1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

থাইল্যান্ডে সমকামী আইন নিয়ে বিতর্ক

এশিয়ার বিভিন্ন দেশে যেখানে সমকামিতা অবৈধ, সেখানে থাইল্যান্ডে সমকামিতা বেশ গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে৷ কিছুদিন পরে হয়ত সমকামীদের মধ্যে বিয়ে সেখানে বৈধতাও পেতে পারে৷

১৯৫৬ সাল৷ সেসময় ব্রিটেন আর ইংল্যান্ডে সমকামিতা বিষয়টি নিয়ে আলোচনারও সুযোগ ছিল না, অথচ সেসময় থাইল্যান্ডে কিন্তু সমকামিতা অনেকটাই আলোচ্যবিষয়৷

গত ২০ বছরের মধ্যে এ বিষয়টিতে থাইল্যান্ডের মানুষের চিন্তাধারায় পরিবর্তন এসেছে৷ এমনকি সমকামিতার বিষয়টি থেকে সেনাবাহিনী নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর থেকে এটিকে মানসিক ব্যাধি হিসেবেও মনে করা হয় না৷

থাইল্যান্ডবাসীর জীবনধারণের অন্যতম অংশ হয়ে ওঠায় এটিকে বিকল্প জীবনধারণের অংশ হিসেবেও গ্রহণ করছেন অনেকে৷

অবশ্য এখনও থাইল্যান্ডের অনেক অধিবাসী এ বিষয়ে মনের দিক থেকে উদার নন এবং সমলিঙ্গ বিবাহ মেনে নেয়ার মতো মানসিকতা এখনও তাঁদের গড়ে উঠেনি৷

Symbolbild Homosexualität Lateinamerika

পঞ্চাশের দশকেও থাইল্যান্ডে সমকামিতা বিষয়টি আলোচিত ছিল

গত বছর থাইল্যান্ডের এমপি এবং এলজিবিটি (লেসবিয়ান, গে, বাইসেক্সুয়াল, ট্রান্সজেন্ডার) গ্রুপগুলো মিলে একটি খসড়া আইন তৈরি করেছে, যা পাস হলে এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে থাইল্যান্ডে সমকামী বিয়ে বৈধতা পাবে৷ তবে এটিকে আইনে পরিণত করতে পার্লামেন্টের ২০ এমপির সমর্থন লাগবে, অথবা ১০ হাজার জনগণের স্বাক্ষরসহ আবেদন জমা দিতে হবে৷

সংখ্লা প্রদেশের ডেমোক্র্যাট এমপি উইরাতানা কালায়াসিরি জানালেন, এরই মধ্যে চার হাজার স্বাক্ষর যোগাড় করেছেন৷ সংখ্লা এই আইন বিষয়ক কমিটির প্রধান৷ তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের যেসব অধিকার আছে, সমকামীদেরও তা পাওয়া উচিত এবং তিনি তাঁদের সমর্থন করেন৷

প্রজন্মের ব্যবধান

কালায়াসিরির বিশ্বাস, প্রজন্ম ভেদে এ বিষয়ে জনমতের ভিন্নতা রয়েছে৷ সাধারণত যাঁরা এই বিলের বিরোধী তাঁদের বয়স ৪৫ বা তার বেশি বলে জানান তিনি৷ অন্যদিকে বেশিরভাগ তরুণরাই এ বিলের পক্ষে৷ ডয়চে ভেলেকে তিনি জানান, এ জন্যই এটিকে সফল করতে জনসমর্থন প্রয়োজন৷

তবে সমস্যা হলো পার্লামেন্টের বেশিরভাগ এমপির বয়ই ৪৫ বছরের ঊর্ধ্বে এবং এ কারণেই তাঁরা এই বিলের একেবারেই বিরুদ্ধে৷ তবে তাঁর আশা আগামী এক বছরের মধ্যে বিলটি পাস হবে৷

সম্প্রতি সরকারি এক জরিপে দেখা গেছে, থাইল্যান্ডের জনগণের মাত্র ৪০ ভাগ সমকামী বিয়ে সমর্থন করে৷ এ কারণে বিলটি আদৌ পাস হবে কিনা – তা নিয়ে এলজিবিটি সম্প্রদায়ের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে৷

থাইল্যান্ডের রেইনবো স্কাই অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক দানাই লিংঝোনরাত জানালেন, তিনটি প্রস্তাব বিবেচনাধীন রয়েছে – প্রথমত এলজিবিটি সম্প্রদায়ের প্রত্যেকের জন্য একেবারের নতুন একটি সামাজিক অংশীদারিত্ব আইন এবং দ্বিতীয়ত প্রত্যেক যুগলের জন্য একটি নতুন অংশীদারিত্ব আইন এবং তৃতীয়ত সিভিল কোডের অধীনে বৈবাহিক আইন ও পারিবারিক বন্ধনের বিষয়টিতে সংশোধন আনা৷ তার সংস্থা দ্বিতীয় প্রস্তাবটিকে সমর্থন করে বলে জানালেন দানাই৷

সমতা কোথায়?

দানাই ডয়চে ভেলেকে বললেন, এই খসড়াটির ফলে বিভেদ ও দ্বন্দ্ব আরো বাড়বে৷ কেননা বর্তমান আইনে, ১৭ বছর বয়সে যে কেউ বিয়ে করতে পারেন৷ কিন্তু প্রস্তাবিত সামাজিক অংশীদারিত্ব আইনে সমকামী যুগলদের জন্য বয়সটা করা হয়েছে ২০৷ এমনকি বিলে লিঙ্গ পরিবর্তনকারী বা ট্রান্সজেন্ডারদের ম্যারেজ সার্টিফিকেটে জন্মকালীন লিঙ্গের উল্লেখ করতে বলা হয়েছে৷ তাঁর মতে, আদর্শ অংশীদারিত্ব আইন হবে সেটাই, যেখানে লিঙ্গ ভেদেও প্রত্যেক সঙ্গীর সমান অধিকার থাকবে এবং দত্তক বা বিবাহ বিচ্ছেদের ক্ষেত্রেও সমান অধিকার পাবে সবাই৷

যেসব দেশে সমকামী বিয়ে বৈধ, যেসব দেশের আইন বিশ্লেষণ করেই নতুন আইনের খসড়া প্রস্তাব তৈরি করেছেন বিলের সমর্থনকারী দলগুলো ৷

মানবাধিকার কর্মী মনে করছেন, থাইল্যান্ড গত সাত বছর ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে দিয়ে গেছে৷ ফলে এই আইন পার্লামেন্টে সব দলকে এক হতে সাহায্য করবে৷

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও এটিকে ইতিবাচক হিসেবে গ্রহণ করবে বলে আশা তাদের৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়