ক্রিকেট কলঙ্ককে পাশ কাটিয়ে সামনে এগিয়ে যাবে৷ এখন যাঁরা খেলছেন এবং ভবিষ্যতে যাঁরা খেলবেন তাঁদের জন্য সতর্ক বার্তা হয়ে থাকবে এটি৷ সাবাই জানবে, খেলোয়াড়দের কাজ খেলা, অপরাধ করে পার পাওয়া যায় না৷ তিনি মনে করেন, শুরুতেই ধরা পড়ায় বাংলাদেশের ক্রিকেট অনেক বড় ধরনের বিপর্যয়ের হাত থেকে বেঁচে গেল৷ বলা বাহুল্য, এ ধরনের বিপর্যয় বহুবার দেখা গেছে প্রতিবেশী দেশে৷

Bangladesh's captain Mohammad Ashraful walks from the crease after loosing his wicket for 9 off the bowling of India's Ishant Sharma during their Twenty20 World Cup cricket match at Trent Bridge cricket ground Nottingham, England, Saturday June 6, 2009. (AP Photo/Jon Super)

আশরাফুল দায় স্বীকার করে দেশের মানুষের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন

তাঁর মতে, আইসিসি-র চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদনে আরো যাঁদের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হবে তাঁদের সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে৷ তবে তার আগে বিসিবি যেন ঐ তদন্ত রিপোর্ট পর্যালোচনা করে দেখে৷ কারণ যাঁরা শস্তির মুখোমুখি হচ্ছেন তাঁরা আমাদের জাতীয় বীর৷ তাঁরা যেন ন্যায়বিচার পান৷

রকিবুল হাসান বলেন, জাতির কাছে ক্ষমা চেয়ে এবং দোষ স্বীকার করে আশরাফুল বড় মনের পরিচয় দিয়েছেন৷ কেউ অপরাধ করলে সে অপরাধী – একথা সত্য৷ কিন্তু অপরাধ স্বীকারে এবং ক্ষমা প্রার্থনার মধ্যে যে মহত্ব আছে, তা যেন আমরা ভুলে না যাই৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন