1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

তেলের রাণী মরক্বোর আরগান এখন ইউরোপের বাজারেও

আরগান তেল কে বলা হচ্ছে ‘সব তেলের রাণী’৷ মরক্কোয় আরগান তেল দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে প্রসাধনী৷ আরগান তেলের চাহিদাও বাড়ছে দিনকে দিন৷ রূপ চর্চায় আরগান তেলের ভূমিকা কতটুকু ?

default

আরগান ফল

সৌন্দর্যের জন্য বিভিন্ন ধরণের প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহারের কথা আমরা জানি৷ চন্দন, হলুদ, রূপটান ছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন ধরণের তেল৷ সুস্বাস্থ্যের জন্যও অনেক ধরণের তেল ম্যাসাজ করার কথা বলেন চিকিৎসকরা৷ ওমেগা থ্রির অতিরিক্ত তেল ঝড়িয়ে ফ্যাটি এসিডসহ, কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমিয়ে তৈরি করা হয়েছে আরগান তেল৷ এই তেল ত্বকের যে কোন সমস্যা দূর করতে সক্ষম৷

আরগান তেলটি ফল থেকে আসে তাঁর নামও আরগান, গাছের নামও আরগান৷ এই গাছ দেখা যায় মরোক্কোয়৷ ইউরোপের নামকরা প্রসাধনী কোম্পানিগুলো সম্প্রতি খবর পেয়েছে এই তেলের কথা৷ জানতে পেরেছে তেলের অসাধারণ গুনের কথা৷ সেই কোম্পানিগুলো চেষ্টা করছে মরক্কোর যে অঞ্চলে এই গাছ দেখা যায় সেখানে আরাগান গাছের চাষ বাড়াতে৷ সে অঞ্চলের মহিলাদের কর্মজীবি হতে সাহায্য করতে৷

মারাকেশের একটি গ্রামে ছয়জন মহিলা মাটিতে বসে কাজ করছেন৷ তাঁদের সবার হাতে একটি করে শক্ত পাথর৷ সেই পাথর দিয়ে তাঁরা আরগান বাদামের খোসা ভাঙ্গছেন, ভেতরে রয়েছে নরম দানা৷

এই মহিলারা তিগুয়েমিন আরগান তেলের সমবায় সমিতির সদস্যা৷ মারাকেশ থেকে একটু দূরে আটলাস পাহাড়ের কাছে৷ গত আট বছর ধরে হান্না হালিদ এই সমবায় সমিতিটি চালাচ্ছেন৷ তিনি জানালেন আরগান তেল আসলে কী৷ হালিদ জানান, ‘‘আরগান হচ্ছে একটি গাছ, দেখতে জলপাই গাছের মতই৷ কিন্তু এই গাছটি শুধু মরক্কোতেই দেখা যায়৷ এর ফল থেকে আমরা দু ধরণের তেল তৈরি করি৷ একটি খাবার জন্য, আরেকটি ত্বকে ব্যবহার করার জন্য৷''

যে সব মহিলা এই সমবায় সমিতির সঙ্গে জড়িত তাঁরা হয়তো বিধবা নয়তো তালাকপ্রাপ্ত৷ তাঁরা দীর্ঘদিন ধরেই চেষ্টা করে আসছেন আর্থিকভাবে

Stadttor in Fez Marokko

নিজেদের স্বাবলম্বী করতে৷ বিয়ে হয়নি এমন মেয়ে এখানে কাজ করে না কারণ বিয়ে না করায় সমাজে তাদের অবস্থান অনেক নিচে৷ হালিদ জানালেন, ‘‘মরক্কো পুরুষ শাসিত সমাজ৷ নারীদের কোন কথা বলার স্বাধীনতা নেই৷ আমরা এই অবস্থার পরিবর্তন করতে চাই কারণ এই দেশে পুরুষদের চেয়ে মহিলারা বেশি কর্মঠ৷ মহিলারাই বেশি কাজ করছে৷ মূল সমস্যা সেখানেই৷''

আরগান তেল তৈরি করা কঠিন পরিশ্রমের কাজ৷ একটি মহিলা যদি অর্ধেক লিটার আরগান তেল তৈরি করতে চায় তাহলে তাঁর ছয়দিন সময় লাগবে৷ প্রথমে বাদামটি ভাঙ্গতে হবে, হাত দিয়ে দানাটি মিহিন করতে হবে এবং প্রতিবারই একটু একটু করে তেল জমবে৷

কিন্তু এই কঠিন কাজের স্বীকৃতি শেষ পর্যন্ত মিলেছে৷ আর্গান তেল মরক্কোয় কয়েক শতাব্দ ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে৷ তেলটি দিয়ে রান্না করা হয়৷ খেতে বাদামের মত এক ধরণের স্বাদ পাওয়া যায়৷ ঠিক জলপাই তেলের মত৷ আর জলপাই তেলের মতই আরাগান তেলে ওমেগা থ্রির পরিমাণ বেশি এবং এই তেলে কোলেস্টেরলের পরিমাণও খুব কম৷ ইদানিং এই তেলের চাহিদা বাড়ছে ইউরোপে৷ তবে তা খাবার তৈরির জন্য নয় বরং প্রসাধনী তৈরির জন্য৷

হালিদ ইংল্যান্ড থেকে আসা বেশ কিছু পর্যটককে আরগান তেলের কিছু সামগ্রী দেখান৷ এই তেলের ব্যবহারের নানা দিকও তিনি তাদের কাছে তুলে ধরেন৷ হালিদ পর্যটকদের বললেন, ‘‘এই তেলটি ম্যাসাজের জন্য খুব ভাল৷ এটা একজিমা এবং এ্যাকনি নিরাময়ে সাহায্য করে৷''

গত কয়েক বছরে দুনিয়াখ্যাত কিছু প্রসাধন কোম্পানি, যেমন গার্নিয়ের, দ্য বডি শপ এবং লো'রিয়্যাল এই আরগান তেল আমদানি করা শুরু করেছে৷ তারা সরাসরি তেল আমদানি করছেন এই মহিলা সমবায় সমিতির কাছ থেকে৷ কোম্পানিগুলো এই তেল ব্যবহার করছে লিপস্টিক, সাবান, শ্যাম্পুতে৷ জানানো হচ্ছে ত্বককে কোমল এবং সজীব দেখাবে৷ বলিরেখা দূরে সরে যাবে অনেক দূরে৷

হালিদ জানালো তাঁর দাদী এবং নানীরা এই তেল ব্যবহার করতেন সারা শরীরে৷ ত্বককে ঠিক রাখার জন্য৷ তবে সেই প্রচলন এখন আর নেই৷ এখন সেই প্রলনকে তুলে ধরার চেষ্টা করছে ইউরোপ৷

প্রতিবেদন: মারিনা জোয়ারদার

সম্পাদনা: সুপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়