1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

থাইল্যান্ডে সরকার পতনের ‘চূড়ান্ত লড়াই’

আদালতের রায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর আরো বড় সংকটের মুখে পড়েছেন ইংলাক সিনাওয়াত্রা৷ তাঁর সরকারের পতন ত্বরান্বিত করতে ব্যাংককে তুমুল বিক্ষোভ শুরু করেছে বিরোধীরা৷

পুলিশের সঙ্গে থাইল্যান্ডে সরকার পতনের ‘চূড়ান্ত লড়াই’ এ পর্যন্ত আহত হয়েছেন ৬ জন৷ বুধবার থাইল্যান্ডের সাংবিধানিক আদালত জানায়, ২০১১ সালে এক ঊর্ধ্বতন নিরাপত্তা কর্মকর্তার বদলিতে ইংলাকের ক্ষমতার অপব্যবহার করার প্রমাণ পাওয়া গেছে৷ নয় সদস্যের আদালত ইংলাকের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা খুঁজে পাওয়ায় তাঁকে সর্বসম্মতিক্রমে দোষী সাব্যস্ত করে৷ আদালতের এই রায়ের ফলে পুয়েয়া থাই পার্টির বর্তমান প্রধান ইংলাক সিনাওয়াত্রা আইনগতভাবে ক্ষমতায় থাকার অধিকার হারান৷

ইংলাকের বিরুদ্ধে এ রায় ঘোষণার দু'দিন পরই সরকার পতনের দাবিতে আবার জোর বিক্ষোভ শুরু করেছে বিরোধীরা৷ বিক্ষোভকারীরা কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেল কার্যালয় ঘিরে সরকারবিরোধী স্লোগান দিতে থাকে৷ সরকার সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষের আশঙ্কা এড়াতে পুলিশ অভিযান চালালে শুরু হয় সংঘর্ষ৷

এক বৌদ্ধ ভিক্ষুর নেতৃত্বে ব্যাংককের এক পুলিশ স্টেশনেও ঢুকে পড়ার চেষ্টা করে বিক্ষোভকারীরা৷ পুলিশ জলকামান ব্যবহার করে তাদের হঠিয়ে দেয়৷ তবে বিক্ষোভ এখনো থামেনি৷ পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে এ পর্যন্ত ছয়জন আহত হয়েছেন বলে বার্তা সংস্থাগুলো জানিয়েছে৷ শনিবার ব্যাংককে পুয়েয়া থাই পার্টিরও সমাবেশ হওয়ার কথা৷ তখন ইংলাক সমর্থকদের সঙ্গে বিরোধীদের বড় রকমের সংঘর্ষ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে৷

থাইল্যান্ডে প্রায় ছয় মাস ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতা চলছে৷ দুর্নীতি এবং দেশান্তরী সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার ‘পুতুল সরকার' হয়ে দেশ পরিচালনার অভিযোগে ইংলাকের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনে নামে বিরোধীরা৷ আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশ এবং ক্ষমতাসীন দলের সমর্থকদের সংঘর্ষে এ পর্যন্ত অন্তত ২৫ জন মারা গেছেন৷

বিরোধীদের আরেকটি দাবি ছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে নতুন নির্বাচন৷ কিন্তু ইংলাক সেই দাবি অগ্রাহ্য করে নির্বাচন দেন৷ সেই নির্বাচনে তাঁর দলই জয়ী হয়৷ কিন্তু থাইল্যান্ডের আদালত বিরোধীদের আন্দোলনের কারণে বিঘ্নিত এ নির্বাচনের ফলাফলকে অকার্যকর ঘোষণা করে৷ নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তারপর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও গঠন করা হয়৷ বিরোধীরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধানের পদে ইংলাককে মেনে না নেয়ায় তারপরও অচলাবস্থা কাটেনি৷

আদালতের রায়ে ইংলাক দোষী সাব্যস্ত ইংলাকের আগে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত থাইল্যান্ডের সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রী তাঁর বড় ভাই থাকসিন সিনাওয়াত্রা৷ ২০০৬ সালে দুর্নীতির অভিযোগে সরকারবিরোধী আন্দোলনের মুখে সেনা অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যূত হয়ে তিনি দেশ ছাড়েন৷ ২০১১ সালে দেশটির ২৮তম প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন ইংলাক সিনাওয়াত্রা৷ মাত্র তিন বছরের মধ্যে আদালতের রায়ে তিনিও ক্ষমতায় থাকার অধিকার হারালেন৷

এসিবি/জেডএইচ (এপি, এএফপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন