1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

ত্বকের রোগ সারাতে তরল প্লাজমা

ত্বকের রোগ নিয়ে সমস্যায় ভোগেন অনেক মানুষ৷ ওষুধপত্র, ক্রিম ইত্যাদি সাময়িক স্বস্তি দিলেও অনেক রোগ দূর হতে চায় না৷ জার্মান বিজ্ঞানীরা এবার শীতল প্লাজমা কাজে লাগিয়ে ক্ষতের চিকিৎসার অভিনব উপায় খুঁজে পেয়েছেন৷

জার্মানির ফ্রাউনহোফার ইনস্টিটিউট এবার ক্ষত ও ত্বকের রোগের চিকিৎসায় শীতল প্লাজমা কতটা কার্যকর হতে পারে, তা খতিয়ে দেখছে৷ দেখা গেছে, শীতল প্লাজমা অতি ক্ষুদ্র মাইক্রোঅরগ্যানিজম মেরে ফেলে এবং ত্বকে রক্তের চলাচল তরান্বিত করে৷ ফ্রাউনহোফার ইনস্টিটিউটের ড. আন্দ্রেয়াস হেল্মকে বলেন, ‘‘প্লাজমা-র বিশেষত্ব হলো, তা ব্যাক্টিরিয়া ও মাইক্রোঅরগ্যানিজম-এর মোকাবিলা করে এবং বিভিন্ন রোগের প্যাথোজেন বা জীবাণু মেরে ফেলে৷ ত্বকের স্তরের ঠিক নীচে রক্তসঞ্চালন প্রক্রিয়া চাঙ্গা করে তোলে৷ অর্থাৎ ক্ষত বেশিদিন থাকলে তাতে পুষ্টি ও অক্সিজেন সরবরাহ বিঘ্নিত হয়৷ এই দুই প্রভাব কাজে লাগিয়ে প্লাজমা সেই অভাব পূরণ করে ক্ষত সারিয়ে তুলতে সাহায্য করে৷''

পদার্থবিদ্যা অনুযায়ী তিন রকম অবস্থা সম্ভব – কঠিন, তরল ও বায়বীয়৷ প্লাজমা হলো চতুর্থ অবস্থা৷ শক্তি কাজে লাগিয়ে যে কোনো গ্যাসকে এই অবস্থায় রূপান্তরিত করা সম্ভব৷ এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ৬০০ রাসায়নিক প্রতিক্রিয়া কাজে লাগানো হয়৷ ইলেকট্রন, আয়ন, অণু ও অতি বেগুনি রশ্মির এক মিশ্রণ সৃষ্টি হয়৷ ড. আন্দ্রেয়াস হেল্মকে বলেন, ‘‘কোনো গ্যাসের মধ্যে বৈদ্যুতিক শক্তি প্রবেশ করিয়ে প্লাজমা সৃষ্টি করা হয়৷ অর্থাৎ সেই গ্যাস বিদ্যুৎ বহন করতে পারে৷ তখন দেখা যায়, কণাগুলি তাদের চার্জ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং অণু পরমাণুতে রূপান্তরিত হয়৷ কণাগুলিতে শক্তি প্রবেশ করলে বিকিরণের মাধ্যমে সেই শক্তি বিচ্ছুরিত হয়৷ এখানে কণার সেই বিকিরণ দেখা যাচ্ছে৷''

প্লাজমার আসল প্রভাবের এখনো পুরোপুরি ব্যাখ্যা পাওয়া যায় নি৷ তবে এটা ঠিক, যে প্লাজমা ত্বকের ক্ষুদ্রতম ফাঁকফোকরেও প্রবেশ করে জীবাণুমুক্ত করে তুলতে পারে৷ এমনকি মাল্টিরেজিস্টেন্ট ব্যাক্টিরিয়াও রেহাই পায় না৷

ব্যাক্টিরিয়ার বিরুদ্ধে প্লাজমা কতটা কার্যকর হতে পারে, তা ই-কোলাই ব্যাক্টিরিয়ার এক পরীক্ষার মাধ্যমেই বোঝা সম্ভব৷ এই ব্যাক্টিরিয়া আন্ত্রিক রোগ ও ফুড পয়জেনিং ঘটাতে পারে৷ শীতল প্লাজমার বিকিরণের ফলে সেই ব্যাক্টিরিয়া মারা যায়৷ বায়োকেমিস্ট মোনিকা গেলকার বলেন, ‘‘প্লাজমা ব্যক্টিরিয়া ও ছত্রাকের মতো মাইক্রোঅরগ্যানিজম মেরে ফেলতে পারে৷ সেটি বিভিন্ন রাসায়নিক পরস্পরের সঙ্গে জুড়ে দেয় অথবা বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র কাজে লাগিয়ে মেমব্রেন ক্ষতিগ্রস্ত করে৷ মাইক্রোঅরগ্যানিজমের ভিতরে ডিএনএ এবং প্লোটিনও নষ্ট করে দেয় প্লাজমা৷ ফলে সেগুলির মৃত্যু হয়৷''

ডাক্তার, বায়োলজিস্ট ও পদার্থবিদদের এক টিম এর মধ্যে এক যন্ত্র তৈরি করেছেন, যা সরাসরি ত্বকের উপর শীতল প্লাজমা সৃষ্টি করতে পারে৷ এক ক্লিনিকাল পরীক্ষার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তার ব্যাক্টিরিয়া-নাশক গুণের প্রমাণ পাওয়া গেছে৷ হাই ভোল্টেজ পাল্স সৃষ্টি করে যন্ত্র ও ত্বকের মাঝের অংশের বাতাসকে প্লাজমায় রূপান্তরিত করা যায়৷ ড. হেল্মকে বলেন, ‘‘এক্ষেত্রে প্রায় ৪ মাস ধরে বিশেষ যন্ত্রের মাধ্যমে প্লাজমা প্রয়োগ করে চিকিৎসা করা হয়েছে৷ সব মিলিয়ে ৫০ রকমের অ্যাপ্লিকেশন কাজে লাগানো হয়েছে৷

এই ক্ষত কিছুতেই সেরে উঠছিল না৷ এই চিকিৎসার পর সেই ক্ষত উধাও৷ এই চিকিৎসা পদ্ধতি ৩ রকমের পদ্ধতির মেলবন্ধন ঘটাচ্ছে৷ ওজোন-থেরাপি, স্টিমুলেশন কারেন্ট থেরাপি এবং লাইট থেরাপি৷ এখানে একটি যন্ত্রের মাধ্যমে সে সবের সঙ্গে প্লাজমা প্রযুক্তিও একসঙ্গে কাজে লাগানো হচ্ছে৷''

বহুকালের ক্ষত সারাতে শীতল প্লাজমার প্রয়োগ এর মধ্যেই শুরু হয়ে গেছে৷ এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মাইক্রোঅরগ্যানিসম ও চুলকানি কমানো যাচ্ছে বলে বিজ্ঞানীদের আশা, এভাবে নিউরোডার্মাটিটিস বা সোরিয়াসিস-এর মতো রোগের চিকিৎসা করা সম্ভব৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক