1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

‘দাম্পত্য ধর্ষণ' – অনেক না বলা কথার একটি

ভালোবাসার বিয়ে নয়, সম্বন্ধ করে বিয়ে – ‘আধুনিক' ভারতবর্ষে আজও যেভাবে অধিকাংশ বিয়ে হয় আর কি! বিয়ের পর বাসর ঘরে লজ্জায় রাঙা হয়ে অপেক্ষা করছে কনেবউ৷ স্বপ্ন দেখছে কীভাবে শুরু হবে দু'জনের বন্ধুত্ব, নতুন পথচলা৷ কিন্তু...

স্বামী ঘরে ঢোকার পর মুহূর্তেই পালটে যায় তার জীবন৷ ভেঙে, গুঁড়িয়ে যায় সমস্ত স্বপ্ন, আশা-আকাঙ্ক্ষা৷ অবাক হচ্ছেন? ভাবছেন কী এমন ঘটলো বাসর ঘরে? না, তেমন কিছু নয়৷ খুব সাধারণ ব্যাপার৷ স্বামী এসে দু-একটা মিষ্টি কথা বলা তো দূরের কথা, একরকম ঝাঁপিয়ে পড়েছিল মেয়েটির শরীরে৷ যন্ত্রণায় চিৎকারও করতে পারেনি সে, মুখে গুঁজে দেয়া হয়েছিল চাদর...৷ বাহ্ রে, নিজের বউ বলে কথা৷ তার ওপর জোর-জবরদস্তি করার একচ্ছত্র অধিকার রয়েছে না স্বামীর? আর ‘বিয়ে' তো শুধু নারী-পুরুষের মধ্যকার সামাজিক ও ধর্মীয় চুক্তি নয়, এ তো স্বামীর ইচ্ছে মতো স্ত্রীকে ভোগ করার একটি বৈধ ‘লাইসেন্স'৷ তাই না?

আপনার উত্তর যাই হোক, ভারত তো বটেই, দক্ষিণ এশিয়ার বহু দেশে এটাই সত্য৷ আসলে স্বামী যদি স্ত্রীকে শারীরিক নিযার্তন করে আর ভুক্তভোগী স্ত্রী আইনের আশ্রয় নেয় – তাহলে ধীরে হলেও ব্যাপারটা আমরা মেনে নিতে শুরু করেছি৷ কিন্তু স্বামী স্ত্রীকে ধর্ষণ করছে – এটা মেনে নিতে আজও কোথাও যেন বাধে৷ ‘ম্যারিটাল রেপ' বা দাম্পত্য ধর্ষণ এখনও যে অপরিচিত না হলেও অনুচ্চারিত একটি শব্দ!

Deutsche Welle Süd-Ost-Asien Debarati Guha

দেবারতি গুহ, ডিডাব্লিউ-র বাংলা বিভাগের সম্পাদক

এর পেছনে অবশ্য রয়েছে আমাদের সমাজ ব্যবস্থা, সামাজিক অবকাঠামো, যেখানে স্ত্রীকে আজও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা হয় স্বামীর সম্পত্তি হিসেবে৷ ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৫ ধারায় ধর্ষণের যে সংজ্ঞা রয়েছে , তাতে স্বামীকে ধর্ষকের ভূমিকা থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে সযত্নে (স্ত্রীর বয়স যদি ১৫ বছরের নীচে না হয়)৷ অর্থাৎ স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক রাখা কোনো অপরাধ নয়৷ তাই স্বামীর হাতে প্রতিনিয়ত যৌন নিপীড়নের শিকার হলেও, তাকে ‘ধর্ষণ' বলা যাবে না৷ ভারতের ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর রিসার্চ অন উইমেন (আইসিআরডাব্লিউ) বা আন্তর্জাতিক নারী গবেষণা কেন্দ্রের সাম্প্রতিক সমীক্ষা অনুযায়ী, স্ত্রীকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে প্রতি পাঁচজনের একজন ভারতীয় পুরুষ৷ তাও আবার লজ্জিত হয়ে নয়, বেশ গর্ব করেই৷

জাতিসংঘের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১১ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত বিশ্বের মাত্র ৫২টি দেশ ‘ম্যারিটাল রেপ'-কে আইনের অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং শাস্তির বিধান রেখেছে৷

ইংল্যান্ডে অবশ্য ১৯৯২ সালেই স্ত্রীকে ধর্ষণের অপরাধ থেকে স্বামীকে অব্যাহতি দেয়ার আইনটিকে অবলুপ্ত করে ‘হাউস অফ লর্ডস'৷ এরপর ১৯৯৩ সালের জুলাই মাস থেকে যুক্তরাষ্ট্র সব রাজ্যে দাম্পত্য ধর্ষণকে বে-আইনি ঘোষণা করে৷ দাম্পত্য ধর্ষণকে অপরাধ হিসেবে মেনে নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও মেক্সিকোও৷ ওদিকে আফগানিস্তান, মালয়েশিয়া ও নেপালে দাম্পত্য ধর্ষণ বিরোধী আইন থাকলেও, ধর্ষক স্বামীর জন্য অতি সামান্য শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে৷ অথচ ভারত-বাংলাদেশে...?

এখানে নারীকে পারিবারিক চাপ অথবা অন্য উপায় না থাকার ফলে বছরের পর বছর বাস করতে হয় ‘স্বামী' নামের ধর্ষকের সঙ্গে৷ একবার নয়, হয়ত প্রতিদিন, প্রতি সপ্তাহে ধর্ষণ হয় তার৷ লোকলজ্জার ভয়ে ডাক্তারের কাছে যেতে পারে না সে৷ তাই বয়ে বেড়াতে হয় যৌন রোগ, ক্ষত বা মানসিক অসুখ৷ তাই কোনো নারীকে যদি প্রশ্ন করেন – আপনার স্বামী কি আপনাকে ধর্ষণ করছেন? – তাহলে বেশিরভাগ নারীই এক হয় চুপ হয়ে যাবে কিংবা পড়ে যাবে চিন্তায়৷ আর কেউ যদি সাহস করে সত্যটা বলেও ফেলে, তাহলে তার ভবিষ্যৎ কী? কে দেবে তাকে পুনর্বাসন, অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ? পরিবার? রাষ্ট্র? ধর্ম?

কেউ না৷ আর সে জন্যই ধর্ষক স্বামীরা আজও বুক ফুলিয়ে হাঁটে আর মেয়েরা পুতুল খেলতে খেলতে মুখ বন্ধ করে ‘ধর্ষিতা' হন!

নির্বাচিত প্রতিবেদন