দামি ঘড়ি জোড়া দেয়ার আনন্দই আলাদা | অন্বেষণ | DW | 07.12.2013
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

দামি ঘড়ি জোড়া দেয়ার আনন্দই আলাদা

সুইজারল্যান্ডে তৈরি ঘড়ির শখ কার না নেই৷ কিন্তু তার অনেক দাম! সীমান্তের কাছেই জার্মানির এক ঘড়ি প্রস্তুতকারক ঘড়ি তৈরির ‘ক্র্যাশ কোর্স’ আয়োজন করছে৷ প্রশিক্ষণ শেষে নিজের তৈরি ঘড়ি নিজের কাছেই থাকে৷

জার্মানির ব্ল্যাক ফরেস্ট-এর দোরগোড়ায় কার্লসরুয়ে শহর৷ সেখানেই ‘শয়েবলে অ্যান্ড সান্স'-এর দোকান৷ যাদের ঘড়ি তৈরির স্বপ্ন রয়েছে, তারা বছর আটেক ধরে এখানে সেই প্রশিক্ষণের সুযোগ পাচ্ছেন৷ সাধারণত ৩ বছর লাগে পেশাদারি প্রশিক্ষণ শেষ করতে৷ তবে এখানে ৬ ঘণ্টায় তা শেষ করতে হয়৷ সেমিনারের শিক্ষার্থী ডেইয়ান মিলেনকোভিচ বলেন, ‘‘হাতের কাজে আমি মোটেই তেমন পারদর্শী নই, এত সূক্ষ্ম কাজে তো নয়ই৷ এবার দেখি, আমার ‘প্রতিভা' কেমন!''

শখের বশে ঘড়ি তৈরির কাজ শুরু করার আগে তাত্ত্বিক দিকটা শিখতে হয়৷ ‘শয়েবলে অ্যান্ড সান্স' কোম্পানির ঘড়ি দিয়েই শুরু করতে হয়৷ ১৯২৪ সালে সংস্থাটি কাজ শুরু করেছিল৷ ২০০৯ সালে সেরা ঘড়ির তালিকায় তাদের স্থান ছিল ২১৷ সেমিনার শুরু হওয়ার আগে অংশগ্রহণকারীরা ঘড়ির একটি মডেল বেছে নিতে পারেন৷ পরে তার কলকবজা খুলে আলাদা করতে হবে৷ তবে খুব মনোযোগ দিয়ে কাজটা করতে হয়৷

Porzellanzifferblatt für die Senator Meissen Tourbillon Luxusuhr

ফাইল ফটো

কঠিন প্রশিক্ষণ

শুরুতে বিশেষজ্ঞ হিসেবে টিল লটারমান খুবই সাহায্য করেন৷ চেষ্টা করেন, এমন সূক্ষ্ম কাজ সম্পর্কে তাদের ভয় দূর করতে৷ বিশেষ করে ডায়াল নাড়াচাড়া করার সময় সতর্ক থাকতে হয়, না হলে আঁচড় পড়ে যেতে পারে৷ ডেইয়ান-কে এবার এই সুইস ঘড়ির ৪৮টি অংশ খুলে নিতে হবে৷ এর সবচেয়ে ছোট স্ক্রু বাকি ঘড়িগুলির সবচেয়ে বড় অংশ হতে পারে৷ অর্থাৎ আনাড়িদের জন্য এই ঘড়িই উপযুক্ত৷ বিশেষজ্ঞরা ঘড়িটি ১০ মিনিটেই খুলে ফেলতে পারেন, ডেইয়ান-এর লাগছে পাক্কা এক ঘণ্টা৷ তিনি বলেন, ‘‘এটাই যদি সবচেয়ে ছোট ও সবচেয়ে সহজ ঘড়ি হয়, তাহলে ক্রোনোগ্রাফ যে কী, তা আর জানার দরকার নেই৷ তাতে ক্যালেন্ডার ও আরও কত কীই যে থাকে, কে জানে! এই কটা অংশ স্ক্রু দিয়ে জোড়া দিতেই হিমশিম খাচ্ছি৷ কোথায় কী বসবে, এর মধ্যে সেটাও ভুলে গেছি৷''

এবার পরের ধাপ৷ জোড়া লাগাতে চাই এমন আঙুলের দস্তানা, যাতে সোনার জল বসানো পাতের উপর আঙুলের ছাপ না পড়ে৷ ডেইয়ান যেমনটা ভেবেছিলেন, জোড়া দেয়া সত্যি আরও জটিল কাজ৷ বিশেষজ্ঞ হিসেবে টিল লটারমান-কে বার বার সাহায্য করতে হচ্ছে৷ স্ক্রু লাগানোর কাজও যেন আলাদা একটা চ্যালেঞ্জ৷

বিভ্রাটের মধ্যেই আনন্দ

সেমিনারের সময় প্রায়ই কোনো যন্ত্রাংশ মেঝেতে পড়ে যায়৷ ছোট একটা স্ক্রু হাত থেকে পড়ে গেলে খালি চোখে তার হদিশ পাওয়া কঠিন৷ ঘড়ি প্রস্তুতকারক টিল লটারমান বলেন, ‘‘সেমিনার এমন কারণেও বেশ জমে ওঠে৷ না হলে তো সবই গতানুগতিক হতো৷ তাছাড়া আমার কাছে এমন স্ক্রু খুব বেশি নেই৷ অতএব খোঁজ চালিয়ে যেতেই হবে৷ ঠিকই পাওয়া যাবে৷''

অংশগ্রহণকারীদের জন্য অবশ্য খোঁজ চালানো মোটেই আরামের কাজ নয়৷ দেখতে দেখতেই ৯০ মিনিটের সময় ফুরিয়ে যায়৷ ডেইয়ান তাঁর লক্ষ্যে পৌঁছে গেছেন৷ সেমিনারের ফি হিসেবে ৯৮০ ইউরো গুনতে হয়েছে তাঁকে৷ অবশ্য তাতে ঘড়ির দামও ধরা আছে৷

এই ঘড়ি আবার সত্যি চলছে কিনা, তা এখন দেখতে হবে৷ কাজ সফল কি না, বিশেষ এক পরিমাপ যন্ত্র তা জানিয়ে দেয়৷ একে ঘড়ির ইসিজি বলা চলে৷ তাতে দেখা যায়, ঘড়ি দিনে কত সেকেন্ড ফাস্ট বা স্লো হয়ে যায়৷ টিল লটারমান ঘড়িটি পরীক্ষা করে দেখছেন৷ ডেইয়ান কি পরীক্ষা পাস করেছেন? ডেইয়ান বলেন, যতটা প্রাণ বসিয়েছি, ঘড়িও তেমনই চলছে৷ টিল বলেন, ঘড়ি আগের মতোই চলছে৷ নিজের কাজে তাঁর খুশি হওয়া উচিত৷ ডেইয়ান খুশি মনে নিজের অ্যাসেম্বল করা ঘড়ি নিয়ে বাসায় চললেন৷ সঙ্গে রইলো প্রয়োজনে নিজেই সেটি সারানোর অভিজ্ঞতা৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক