1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

‘...তোমার কথা বলা যেন মধুবালা, হাঁটাচলা সোফিয়া লরেন...'

অঞ্জন দত্তের গানেও এভাবে ঘুরেফিরে এসেছিলেন চলচ্চিত্র জগতের ইটালীয় দেবী বলে খ্যাত সোফিয়া লরেন৷ সম্প্রতি এই কিংবদন্তি অভিনেত্রীকে বিশেষ সম্মাননা পুরস্কার দিল অ্যাকাডেমি অফ মোশন পিকচার্স আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেস৷

default

রূপালি পর্দার দেবী সোফিয়া লরেন

গত ৪ঠা এপ্রিল এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে দেখানো হলো তাঁর অভিনিত ভিত্তোরিও ডি সিকার ‘টু ওমেন' ছবিটির অংশবিশেষ৷ ১৯৬১ সালে এই ছবির জন্যই প্রথমবার অস্কার জিতেছিলেন সোফিয়া৷ অবশ্য, পরবর্তীতে ডি সিকা পরিচালিত ‘ম্যারেজ ইটালিয়ান স্টাইল'-এ অভিনয়ের জন্যও অস্কার মনোনয়ন পেয়েছিলেন তিনি৷ এ বছর তাঁর অস্কার জেতার ৫০ বছর পূর্তি৷ বলা বাহুল্য, অ্যাকাডেমি অফ মোশন পিকচার্স আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেস চলচ্চিত্র জগতের সবচেয়ে মর্যাদাকর পুরস্কার সেই অস্কারেরই আয়োজক৷ তাই বুধবারের অনুষ্ঠানে সোফিয়ার পাশে উপস্থিত ছিলেন তাঁর অসংখ্য বন্ধু ও সহকর্মী৷ বিলি ক্রিস্টাল, জন ট্রাভোল্টা, এভা মেন্ডেস – আরো কতো কে!

পুরস্কার পেয়ে ৭৬ বছর বয়স্ক সোফিয়া লরেন বলেন, ‘‘আমি এক কথায় আমার আনন্দ প্রকাশ করবো কীভাবে? তবে যেদিন অস্কার নিয়ে বাড়িতে ঢুকেছিলাম – তারপর যে ৫০ বছর পার হয়ে গেছে – সেটা ভাবতেই অবাক লাগছে৷'' তবে এটাই প্রথম নয়৷ চলচ্চিত্রে অনন্য সাফল্য ও অবদান রাখার জন্য ১৯৯০ সালেও সোফিয়া লরেনকে একটি সম্মাননা পুরস্কারও দেয় অস্কার কর্তৃপক্ষ৷

Flash-Galerie Golden Globe Awards Sophia Loren

২০১০ সালের জানুয়ারি মাসে ‘গোল্ডেন গ্লোব’ পুরস্কারের অনুষ্ঠানে সোফিয়া লরেন

জন্ম ও বড়ো হওয়া

১৯৩৪ সালে রোমের একটি হাসপাতালের দাতব্য ওয়ার্ডে জন্মগ্রহণ করেন সোফিয়া৷ শোনা যায়, মা রোমিলদাকে বিয়ে করতে আগেই অস্বীকার করেছিলেন বাবা রিকার্ডো৷ তাই ২০শে সেপ্টেম্বর জন্মের ক'দিন পরই, তাঁদের আশ্রয় নিতে হয়েছিল ইতালির একটি বস্তিতে৷ তখন অবশ্য তাঁর নাম ছিল সোফিয়া সাইক্লোন৷

সে সময় চরম দারিদ্র্যের মধ্যে দিন কাটে মা এবং মেয়ের৷ আর সেই অবস্থা অসহনীয় হয়ে দাঁড়ায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে৷ সোফিয়ার কথায়, ‘‘বেশির ভাগ সময়ই না খেয়ে কাটাতে হতো আমাদের৷ মা আর ছোটবোন মারিয়ার মুখে সব সময়েই থাকতো বিষন্নতার ছায়া৷''

সুন্দরী প্রতিযোগিতায় খেতাব ও পন্টির সঙ্গে পরিচয়

এ অবস্থার পরিবর্তন হয় ১৯৪৮ সালে, সোফিয়ার ১৪ বছর বয়সে৷ সে সময় ইটালির এক সুন্দরী প্রতিযোগিতায় নাম লেখান তিনি৷ আপাদমস্তক সুন্দরী সোফিয়া সহজেই পৌঁছে যান ফাইনালিস্টদের মধ্যে৷ তারপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁর৷ মজার বিষয়, ঐ প্রতিযোগিতাতেই সোফিয়া দৃষ্টি কাড়েন ৩৭ বছর বয়সী চলচ্চিত্র পরিচালক কার্লো পন্টির৷ তিনিই সোফিয়াকে চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সুযোগ করে দেন৷ পরবর্তীতে সেই পন্টিকেই বিয়ে করেন সোফিয়া৷ 

সোফিয়া সাইক্লোন থেকে সোফিয়া লোরেন

চলচ্চিত্রে পা দেয়ার পরই সোফিয়া সাইক্লোন থেকে তিনি সোফিয়া লরেন হয়ে যান৷ ১৯৫২ সালে ‘লা ফ্যাভোরিটা' এবং ১৯৫৩ সালে ‘এইডা' নামের ছবিতে অভিনয়ের পরপরই সোফিয়ার সামনে হলিউডের দ্বার উন্মুক্ত হয়ে যায়৷ ১৯৫৭ সালে প্রথম অ্যামেরিকান ছবি ‘বয় ইন আ ডলফিন'-এ অভিনয় করেন তিনি৷ সে সময়কার সুপারস্টার ক্যারি গ্রান্টের সহশিল্পী হিসেবে অভিনয় করেন ‘দ্য প্রাইড অ্যান্ড দ্য প্যাশন' ও ‘হাউসবোট' নামের ছবিতে৷ আর ইটালীয় ছবি ‘লা সাইওসায়ারা'-তে অভিনয় করে ১৯৬০ সালে সেরা অভিনেত্রী হিসেবে অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন লরেন৷

Marcello Mastroianni und Sophia Loren

রূপালি পর্দার ডাকসাইটে জুটি মার্চেলো মাস্ত্রোইয়ানি ও সোফিয়া লরেন

রূপকথার সতেজ, স্নিগ্ধ সুন্দরী সোফিয়া

ষাট ও সত্তর দশকে সোফিয়া লরেন ছিলেন বিশ্বের জনপ্রিয়তম অভিনেত্রীদের অন্যতম৷ ইউরোপ ও অ্যামেরিকায় তিনি সমান তালে অভিনয় করেন পল নিউম্যান, মার্লন ব্র্যান্ডো, গ্রেগরি পেক, চার্লটন হিউসটনদের মতো অভিনেতাদের সঙ্গে৷ অস্কার তো বটেই, জিতে নেন পাঁচটি গোল্ডেন গ্লোব অ্যাওয়ার্ড৷ তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য হলিউডি ছবির মধ্যে ‘এল সিড', ‘দ্য ফল অফ দ্য রোমান এম্পায়ার', ‘অ্যারাবেস্ক', ‘ম্যান অফ লা মাঞ্চা' এবং ‘দ্য ক্যাসান্ড্রা ক্রসিং' অন্যতম৷ তবে আশির দশকের শুরু থেকেই চলচ্চিত্রে অভিনয় কমিয়ে দেন সোফিয়া৷ সময় কাটান স্বামী-সন্তানদের সঙ্গে৷ তাঁর দুই ছেলে - কার্লো পন্টি জুনিয়র ও এডৌরো পন্টি৷

সোফিয়া লোরেন : হার ওন স্টোরি

১৯৮০ সালে সোফিয়ার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে তৈরি হয় - সোফিয়া লরেন: হার ওন স্টোরি৷ এখানেই অবশ্য শেষ নয়৷ ১৯৯৪ সালে প্রায় ৬০ বছর বয়সে সোফিয়া অভিনয় জগতে ফিরে আসেন৷ ‘প্রিট-আ-পোর্টার' নামের ছবিতে বক্স অফিস কাঁপিয়ে আবারো দশর্কদের মুগ্ধ করেন তিনি৷ এরপর বিচ্ছিন্ন কিছু ছবিতে অভিনয় করলেও মূলত বিরতিতে চলে যান সোফিয়া৷ প্রায় ৫০ বছরের জীবনসঙ্গী কার্লো পন্টিকে হারান ২০০৭ সালে৷ ২০০৯ সালে ড্যানিয়েল ডে-লুইসের বিপরীতে অভিনয় করেন নিজের শেষ ছবি ‘নাইন'-এ৷


অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে তবেই বিশ্বসেরা অভিনেত্রীর খেতাব পান সোফিয়া লরেন৷ একেবারে শূন্য থেকে জীবন শুরু করতে হয়েছিল তাঁকে৷ কিন্তু তারপরও, নিজের মনোবল, মেধা ও সৌন্দর্যের কারণে বিশ্বের তাবৎ দেশের মানুষের ভালোবাসা অর্জন করেন তিনি, অচিরেই৷

প্রতিবেদন: দেবারতি গুহ

সম্পাদনা: সঞ্জীব বর্মন