1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

তেল ভরতে বেঁকে বসেছেন জার্মানির গাড়ি চালকরা

গাড়ির তেলে প্রাকৃতিক উপাদান ইথানল’এর ব্যবহার বাড়ানোর পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে গোটা জার্মানি এখন উত্তাল৷ গাড়িচালক, পেট্রল পাম্প, পেট্রল কোম্পানি, সরকার সহ সব পক্ষই এই সংকটের কবলে পড়েছে৷

default

ই-টেন নিয়ে গবেষণা এখনো চলছে

পরিবেশ দূষণের মাত্রা কমাতে গোটা বিশ্ব জুড়ে চলছে নানা রকমের উদ্যোগ৷ যেমন ইউরোপীয় ইউনিয়ন গাড়ির দূষণ কমাতে সদস্য দেশগুলির জন্য নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা স্থির করে দিয়েছে৷ একদিকে বিকল্প জ্বালানীর ব্যবহার বাড়ানো, অন্যদিকে পেট্রোলিয়ামের মধ্যে প্রাকৃতিক উপাদনের ব্যবহার আরও বাড়ানোই এই পরিকল্পনার লক্ষ্য৷ মোটকথা, বাস্তব পরিস্থিতি অনুযায়ী একাধিক পথে বায়ু দূষণ কমাতে চায় ইইউ৷ কিন্তু সমস্যা দেখা দিয়েছে পরিকল্পনার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে, যেমনটা এখন জার্মানিতে দেখা যাচ্ছে৷

Flash-Galerie Familienunternehmen Deutschland BMW

শখের গাড়িতে অচেনা-অজানা তেল ভরতে কেউই রাজি নন

চলতি মাসের শুরু থেকে জার্মানির পেট্রল পাম্পে চালু করা হয়েছে ১০ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত পেট্রল, যার পোশাকি নাম ই-টেন৷ এই তেল গাড়ির ইঞ্জিনের জন্য কতটা উপযুক্ত, কোনো ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা আছে কি না, সে বিষয়ে চরম বিভ্রান্তি বিরাজ করছে৷ কোন কোম্পানির কোন মডেলের গাড়ি এই তেল ব্যবহার করতে পারে, কোনটা পারে না, তা পুরোপুরি স্পষ্ট নয়৷ জার্মান সরকার এই তেলের বিক্রি বাধ্যতামূলক করে দিয়েছে, এমনকি নির্দিষ্ট মাত্রার বিক্রি না হলে পেট্রল পাম্পের জন্য জরিমানাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে৷ পেট্রোলিয়াম কোম্পানিগুলিও সেই নির্দেশ অনুযায়ী ই-টেন উৎপাদন করছে৷ কিন্তু সাধারণ চালক নিজের গাড়িতে অচেনা অজানা এই তেল ঢালতে চাইছেন না৷ এমনকি নিরুপায় হয়ে তারা বেশি অক্টেনের অনেক দামী তেল ভরছেন৷ এই অবস্থায় পেট্রল পাম্প ও পেট্রল কোম্পানিগুলির মাথায় হাত৷ সব পক্ষই একে অপরকে দোষারোপ করছে৷ সংকটের সমাধানের লক্ষ্যে সরকার সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের শীর্ষ প্রতিনিধিদের নিয়ে এক বৈঠক ডেকেছিল৷ কিন্তু তাতেও কোনো ফল পাওয়া যায় নি৷

Iran Benzin Rationierung

অনেকেই বাধ্য হয়ে বেছে নিচ্ছে দামি তেল

এত বড় এক পরিবর্তনের জন্য যথেষ্ট প্রস্তুতি যে নেওয়া হয় নি, সেবিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই৷ ই-টেন তেল ভরে গাড়ির ক্ষতি হলে কে তার দায় নেবে, তাও কেউ বলতে পারছে না৷ এমনকি এই তেলের ব্যবহারের ফলে আদৌ পরিবেশ দূষণ কমবে কি না, কয়েক জন বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক নেতা সেবিষয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন৷ সরকারের সমালোচনা করে তারা বলছেন, গাড়ি নির্মাতা কোম্পানিগুলি ও অন্যান্য মহলের লবির চাপের মুখে নতি স্বীকার করে সরকার শুধু একটি পথই বেছে নিয়েছে, আর তা হলো সাধারণ ভোক্তাদের উপর এমন এক অবাস্তব নিয়ম চাপিয়ে দেওয়া৷ জ্বালানির সাশ্রয় করে, নির্মাতাদের এমন গাড়ি তৈরির জন্য চাপ দেওয়া এবং কর নির্ণয়ের ক্ষেত্রে এই সব গাড়ির মালিকদের উৎসাহ দিলে দূষণ কমবে বলে তাদের অভিমত৷ সেইসঙ্গে গাড়ির গতির উর্দ্ধসীমা আরও কমালেও দূষণ কমে যাবে৷ ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্দেশিকায় উল্লিখিত সব পথ অনুসরণ করলে আজ জার্মান সরকারকে এমন সংকটে পড়তে হতো না বলে মনে করেন সমালোচকরা৷

প্রতিবেদন: সঞ্জীব বর্মন

সম্পাদনা: ফাহমিদা সুলতানা