1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

থানচির মানুষ বলছে, ‘খাবার না পেলে আমরা মরে যাব'

বান্দরবানের আদিবাসী অধ্যুষিত থানচি উপজেলায় চলছে চরম খাদ্য সংকট৷ বনের আলু আর লতাপাতা খেয়ে বেঁচে আছে সেখানকার মানুষ৷ তাঁদের কথা, ‘‘সরকার বা কোনো সংস্থা যদি দ্রুত খাদ্য সরবরাহ না করে তাহলে না খেয়ে মরে যাব৷''

বাংলাদেশের পার্বত্য জেলা বান্দরবানের থানচি উপজেলায় এখন প্রায় দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি৷ উপজেলার চেয়ারম্যান কেওভাচিং মারমা টেলিফোনে তাই ডয়চে ভেলেকে বলেছেন, ‘‘পরিস্থিতিকে এখনো দুর্ভিক্ষ বলতে চাইনা, তবে পরিস্থিতি সেদিকেই যাচ্ছে৷''

থানচি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা থেকে প্রায় ৩৮০ কিলোমিটার দক্ষিণে৷ওই জনপদের অধিবাসীরা পাহাড়ে জুম চাষের ওপর নির্ভরশীল৷ খারাপ আবহাওয়া এবং অতিবর্ষণের কারণে এবার জুমচাষীরা মার খোয়েছেন৷ তাই ঘরে ফসল ওঠেনি৷ আগের বছরের জমানো খাবারও শেষ৷ আর এ কারণেই থানচির দুর্গম রেমাক্রি, তিন্দু, ছোট মোদক, বড় মোদক ও সাঙ্গু সংরক্ষিত বনাঞ্চলের আড়াই হাজার পরিবার এখন চরম খাদ্যসংকটে৷ এ সব এলাকায় ত্রিপুরা, ম্রো ও মারমা সমপ্রদায়ের বাস৷

অডিও শুনুন 03:41

‘৭-৮ মাস এই পরিবারগুলোকে খাদ্য সহায়তা দিতে হবে’

বান্দরবানের জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক অবশ্য জানিয়েছেন পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছেন৷ তিনি বলেন, ‘‘আমরা আগে ওইসব এলাকায় ১৬ মেট্রিক টন খাদ্যশষ্য পাঠিয়েছি৷ বৃহস্পতিবার আরো ৩০ মেট্রিক টন খাদ্য পাঠানো হয়েছে৷ কিন্তু দুর্গম এলাকা হওয়ার কারণে খাদ্য পৌঁছাতে সময় লাগে৷'' তিনি দাবি করেন, ‘‘খাদ্য মজুদ আছে৷ আশা করি, কোনো সমস্যা হবে না৷''

তবে থানচি উপজেলা চেয়ারম্যান কেওভাচিং মারমা মনে করেন উদ্যোগটা অনেক আগেই নেয়া যেত৷ তাঁর ভাষায়, ‘‘আমি আগে থেকেই প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়েছি৷ বারবার আগাম ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বলেছি৷ কিন্তু তা নেয়া হয়নি৷ এখন কিছু ত্রাণের ব্যবস্থা হলেও তা পর্যাপ্ত নয়৷ কারো ঘরেই খাবার নেই৷ বুনো লতাপাতা আর বুনো আলু খেয়ে তারা বেঁচে আছেন৷ সবচেয়ে কষ্টে আছে শিশুরা৷''

জেলা প্রশাসকের মতো উপজেলা চেয়ারম্যানও মনে করেন থানচিতে এখনো ঠিক দুর্ভিক্ষ শুরু হয়েছে এমনটি বলা যাবে না, তিনি জানান, ‘‘এখনো দুর্ভিক্ষ বলা যাবে না, তবে পরিস্থিতি সেদিকেই যাচ্ছে৷ দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে তাদের কাছে ঠিক সময়ে খবারও পৌঁছানো যাচ্ছে না৷ এ পর্যন্ত ১৬ টন চাল বিতরণ করা হয়েছে, যা একদিনের অভাবই পুরণ করে না৷''

রম্নইমন ম্রো নামে একজন স্থানীয় অধিবাসী সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘‘আমরা খাবার না পেলে আর বাঁচতে পারবোনা, মরে যাবো৷ বনের আলু আর লতাপাতাও শেষ হয়ে যাচ্ছে৷ আর এসব খেয়ে অনেকেই পেটের পীড়াসহ নানা রোগে আক্রান্ত হয়েছেন৷ দিনের পর দিন না খেতে পেয়ে অনেক নারী পুরুষ এবং শিশু এখন কঙ্কালসার৷''

আদুউ ম্রো নামে আরেকজন সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘‘প্রায় দু'সপ্তাহ ধরে এই খাদ্য সংকট তৈরি হয়েছে৷ আমরা বারবার আবেদন জানিয়েও কোনো ফল পাইনি৷ অনেক মানুষ অনাহারে দিন কাটাচ্ছে৷'

উপজেলা চেয়ারম্যান কেওভাচিং মারমা বলেছেন, ‘‘আগামী জুম ফসল ঘরে ওঠার আগ পর্যন্ত ৭-৮ মাস এই পরিবারগুলোকে খাদ্য সহায়তা দিতে হবে, কারণ, জুম ছাড়া তাদের খাবার সংগ্রহের আর কোনো উপায় নেই৷ তাই তাদের জন্য প্যাকেজের আওতায় সরকারের পক্ষ থেকে এই সময়ে নিয়মিত খাদ্য সরবরাহের ব্যবস্থা করা জরুরি৷''

প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালে বান্দরবানের থানচি, রুমা, রাঙামাটির সাজেক, বিলাইছড়ি, জুরাছড়ি উপজেলায় একই কারণে খাদ্য সংকট দেখা দেয়৷ তখন মে থেকে অক্টোবর – এই ছয় মাসের জন্য সাড়ে ছয় হাজার পরিবারকে একটি প্যাকেজের আওতায় খাদ্য সাহায্য দেয়া হয়৷ প্রতি মাসে পরিবার প্রতি ৫০ কেজি চাল, নগদ ১২শ' টাকা, ৩ লিটার ভোজ্য তেল, গর্ভবতী মায়েদের জন্য ৬ কেজি প্রোটিন সমৃদ্ধ খাদ্য এবং জুমের বীজ কেনার জন্য পরিবার প্রতি এককালীন দুই হাজার টাকা করে দেয়া হয়৷

তখন সরকারের পাশাপশি বিভিন্ন এনজিও এগিয়ে এলেও এবার এনজিওদের কোনো সাড়া নেই বলে দুর্গতরা জানান৷ আর দুর্গম এলকায় ত্রাণ তত্‍পরতায় গতি আনতে হেলিকপ্টার ব্যবহারের সিদ্ধান্তের কথা বলা হলেও তা এখনো শুরু হয়নি৷

সরকারের পক্ষ থেকে আরো আগে খাদ্য সরবরাহের উদ্যোগ নিলে কি এই সংকট থেকে থানচির মানুষদের বাঁচানো যেত? লিখুন নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়