1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

তোমরাও ‘মহানায়িকা', তোমাদের সালাম

দোহা বিমান বন্দরে হঠাৎ দেখা৷ মনে হয়েছিল, ‘সালাম' ঠুকি৷ কিন্তু ঢাকা যেতে যেতে শুনেছি শুধু অহংকারের মনছোঁয়া সব গল্প৷ শুনতে শুনতেই পথ শেষ৷ বাংলাদেশের ওই ‘মহানায়িকাদের' সেদিন ‘সালাম' দেয়া হয়নি৷ আজ দিচ্ছি৷

ঢাকা বিমান বন্দর তখনো জিয়া আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর হয়নি৷ কাতার থেকে এমিরেটস-এর ঢাকামুকী ফ্লাইটের তখনো ঘণ্টা তিনেক বাকি৷ দোহা বিমান বন্দরে কাঁচের দেয়ালের এপারে বসে বিমানের ওড়াউড়ি দেখছি৷ হঠাৎ বাংলা ভাষা কানে এলো৷ কখনো কখনো নিজের ভাষায় কাউকে কথা বলতে শুনলেও যে ভীষণ ভালো লাগে, তা সব প্রবাসীই মানবেন৷ তাকিয়ে দেখি, এক ঝাঁক বাঙালি মেয়ে৷ পোশাক-আশাকও নজর কাড়ার মতো৷ কারো পরনে উজ্জ্বল রঙের দামি শাড়ি, ব্লাউজের বদলে পরেছেন হাই কলারের ফুল স্লিভ গেঞ্জি৷ কেউ পরেছেন জিন্স-টি শার্ট, বড়সড় সানগ্লাসটা তুলে দিয়েছেন মাথায়৷ কারো পোশাক এত ‘ক্যাজুয়াল' যে দেখে মনে হচ্ছে, বিমানে কাতার থেকে বাংলাদেশ নয়, হেঁটে বা বাসের হ্যান্ডেল ধরে তিনি সায়েদাবাদ থেকে কুড়িল যাচ্ছেন৷ তাঁদের কারো কারো কাছে বিদেশে আসা বা বিদেশ থেকে ফেরা এখন এক পাড়া থেকে অন্য পাড়ায় যাওয়ার মতো – ভাবতেই দারুণ লাগছিল!

দেখেই বুঝেছি, তাঁরা কর্মজীবী৷ বিদেশে এসেছেন পরিবারের জন্য অর্থ উপার্জন করতে৷ তাঁদের চোখে-মুখে পরনির্ভরশীলতা থেকে মুক্ত জীবনের আত্মবিশ্বাস৷ পোশাকেও আত্মবিশ্বাস৷

Deutsche Welle DW Arun Chowdhury

আশীষ চক্রবর্ত্তী, ডয়চে ভেলে

মুম্বই ফিল্মের সুপারস্টারকে হলুদ জিন্স পরতে দেখলে অনেকেই সঙ্গে সঙ্গে দোকানে ছোটেন সেই জিন্স কিনতে, কিন্তু পরিচিত মহলের কাউকে নতুন ধরণের কিছু পরতে দেখলে তাঁরাই আবার মুখ টিপে হাসেন৷ হিট নায়ক-নায়িকারা অনেকক্ষেত্রে ধরেই নেন, পর্দায় যেভাবেই হাজির হন না কেন দর্শকের তা ভালো লাগবে, ভক্তরা সেই পোশাকটিকেই ফ্যাশন হিসেবে গ্রহণ করবে৷ আত্মবিশ্বাস কখনো কখনো পাশের বাড়ির ছেলে বা মেয়েটিকেও ‘হৃদয়ে সুপারস্টার' বানিয়ে দেয়৷ দোহা বিমানবন্দরে সেদিন এমন ১০-১২ জন আত্মবিশ্বাসী নারীকেই দেখেছিলাম৷

