1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

‘তোষকটা না হয় পুড়ত, কিন্তু বাচ্চাগুলো তো বাঁচতো'

ঢাকার উত্তরায় আগুনে দুই সন্তান ও স্বামীকে হারানো এক নারী মুখ খুলেছেন৷ অগ্নিকাণ্ডে মারাত্মক আহত সুমাইয়া আক্তারের অডিও বক্তব্য ছড়িয়ে পড়েছে ফেসবুকে, যা থেকে জানা গেছে নতুন তথ্য৷

সুমাইয়া আক্তার ইতোমধ্যে তাঁর দেড় ও ১৫ বছর বয়সি দুই সন্তান ও স্বামীকে হারিয়েছেন৷ তাঁর শরীরও পুড়ে গেছে ৯০ শতাংশের বেশি৷ গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালের সেই ঘটনার পেছনে গ্যাস লাইনে থাকা লিককে দায়ী করা হচ্ছে৷ ঢাকার গণমাধ্যম জানিয়েছে, সুমাইয়ার অবস্থা আশঙ্কাজনক৷ তবে সেই আশঙ্কাজনক অবস্থাতেই তিনি জানিয়েছেন, সেই সকালের কিছু কথা, যা ফেসবুকে শেয়ার করছেন অনেকে৷

সুমাইয়া দাবি করেছেন, অগ্নিকাণ্ড ঘটার পর সাততলা বাড়ি থেকে সিঁড়ি বেয়ে নীচের দিকে নেমে আসেন তিনি এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা৷ এ সময় তাদের কেউ সাহায্য করেনি৷ একটু সহায়তা পেলে হয়ত তাঁর সন্তান দু'টোকে বাঁচানো যেত৷

৪০ বছর বয়সি সুমাইয়ার এক আত্মীয় নওশাদ জামান ফেসবুকে সুমাইয়ার অডিও বার্তা শেয়ার করেছেন৷ সুমাইয়া তাঁর আত্মীয়দের জানিয়েছেন, তিন আর চার নম্বর ফ্লোর থেকে দরজা খুলেছে৷ কিন্তু আমাদের দেখে দরজা বন্ধ করে দিছে৷''

Bildergalerie Opfer politischer Gewalt in Bangladesch 2015

‘একটা চাদর দিয়েও বাচাঁতে আসলোনা ঢাকার গৃহবধু সুমাইয়া ও তার বাচ্চাদের’ (প্রতীকী ছবি)

তিনি বলেন, ‘‘(আমার) স্পষ্ট মনে আছে৷ সাততলা থেকে নামছি৷ তিনতলার লোকেরা একটা তোষক দিয়ে যদি (আমাদের) জড়িয়ে ধরতো, (তাহলে) একটা তোষক না হয় পুড়ত৷ আমার বাচ্চাগুলো তো বাঁচতো৷''

ফেসবুকে অডিওটি শেয়ার করে আশিকুর রহমান ডিফেন্স লিখেছেন, ‘‘হায় রে নগর জীবন! হায় রে মানবিকতা! একটা চাদর দিয়েও বাচাঁতে আসলোনা ঢাকার গৃহবধু সুমাইয়া ও তার বাচ্চাদের৷ গায়ে আগুন নিয়ে ফ্লাটের পর ফ্লাট গিয়ে দরজায় নক করেও কেউ একটা চাদর দিয়ে সহায়তা করেনি৷ উল্টো দরজা বন্ধ করে দিয়েছে সবাই৷''

প্রসঙ্গত, উত্তরার এই মর্মান্তিক ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন, তাদের ধারণা, ওই বাসার গ্যাসের চুলা বা লাইনে সমস্যা ছিল৷ এর ফলে গ্যাস বের হয়ে রান্নাঘর থেকে পুরো ফ্ল্যাটে ছড়িয়ে যায় এবং সকালে চুলা জ্বালাতে গিয়ে অগ্নিকাণ্ড ঘটে৷

ফেসবুকে প্রকাশিত অডিও বার্তায় সুমাইয়া জানিয়েছেন, রান্নাঘর থেকে আগুন লাগেনি৷ তিনি বলেন, ‘‘আগুন ছিল ডাইনিং রুমে আর বড় ছেলের রুমে৷ রান্না ঘরে আগুন জ্বালানো হলেও সেখানে আগুন ছিল না৷''

ফেসবুকে খিরকিল নেওয়াজ সন্দেহ প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘‘এটা পরিষ্কার যে, কিচেনের চুলার কারণে নয়, অন্য কোনো কারণে ঘটতে পারে এই দুর্ঘটনা৷ নিরপেক্ষ তদন্তে বেরিয়ে আসবে সবকিছু৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়