1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

দায় এড়াতে বাহানার অভাব নেই পুলিশের

বাংলাদেশ পুলিশ নাকি রক্ষকের চেয়ে ভক্ষকের ভূমিকায় থাকে বেশি৷ এমন কথা অনেকবার শুনেছি৷ দায় এড়াতে পুলিশের বাহানার অন্ত নেই৷ দু'মাস আগে ঢাকায় এ সব কথার প্রমাণ পেয়েছি হাতেনাতে৷

বাংলাদেশ পুলিশ মঙ্গলবার জানিয়েছে, দেশটির ৮৪ শতাংশ অপহরণের ঘটনা নাকি প্রেমঘটিত কারণে হয়ে থাকে৷ পুলিশ বলেছে, তাই বিশ্বাস করতে হবে – এমন ধারণার বাইরে গিয়ে ভাবলে মাথায় অনেক প্রশ্ন আসে৷ পুলিশ কিসের ভিত্তিতে এ কথা বলেছে? এটা কি কোনো পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে বলা? নাকি পুলিশের নিছক ধারণা?

এ সব প্রশ্নের উত্তর পুলিশ সদর দপ্তরের বিবৃতিতে নেই৷ তবে বিবৃতিতে দায় এড়ানোর প্রবণতা প্রবল৷ তাদের বিবৃতিতে উল্লেখ আছে, প্রেমের টানে কেউ পালিয়ে গেলেও নাকি তারা অপহরণের অভিযোগ গ্রহণ করে৷ অর্থাৎ পরে মামলাও হয় অপহরণের৷ প্রাপ্ত বয়স্ক দু'জন মানুষ ভালোবাসার টানে ঘর ছাড়লে সেটা অপহরণ কিভাবে হয় আমার বোধগম্য নয়৷ আইনের রক্ষকদের এ রকম মন্তব্য মানুষকে আরো অসহায় করে তোলে৷

বাংলাদেশে ব্লগার হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রতিবেদন করতে দু'মাস আগে একটি সাংবাদিক দলের সঙ্গে আমি ঢাকা গিয়েছিলাম৷ মাত্র চারমাসের ব্যবধানে তিনজন নাস্তিক ব্লগারকে হত্যা করা হয়েছে৷ সবাইকে হত্যা করা হয়েছে প্রকাশ্যে৷ এর মধ্যে ২৬ ফেব্রুয়ারি ব্লগার অভিজিৎ রায়কে খুন করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে, যেখানে তখন পুলিশের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল৷

নিহত ব্লগার অভিজিৎ রায়ের স্ত্রী বন্যা আহমেদের সঙ্গে কথা বলে এবং অন্য কয়েকজন ব্লগারদের সঙ্গে আলাপ করার পর, একটা বিষয় পরিষ্কার বুঝতে পেরেছিলাম যে, পুলিশে তাঁদের কারো ভরসা নেই৷ বরং পুলিশ পরোক্ষভাবে ব্লগারদের হত্যাকারীদের সহায়তা করছে বলেও অভিযোগ করেছেন কোনো কোনো ব্লগার৷ আমরা তাই জানতে চেয়েছিলাম পুলিশের বক্তব্য৷

ঢাকা সফর শেষের আগের রাতে তাই যেতে হয়েছে ঢাকার মিন্টু রোডে গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে৷ ছোট্ট একটি প্রকোষ্ঠে একগাদা মানুষ আটকে রাখা হয়েছে৷ তাঁরা প্রায় সবাই কাঁদছিল৷ এরকম এক প্রকোষ্ঠ পরিয়ে যেতে হয়েছিল গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার কৃষ্ণপদ রায়ের রুমে৷ তিনি আগে সাংবাদিক ছিলেন, একটি ইংরেজি পত্রিকায় চাকুরি করতেন৷

রায়ের বক্তব্য আমরা রেকর্ড করেছি দীর্ঘসময়৷ তিনি ঘুরেফিরে শুধু দায় এড়ানোর চেষ্টা করেছেন৷ অভিজিৎ রায়কে যখন কুপিয়ে হত্যা করা হয়, তখন সেখানকার খুব কাছেই পুলিশ ছিল৷ কিন্তু তারা রায়কে রক্ষায় এগিয়ে আসেনি৷ এটা কেন? এই প্রশ্নের জবাবে এক পর্যায়ে পুলিশের উপ-কমিশনার জানান, ঘটনা খুব দ্রুত ঘটে যাওয়ায় পুলিশ তাদের কর্তব্য স্থির করতে পারেনি৷ তিনি বরং দায় চাপানোর চেষ্টা করেছেন সেই সব ব্লগারদের প্রতি, যাঁরা ধর্মের সমালোচনা করে লেখালিখে করেন৷ ‘রোমে থাকলে রোমানদের মতো হতে হয়' – এ কথাও তিনি বলেছেন৷ সোজা বাংলায় তাঁর অর্থ আমি যা বুঝেছি তা হচ্ছে, বাংলাদেশে বসে ধর্মের সমালোচনা করা যাবে না৷ আর যদি কেউ সেটা করে তাহলে করতে হবে নিজ দায়িত্বে৷ পুলিশ তাঁকে রক্ষায় কিছু করবে না৷ এমনকি তাঁকে হত্যার হুমকি দেয়া হলেও৷

অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ডকে হালকা করার চেষ্টাও পুলিশের তরফ থেকে হচ্ছে এখন৷ কিছু দিন আগে ঢাকার একটি পত্রিকা গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে লিখেছে, বন্যা আহমেদ, যিনি নিজেও ঢাকায় হামলায় গুরুতর আহত হন, তিনি নাকি তাঁর কোনো এক বন্ধুকে তাঁদের ঢাকা সফরের কথা বলেছিলেন৷ আর সেখান থেকেই তথ্য পেয়েছে খুনিরা৷

বন্যার সঙ্গে আমি নিজে কথা বলেছি এ নিয়ে৷ তিনি পরিষ্কার জানিয়েছেন, তিনি কোনো বন্ধুকে কোন তথ্যই দেননি৷ ঢাকায় তাঁর কোনো বন্ধু নেইও৷ মুক্তমনা ব্লগের পক্ষ থেকে এই সংবাদের প্রতিবাদ জানানো হয়েছে৷

DW Bengali Arafatul Islam

আরাফাতুল ইসলাম, ডয়চে ভেলে

অবশ্য বাংলাদেশ পুলিশের এই প্রবণতা নতুন নয়৷ সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের পরও এরকম এক গুজব ছড়ানোর চেষ্টা হয়েছিল৷ রুনির কোনো এক ছেলেবন্ধু হয়ত কোনোভাবে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে – এমনটা প্রতিষ্ঠিত করা গেলে পুরো হত্যাকাণ্ডকে পরকীয়ার রূপ দেয়া যায়৷ পুলিশ রুনির এক কথিত বন্ধুকে গ্রেপ্তারও করে৷ তবে পরকীয়ার বিষয়টি সাজানো যায়নি গণমাধ্যমে বাধার কারণে৷

বলছি না, বাংলাদেশ পুলিশ ভালো কিছু করছে না৷ পুলিশের ভালো কাজের নজিরও আছে, তবে তা বিরল৷ আমার মনে হয়, পুলিশ রাজনৈতিক কারণে অনেক কিছু করতে পারে না৷ তারা ‘অফ দ্য রেকর্ড' যা বলতে পারে ‘অন দ্য রেকর্ড' তা পারে না৷ তবে তাদের সেসব ‘অফ দ্য রেকর্ড' বক্তব্য তাদের সক্ষমতার জানান দেয়৷ আফসোস আমরা সেগুলো ছাপতে পারি না৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়