প্রবাসজীবন কেমন কাটছে – ‘সাংবাদিকের দায়িত্ব' মেনে শুরুতেই এই প্রশ্নটা করেছিলাম৷ কত কষ্ট করে, কত অপমান-নির্যাতন সয়ে যে এশিয়ার দেশগুলো, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বাংলাদেশের মানুষ দেশে বৈদেশিক মুদ্রা পাঠান, তা তো আমরা জানি! ভেবেছিলাম এমন কিছু কাহিনিই শুনতে হবে৷ কিন্তু প্রশ্ন করে আমি অবাক৷ প্রত্যেকে গল্পগুলো বললেন অহংকার নিয়ে৷ শুরুতে অহংকার, শেষেও অহংকার৷ মাঝে হয়ত কারো একটু ছয় বছরে নিজের সন্তানকে একবারও দেখতে না পারার কষ্ট৷ কেউ সন্তর্পণে দীর্ঘশ্বাস ফেলে শুধু বললেন, স্বামী ঘরে বসে থাকে, তাঁকে দু'বার টাকা পাঠিয়েছেন গ্রামে একটা টং দোকান দিতে, টং দোকান না দিয়ে স্বামী পুরো টাকা নষ্ট করেছে৷ কেউ শোনালেন, মায়ের মৃত্যুর সময় পাশে থাকতে না পারার যন্ত্রণার কথা৷ কিন্তু গল্পের শেষটায় আবার অহংকার আর আনন্দ৷ হাসিমুখে একে একে বলে গেলেন, ‘‘ছয় বছর পরে দ্যাশে যাইতাসি৷ দুইডা মাস শুধু পোলাডারেই দেখমু৷'' ‘‘দুইবার ট্যাকা নষ্ট করছে দেইখাই আর পাঠাই নাই৷

এইবার নিজে দোকান উডামু, হেই দোকানে হ্যারে বহাইয়া তয় আবার আমু কাতারে৷'' ‘‘মা-রে দ্যাকতারি নাই হেই কতা এহন আর ভাইবা কী অইবো৷ গেরামে গিয়া গরিব-মিশকিনরে একদিন খাওয়ামু৷ মা-র রুহু শান্তি পাইবো৷ কী কন ভাই, পাইবো না?''

বিমান ঢাকার মাটি ছুঁয়েছিল গভীর রাতে৷ কোনোরকমে বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে একে একে সবাই ছুটলেন প্রিয়জনদের কাছে৷ পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ অর্থ উপার্জনকারী সদস্য হিসেবে কারোই যে গর্বের শেষ নেই দেখেই বোঝা যাচ্ছিল৷ জানি, বিদেশের অনেক অভিজ্ঞতার কথাই আমাকে হয়ত বলেননি তাঁরা৷ হয়ত পরিবারের কিছু কষ্টও লুকিয়েছেন৷ আগের চেয়ে অনেক বেশি কর্মজীবী নারী এখন বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছে – এটা যেমন সত্যি, তার চেয়ে অনেক বড় সত্যি হলো, মধ্যপ্রাচ্য এবং বাংলাদেশ এখনো খুব একটা নারীবান্ধব হয়ে ওঠেনি৷ তারপরও সংসারের জন্য হাসিমুখে নিজেকে উজাড় করে দেয়া!

কবি নজরুল লিখেছিলেন, ‘‘পুরুষ এনেছে দিবসের জ্বালা তপ্ত রৌদ্রদাহ/কামিনী এনেছে যামিনী-শান্তি, সমীরণ, বারিবাহ৷ দিবসে দিয়াছে শক্তি-মাংস, নিশীথে হয়েছে বধু/পুরুষ এসেছে মরুতৃষা লয়ে নারী যোগায়েছে মধু৷৷'' নারী বহু আগেই বিদ্রোহী কবির এই পঙক্তিমালা ভুল প্রমাণ করেছে৷ আজকের নারী, বিশেষ করে কর্মজীবী বা প্রবাসি কর্মজীবী নারীদের দেখলে কবি জসিমউদ্দীন হয়ত অবাক হয়ে জানতে চাইতেন,

‘‘এত হাসি কোথায় পেলে

এত কথার খলখলানি

কে দিয়েছে মুখটি ভরে

কোন বা গাঙের কলকলানি?''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়