1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

দামি ঘড়ি জোড়া দেয়ার আনন্দই আলাদা

সুইজারল্যান্ডে তৈরি ঘড়ির শখ কার না নেই৷ কিন্তু তার অনেক দাম! সীমান্তের কাছেই জার্মানির এক ঘড়ি প্রস্তুতকারক ঘড়ি তৈরির ‘ক্র্যাশ কোর্স’ আয়োজন করছে৷ প্রশিক্ষণ শেষে নিজের তৈরি ঘড়ি নিজের কাছেই থাকে৷

জার্মানির ব্ল্যাক ফরেস্ট-এর দোরগোড়ায় কার্লসরুয়ে শহর৷ সেখানেই ‘শয়েবলে অ্যান্ড সান্স'-এর দোকান৷ যাদের ঘড়ি তৈরির স্বপ্ন রয়েছে, তারা বছর আটেক ধরে এখানে সেই প্রশিক্ষণের সুযোগ পাচ্ছেন৷ সাধারণত ৩ বছর লাগে পেশাদারি প্রশিক্ষণ শেষ করতে৷ তবে এখানে ৬ ঘণ্টায় তা শেষ করতে হয়৷ সেমিনারের শিক্ষার্থী ডেইয়ান মিলেনকোভিচ বলেন, ‘‘হাতের কাজে আমি মোটেই তেমন পারদর্শী নই, এত সূক্ষ্ম কাজে তো নয়ই৷ এবার দেখি, আমার ‘প্রতিভা' কেমন!''

শখের বশে ঘড়ি তৈরির কাজ শুরু করার আগে তাত্ত্বিক দিকটা শিখতে হয়৷ ‘শয়েবলে অ্যান্ড সান্স' কোম্পানির ঘড়ি দিয়েই শুরু করতে হয়৷ ১৯২৪ সালে সংস্থাটি কাজ শুরু করেছিল৷ ২০০৯ সালে সেরা ঘড়ির তালিকায় তাদের স্থান ছিল ২১৷ সেমিনার শুরু হওয়ার আগে অংশগ্রহণকারীরা ঘড়ির একটি মডেল বেছে নিতে পারেন৷ পরে তার কলকবজা খুলে আলাদা করতে হবে৷ তবে খুব মনোযোগ দিয়ে কাজটা করতে হয়৷

Porzellanzifferblatt für die Senator Meissen Tourbillon Luxusuhr

ফাইল ফটো

কঠিন প্রশিক্ষণ

শুরুতে বিশেষজ্ঞ হিসেবে টিল লটারমান খুবই সাহায্য করেন৷ চেষ্টা করেন, এমন সূক্ষ্ম কাজ সম্পর্কে তাদের ভয় দূর করতে৷ বিশেষ করে ডায়াল নাড়াচাড়া করার সময় সতর্ক থাকতে হয়, না হলে আঁচড় পড়ে যেতে পারে৷ ডেইয়ান-কে এবার এই সুইস ঘড়ির ৪৮টি অংশ খুলে নিতে হবে৷ এর সবচেয়ে ছোট স্ক্রু বাকি ঘড়িগুলির সবচেয়ে বড় অংশ হতে পারে৷ অর্থাৎ আনাড়িদের জন্য এই ঘড়িই উপযুক্ত৷ বিশেষজ্ঞরা ঘড়িটি ১০ মিনিটেই খুলে ফেলতে পারেন, ডেইয়ান-এর লাগছে পাক্কা এক ঘণ্টা৷ তিনি বলেন, ‘‘এটাই যদি সবচেয়ে ছোট ও সবচেয়ে সহজ ঘড়ি হয়, তাহলে ক্রোনোগ্রাফ যে কী, তা আর জানার দরকার নেই৷ তাতে ক্যালেন্ডার ও আরও কত কীই যে থাকে, কে জানে! এই কটা অংশ স্ক্রু দিয়ে জোড়া দিতেই হিমশিম খাচ্ছি৷ কোথায় কী বসবে, এর মধ্যে সেটাও ভুলে গেছি৷''

এবার পরের ধাপ৷ জোড়া লাগাতে চাই এমন আঙুলের দস্তানা, যাতে সোনার জল বসানো পাতের উপর আঙুলের ছাপ না পড়ে৷ ডেইয়ান যেমনটা ভেবেছিলেন, জোড়া দেয়া সত্যি আরও জটিল কাজ৷ বিশেষজ্ঞ হিসেবে টিল লটারমান-কে বার বার সাহায্য করতে হচ্ছে৷ স্ক্রু লাগানোর কাজও যেন আলাদা একটা চ্যালেঞ্জ৷

বিভ্রাটের মধ্যেই আনন্দ

সেমিনারের সময় প্রায়ই কোনো যন্ত্রাংশ মেঝেতে পড়ে যায়৷ ছোট একটা স্ক্রু হাত থেকে পড়ে গেলে খালি চোখে তার হদিশ পাওয়া কঠিন৷ ঘড়ি প্রস্তুতকারক টিল লটারমান বলেন, ‘‘সেমিনার এমন কারণেও বেশ জমে ওঠে৷ না হলে তো সবই গতানুগতিক হতো৷ তাছাড়া আমার কাছে এমন স্ক্রু খুব বেশি নেই৷ অতএব খোঁজ চালিয়ে যেতেই হবে৷ ঠিকই পাওয়া যাবে৷''

অংশগ্রহণকারীদের জন্য অবশ্য খোঁজ চালানো মোটেই আরামের কাজ নয়৷ দেখতে দেখতেই ৯০ মিনিটের সময় ফুরিয়ে যায়৷ ডেইয়ান তাঁর লক্ষ্যে পৌঁছে গেছেন৷ সেমিনারের ফি হিসেবে ৯৮০ ইউরো গুনতে হয়েছে তাঁকে৷ অবশ্য তাতে ঘড়ির দামও ধরা আছে৷

এই ঘড়ি আবার সত্যি চলছে কিনা, তা এখন দেখতে হবে৷ কাজ সফল কি না, বিশেষ এক পরিমাপ যন্ত্র তা জানিয়ে দেয়৷ একে ঘড়ির ইসিজি বলা চলে৷ তাতে দেখা যায়, ঘড়ি দিনে কত সেকেন্ড ফাস্ট বা স্লো হয়ে যায়৷ টিল লটারমান ঘড়িটি পরীক্ষা করে দেখছেন৷ ডেইয়ান কি পরীক্ষা পাস করেছেন? ডেইয়ান বলেন, যতটা প্রাণ বসিয়েছি, ঘড়িও তেমনই চলছে৷ টিল বলেন, ঘড়ি আগের মতোই চলছে৷ নিজের কাজে তাঁর খুশি হওয়া উচিত৷ ডেইয়ান খুশি মনে নিজের অ্যাসেম্বল করা ঘড়ি নিয়ে বাসায় চললেন৷ সঙ্গে রইলো প্রয়োজনে নিজেই সেটি সারানোর অভিজ্ঞতা৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক