1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

থ্রিডি প্রিন্টারে ‘ছাপা' হচ্ছে নকল অঙ্গ

ত্রিমাত্রিক প্রিন্টারের কল্যাণে কত কীই না হচ্ছে! এবার কৃত্রিম অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রেও বিপ্লব আনছে এই প্রযুক্তি৷ লাভবান হচ্ছেন রোগীরা৷

ভাঙা হাঁটু, কোমরে গেঁটেবাত৷ ক্রমেই আরো বেশি রোগীর প্রস্থেসিস বা কৃত্রিম অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের প্রয়োজন হয়ে পড়ছে, যাতে তারা ব্যথা ছাড়াই চলাফেরা করতে পারেন৷ এক্স-রে করলে হিপ-এর ক্ষয় বোঝা যায়৷ টোমাস এঙেলস-এর কোমরের দশা এমন, যে সাধারণ কৃত্রিম অঙ্গে আর কাজ হবে না৷

ডিটার ভিয়ারৎস বন শহরের ইউনিভার্সিটি ক্লিনিকের ডাক্তার৷ জয়েন্ট বা অস্থির ক্ষয়ের জটিল প্রক্রিয়া নিয়ে তাঁর কাজ৷ তিনি টোমাস-কে বোঝান, তার ক্ষতিগ্রস্ত হিপ নিয়ে কী করা যেতে পারে৷ তিনি বলেন, ‘‘বুঝতেই পারছেন যে, এটা এখানে ঠিকমতো বসবে না৷ কাজেই আপনার হাড়ের বিশেষ অবস্থা অনুযায়ী আমাদের একটা কৃত্রিম প্রত্যঙ্গ তৈরি করতে হবে৷''

Künstliches Hüftgelenk

কৃত্রিম অঙ্গের মাপ নিয়ে প্রায়ই সমস্যা দেখা যায়

প্রথমে টোমাসের জন্য বিশেষ কৃত্রিম অস্থির একটা থ্রিডি মডেল তৈরি করা হয়েছে৷ সেটি প্রায় নিখুঁত হতে হবে, যাতে তা অতি সহজে হিপ-এর হাড়ে বসানো যায়৷ নড়লে-চড়লে, ঘষাঘষি হলে চলবে না৷ তারপর লেজার রশ্মির মাধ্যমে সত্যিকারের ‘ইমপ্ল্যান্ট'-টির ত্রিমাত্রিক ‘প্রিন্ট' নিতে হবে৷ ক্রিস্টফ ওভার আখেনের ফ্রাউনহোফার লেজার প্রযুক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠানে এই পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন৷ তিনি বলেন, ‘‘এটা তৈরির জন্য আমরা টাইটেনিয়াম পাউডার ব্যবহার করি৷ টাইটেনিয়াম শরীরের পক্ষে সবচেয়ে সহনীয়৷ ইমপ্ল্যান্ট শরীরে কয়েক বছর ধরে বসানো থাকলেও তা কোনো অ্যালার্জি বা বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে না৷''

প্রিন্টিং শুরু করার আগে রোগীর মাপজোক আরো একবার পরীক্ষা করে, প্রয়োজনে রদবদল করা হয়৷ তারপর কাজ শুরু হয়৷ ক্রিস্টফ ওভার বলেন, ‘‘প্রক্রিয়াটা চলে এমন এক বদ্ধ চেম্বারে, যা আসলে একটি পাইপ, যার মেঝেটা নীচের দিকে নড়ে৷ এই মেঝের উপর আমি টাইটেনিয়াম পাউডারের একটা চিকন স্তর ছড়িয়ে দেই৷ তারপর লেজার রশ্মি সেই সব অংশ গলিয়ে দেয়, যা পরে ইমপ্ল্যান্টের অংশ হবে৷ এরপর আমি মেঝেটা আরও এক স্তর নামিয়ে দেই৷ তখন ঠিক একই প্রক্রিয়া ঘটে৷ এভাবে ধীরে ধীরে ইমপ্ল্যান্ট-টি তার চূড়ান্ত রূপ পায়৷''

এইভাবে বেশ কয়েক হাজার স্তরে ইমপ্ল্যান্ট-টি ‘প্রিন্ট' করা হয়৷ এতে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগে৷ সাবধানে টাইটেনিয়াম পাউডার থেকে সেটা বার করে নিতে হয়৷ ওভার বলেন, ‘‘এটা হল সেই চূড়ান্ত ইমপ্ল্যান্ট৷ যেখানে যেখানে এটা হাড়ের সঙ্গে ঠেকবে, সেখানে এমন ডিজাইন করা আছে যে, শরীরের হাড় খালি অংশে এঁটে বসতে পারবে৷ যার ফলে ইমপ্ল্যান্ট-টা আরো স্বাভাবিকভাবে শরীরের অঙ্গ হয়ে উঠবে আর দীর্ঘস্থায়ী হবে৷''

প্রতিটি লেজার ইমপ্ল্যান্ট একেবারে অভিনব৷ বাঁধা মাপের প্রস্থেসিস যাদের কাজে লাগে না, তাদের জন্য এগুলি প্রয়োজনীয় মাপ অনুযায়ী তৈরি করা হয়৷ ওভার বলেন, ‘‘মাপ অনুযায়ী ইমপ্ল্যান্ট তৈরি করার ফলে আমরা সেই সব রোগীদের সাহায্য করতে পারছি, যাদের এতকাল কোনো আশা ছিল না, যারা হুইলচেয়ারে বসে দিন কাটাতেন৷ আগে তাদের সাহায্য করা যেত না৷ নতুন এই পদ্ধতির ফলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে রোগীরা আবার হাঁটাচলা করতে পারেন, তাঁদের জীবনযাত্রার মান একেবারে বদলে যায়৷''

টোমাস এঙেলস এখনও ক্রাচ নিয়ে হাঁটছেন৷ তবে অপারেশনের পর তাঁর আর ক্রাচের প্রয়োজন পড়বে না বলেই মনে হয়৷

এসি / এসবি

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়