1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

থাইল্যান্ডে গণকবর নিয়ে এখনও নীরব বাংলাদেশ

থাইল্যান্ড-মালয়েশিয়া সীমান্তে চাকরি প্রার্থী অভিবাসীদের গণকবর আবিষ্কারে বিশ্বের সংবাদমাধ্যমে তোলপাড়, বাংলাদেশের প্রাবাসী কল্যাণ এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণলয় চুপচাপ৷ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতি দিয়েই দায়িত্ব সেরেছে৷

যাঁদের লাশ ঐ গণকবরে পাওয়া গেছে, তাঁদের মধ্যে অন্তত ১০ জন বাংলাদেশি৷ সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা যায়, এঁদের চাকরির লোভ দেখিয়ে অপরহরণ করে থাইল্যান্ডের গভীর জঙ্গলে নিয়ে যায় আদম ব্যবসায়ী এবং মানব পাচারকারীরা৷ তারপর তাঁদের জঙ্গলের ক্যাম্পে আটক করে পাচারকারীরা মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টা করে এবং ব্যর্থ হয়ে তাঁদের খাবার ও পানীয় বন্ধ করে দেয়৷ দীর্ঘ ন'মাস এই বন্দি জীবনে অনেকেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন৷ এমন কমপক্ষে পাঁচশ' গণকবরের কথা জানিয়েছে থাই কর্তৃপক্ষ৷

শুক্রবার এই গণকবর থেকে বাংলাদেশি যুবক আনুজারকে (২৮) জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে৷ তিনি এখন থাইল্যান্ডের দক্ষিণের শহর পেডাং বেসার-এর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন৷ এখনও পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়নি৷ ওদিকে তিনি দেশে ফিরতে চান, অথচ কীভাবে ফিরবেন তা জানেন না৷ আনুজারের বাড়ি বাংলাদেশের নরসিংদি এলাকায়৷ আনুজার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে জানায় যে, তাঁকে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত থেকে ন'মাস আগে মানব পাচারকারীরা অপহরণ করেছিল৷ এরপর মুক্তিপণ দাবি করে তারা৷ কিন্তু মুক্তিপণ না দেয়ায় তাঁকে নদী পথে থাইল্যান্ডের জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয়৷ সেখানে বসেও তাঁর কাছে মুক্তিপণ আদায়ের জন্য চাপ দেয় অপহরণকারীরা৷ তাঁর কথায়, ‘‘আমি কখনোই আমার পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণের টাকার জন্য যোগাযোগ করতে পারবো না৷ যোগাযোগ করিওনি৷''

গণকবরের বিষয়টি নিয়ে কথা বলার জন্য প্রবাসি কল্যাণ সচিব ইফতখোর হায়দারের সঙ্গে ডয়চে ভেলের পক্ষ থেকে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি৷ ওদিকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, থাইল্যান্ডের বাংলাদেশ দূতাবাস এরইমধ্যে সেখানকার সামাজিক উন্নয়ন এবং মানব নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে৷ দূতাবাসের কর্মকর্তারা আনুজারের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি চেয়েছেন বলেও জানায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়৷

তবে বিদেশে জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বায়রার সভাপতি আবুল বাসার ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘সরকারের পক্ষ থেকে প্রথমদিনই উদ্যোগ নেয়া উচিত ছিল৷ তারা এখনও তেমন কিছু করে নাই, এটা দুঃখজনক৷'' তিনি বলেন, ‘‘এই সব মানুষদের অবৈধপথে এবং অবৈধভাবে নিয়ে যাওয়া হয়েছে৷ দীর্ঘদিন ধরে এই মানব পাচারকারীরা তৎপর থাকলেও, তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না৷''

কক্সবাজারের স্থানীয় সাংবাদিক আবু তাহের ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘এত ঘটনার পরও বাংলাদেশ থেকে সমুদ্র পথে মানবপাচার থামছে না৷ পাচারকারীরা প্রতি রাতে এই অঞ্চল থেকে রাতে ৪০-৫০ জন যাত্রীকে নৌকায় তুলে গভীর সাগরে অপেক্ষমান থাইল্যান্ডের জাহাজে তুলে দিচ্ছে৷ বিনিময়ে জাহাজে থাকা দালালরা যাত্রীপ্রতি ২০ হাজার টাকা করে দিচ্ছে৷ পরে ঐ দালালরাই থাইল্যান্ডের জঙ্গলে যাত্রীদের জিম্মি করে মাথাপিছু দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা করে মুক্তিপণ আদায় করছে৷ আর পাচারের সময় বলা হচ্ছে যে, তাঁদের কোনো খরচ ছাড়াই সেখানে নিয়ে চাকরি দেয়া হবে৷''

গত বছর পুলিশের পক্ষ থেকে এই পাচারকারী এবং দালালচক্রের ওপর একটি তদন্ত করা হয়৷ গত ডিসেম্বর মাসে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, মিয়ানমার ও বাংলাদেশের ২৪১ জন দালাল কক্সবাজারের সমুদ্র উপকূল থেকে মানবপাচার নিয়ন্ত্রণ করে৷ প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে এই দালাল চক্র দেশের ৪০ জেলার ৬০টি স্থান দিয়ে প্রায় ২০ হাজার মানুষকে মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে পাচার করেছে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়