1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

দশ বছর ধরে অনশনে শর্মিলা

ভারতের মনিপুরে সশস্ত্র বাহিনীর বিশেষ ক্ষমতা আইন বাতিল করার দাবিতে ২০০০ সাল থেকে অনশন করছেন ভারতীয় মানবাধিকার সংগ্রামী নারী ইরম শর্মিলা৷ ‘আয়রন লেডি’ নামে খ্যাত এই নারীর অনশন ১০ বছরে পা রেখেছে৷

default

সেনাবাহিনীর বিশেষ ক্ষমতা আইন তুলে নেওয়ার দাবিতে অনশন (ফাইল ফটো)

উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মনিপুরে তাঁর বাড়ির কাছে একটি বাস স্টপে একেবারে তাঁর চোখের সামনে জঙ্গি সন্দেহে সৈন্যরা দশ জন বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করার পরে, ২০০০ সালের ৪ নভেম্বর অনশন শুরু করেন শর্মিলা৷ মনিপুরের মেয়ে শর্মিলার দাবি একটাই, উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় ঐ রাজ্য থেকে সেনাবাহিনীর বিশেষ ক্ষমতা আইন তুলে নিতে হবে৷

সশস্ত্র বাহিনীর বিশেষ ক্ষমতা আইন বা এএফএসপিএ প্রত্যাহারের দাবিতে আরো যারা বিক্ষোভ করে আসছেন, তারা সবাই ইরমের সমর্থক৷ তারাই তাঁর নাম দিয়েছেন ‘আয়রন লেডি'৷ অনশন শুরু করার পরপরই তাঁকে আত্মহত্যার চেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পাঠিয়ে দেয়া হয় কারাগারের হাসপাতালে৷ সেখানে তাঁকে নাকের ভিতর নল দিয়ে খাওয়ানো হয়েছে জোর করে৷ এইভাবেই তাঁকে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে৷

মাঝে মাঝেই স্থানীয় আদালতের নির্দেশ মেনে তাঁকে মুক্তি দেয়া হয়েছে৷ জেল থেকে বেরিয়েই তিনি আবার অনশন শুরু করেছেন এবং আবার তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে৷ বছরের পর বছর ধরে খাওয়া দাওয়া করছেন না শর্মিলা৷ তবে শরীর শুকিয়ে গেলেও, মনোবল একটুও কমেনি৷ ইরম শর্মিলার ভাই, ইরম সিংহজিৎ বৃহস্পতিবার বলেন যে তাঁর বোন অনশন চালিয়ে যাবার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন৷ সেই থেকে এই পর্যন্ত শর্মিলার শরীর হয়ে উঠেছে যেন এক যুদ্ধক্ষেত্র৷ জামিন প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি, প্রত্যাখ্যান করেছেন অনশন ভেঙে ফেলার অনুরোধ৷

স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যালার্ট'এর সঙ্গে যুক্ত বাবলু লইতংবাম বলেন, ‘‘সরকারের কঠোর ঐ আইন রদ না হওয়া পর্যন্ত তিনি আমরণ অনশন করে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন৷'' তিনি আরও বলেন, ‘‘জঙ্গিবাদ বাড়ছে৷ যার অর্থ এই বিশেষ ক্ষমতা আইন সাঙ্ঘাতিকভাবে ব্যর্থ হয়েছে৷''

ইরম চারু শর্মিলার বয়স এখন ৩৮ বছর৷ পাঁচ বছর ধরে শর্মিলার মা তাঁর মেয়ের সঙ্গে দেখা করেন নি৷ তিনি বলেন, ‘‘আমি দুর্বল চিত্তের মানুষ, ওকে দেখলেই কেঁদে ফেলবো৷ আমি ওর দৃঢ়তায় কোনরকম ফাটল ধরাতে চাই না৷ তাই আমি ঠিক করেছি ওর লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত ওর সঙ্গে দেখা করবো না৷''

প্রতিবেদন: ফাহমিদা সুলতানা

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক

সংশ্লিষ্ট বিষয়