1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

তৈলচিত্র থেকে ঘড়ি, সংরক্ষণ এক বড় চ্যালেঞ্জ

প্রাচীন শিল্পকলা ও প্রযুক্তি আগামী প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ করা এক বড় চ্যালেঞ্জ৷ সেই কাজ আবার অনেককে ব্যক্তিগত রোমাঞ্চ ও আনন্দও দেয়৷ অত্যন্ত নিপুণভাবে তাঁরা রেস্টোরেশনের কাজ করে চলেছেন৷

হাই টেক বিশ্লেষণের ফলাফল কাজে লাগিয়ে তৈলচিত্র থেকে মলিন রং দূর করা সম্ভব৷ শুধু সবচেয়ে ওপরের এই স্তর সরিয়ে নতুন করে তা বসানোর অনুমতি রয়েছে৷ তাই একমাত্র সঠিক তথ্য ও তার ভিত্তিতে তৈরি সলিউশন দামি এই শিল্পকর্মের ক্ষতি এড়াতে পারে৷

ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলি মেরামত করতে কনজারভেটররা অতি সূক্ষ্মভাবে রং লাগান৷ হুবহু মূল রঙের নকল করতে হয়৷ কোনো ভুল করলে চলবে না৷ রঙের তুলিও কেঁপে গেলে চলবে না৷ তৈলচিত্র রেস্টোরেশন প্রকল্পের প্রধান প্রো. মারলিস গিবে বলেন, ‘‘আমরা মূল চিত্রগুলি থেকে প্রায় একেবারেই বিচ্যুত হই না৷ এই উচ্চমানের শিল্পসংগ্রহ আগামী প্রজন্মের জন্য বাঁচিয়ে রাখার কাজ আমাদের দেওয়া হয়েছে৷ প্রতিটি ছবির প্রেক্ষাপট, রহস্য আমরা সরাসরি টের পাই৷ এভাবে নতুন জগতের উন্মোচন হয়৷''

কনজারভেটরদের দলের জন্য এটা একেবারে নতুন চ্যালেঞ্জ৷ ষোড়শ শতাব্দীর এই প্ল্যানেটারি ঘড়ি আসলে এক অপূর্ব সৃষ্টি৷ সূক্ষ্ণ কাজের এক নিদর্শন, যা গ্রহগুলির একেবারে সঠিক কক্ষপথ দেখাতে পারে৷ এই ঘড়ি সংরক্ষণ ও পরিষ্কার করতে বিশেষজ্ঞরা তার প্রায় ২,০০০ অংশ আলাদা করেছেন৷ কনজারভেটর লোটার হাসেলমায়ার বলেন, ‘‘এই ঘড়ি অত্যন্ত জটিল ও নিখুঁত এক যন্ত্র, যা গ্রহগুলির মুভমেন্ট দেখাতে পারে৷ এমন অসাধারণ যান্ত্রিক কাঠামো হাতে ধরার, কাছ থেকে দেখার সুযোগ পাওয়া অভিনব এক অভিজ্ঞতা৷ এমন কাজ করতে পরে আমরা বড়ই আনন্দিত৷''

এক থ্রিডি অ্যানিমেশনের মাধ্যমে এই ঘড়ির জটিল কার্যপ্রণালী তুলে ধরা হবে৷ তথ্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় কনজারভেটররা এই ঘড়ির পরিমাপ করছেন৷ ফলে এবার জটিল মেকানিকাল প্রক্রিয়া স্পষ্ট চেনা যাচ্ছে৷ এই ঘড়ি এতটাই নিখুঁতভাবে চলে, যে প্রতি ৩১ বছরে মাত্র এক ঘণ্টার বিচ্যুতি ঘটে৷

প্রত্যেকটি অংশ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করা হয়৷ কনজারভেটররা তার মধ্যে একটি ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পেয়েছেন৷ বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন এক এইচডি মাইক্রোস্কোপের সাহায্যে তাঁরা জানতে চান, ক্ষতির মাত্রা ধাতুর কতটা গভীর পর্যন্ত ছড়িয়েছে৷ দেখা গেল, শুধু সারফেসই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে৷ ফলে নির্দিষ্ট সলিউশন দিয়ে ত্রুটি দূর করা সম্ভব৷ লোটার হাসেলমায়ার বলেন, ‘‘রেস্টোরেশনের কাজে বড়ই আনন্দ পাওয়া যায়, কারণ বার বার অভিনব সব শিল্পকর্ম হাতে আসে৷ সেগুলি কাছ থেকে দেখা এবং সেগুলি নিয়ে কাজ করার সুযোগ পাই৷ স্রষ্টা কীভাবে, কত কষ্ট করে সেগুলি তৈরি করেছিলেন, তা দেখতে পাই৷ বার বার এমন নতুন অভিজ্ঞতা একমাত্র কনজারভেটর হিসেবেই পাওয়া যেতে পারে৷''

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য শিল্পকর্ম বাঁচিয়ে রাখতে হলে চাই গভীর জ্ঞান এবং অক্লান্ত পরিশ্রম৷ দীর্ঘমেয়াদি এই কাজের ফলাফল দর্শকদের দিনের পর দিন ধরে মুগ্ধ করে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়