1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

‘তৃতীয় বিশ্বের জন্য চিকিৎসক’: একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ

‘তৃতীয় বিশ্বের জন্য চিকিৎসক’ নামের একটি জার্মান সাহায্য সংস্থা দরিদ্র দেশগুলিতে আরো বেশি করে উন্নত চিকিৎসা দিতে আগ্রহী৷ এই লক্ষ্যে বিভিন্ন দেশে নতুন নতুন সহযোগী প্রতিষ্ঠানও গড়ে তুলেছে সংস্থাটি৷

World Health Organization, Vaccine

সাহায্য সংস্থা তৃতীয় বিশ্বের জন্য চিকিৎসক’

‘তৃতীয় বিশ্বের জন্য চিকিৎসক' সাহায্য সংস্থাটি স্থানীয় ডাক্তার ও নার্সদের নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী৷ এই প্রসঙ্গে সংস্থার সাধারণ সম্পাদক হারাল্ড কিশলাট বলেন, ‘‘আমরা স্বেচ্ছাসেবী ও বিনাবেতনে কাজ করতে আগ্রহী ডাক্তারদের নিয়ে সংস্থাটি গড়ে তুলছি৷ ডাক্তারদের টিমটি বাৎসরিক ছুটিতে বেড়াতে না গিয়ে ছয় সপ্তাহের জন্য আমাদের চিকিৎসা প্রকল্পগুলিতে কাজ করার জন্য বিভিন্ন দেশে যান, যে সব চিকিৎসা স্থানীয় ডাক্তারদের পক্ষে করা সম্ভব নয়৷''

ফিলিপিনস, ভারত, বাংলাদেশ, কেনিয়া, নিকারাগুয়ার মত গরিব দেশগুলিতে জার্মানির অতিথি ডাক্তাররা স্থানীয় নার্স ও চিকিৎসাকর্মীদের নিয়ে কাজ করেন৷ শুধু চিকিৎসা ক্ষেত্রে নয়, রোগ প্রতিরোধের নানা বিষয়েও একসাথে কাজ করেন তাঁরা৷

অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতামূলক কাজ

১৯৮৩ সাল থেকে আড়াই হাজারেরও বেশি চিকিৎসক নানা দেশে এই ধরনের প্রকল্পে কাজ করেছেন৷ বিমানের খরচও অর্ধেকের বেশি বহন করেছেন তাঁরা৷ কিন্তু চিকিৎসা ক্ষেত্রে শুধু ডাক্তারদের সাহায্য পেলেই চলেনা, এতে প্রয়োজন, ওষুধপত্র এবং যন্ত্রপাতিরও৷

Medizin Beratungsgespräch Praxis Arzt und Patientin

ভারত, বাংলাদেশেও স্থানীয় নার্স ও চিকিৎসাকর্মীদের নিয়ে কাজ করেন জার্মানির অতিথি ডাক্তাররা

এজন্য তৃতীয় বিশ্বের জন্য চিকিৎসা সংস্থাটি অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছে৷ যেমন ২০০৪ সাল থেকে ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি সেলেসিও'র সঙ্গে সহযোগিতার কাজ শুরু হয়েছে৷ চিকিৎসা ক্ষেত্রে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার সাথে সাথে ওষুধের দোকান গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও সহযোগিতা করছে প্রতিষ্ঠানটি৷ নিজস্ব কর্মীদের প্রকল্পের জন্য পাঠাচ্ছে৷

নকল ওষুধ শনাক্ত

হারাল্ড কিশলাট বলেন, ‘‘সেলেসিও কোম্পানি ওষুধ প্রস্তুত ও সংরক্ষণ সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মীদের আমাদের প্রকল্পের জন্য পাঠাচ্ছে৷ এরকম অনেক ওষুধ বিশেষজ্ঞ কোলকাতা ও কেনিয়ার প্রকল্পে কাজ করছেন৷ নকল ওষুধ পরীক্ষা নিরীক্ষার ব্যাপারে পারদর্শী তাঁরা৷ লক্ষ্য রাখেন যে সব ওষুধ আমরা স্থানীয় বাজার থেকে কিনছি, সেগুলি আসল কিনা৷ রোগীদের তা সাহায্য নাকি ক্ষতি করতে পারে৷''

সেলেসিও'র ‘মিনিল্যাব' ওষুধের গুণাগুণ পরীক্ষা করার ব্যাপারে পারদর্শী৷

Medecin

২০১০ সাল থেকে ‘তৃতীয় বিশ্বের জন্য চিকিৎসক' সংস্থাটি সিয়েরা লেওনেতে কর্মতৎপরতা চালাচ্ছে

এজন্য খুব বেশি বিদ্যুৎশক্তিরও প্রয়োজন হয়না৷ তাই প্রায় সব জায়গাতেই স্থাপন করা যায় এই ধরনের গবেষণাগার৷ সেলসিওর বিশেষজ্ঞরা স্থানীয়দের ওষুধ সংক্রান্ত বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের ওপর অনেক দায়িত্বভার ছেড়ে দেন৷

এগিয়ে আসছে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও

ইতোমধ্যে অন্যান্য জার্মান কোম্পানিও এধরনের সমাজকল্যাণমূলক তৎপরতায় এগিয়ে এসেছে৷ ‘তৃতীয় বিশ্বের জন্য চিকিৎসক' সংস্থার সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী তারা৷ এই ভাবে সহযোগিতার হাত যতই বাড়বে, কাজটাও তত সহজ হবে৷ মনে করেন হারাল্ড কিশলাট৷ তাঁর ভাষায়, ‘‘এটা কোনো সাহায্য সংস্থা ও ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের দ্বিপাক্ষিক কর্মকাণ্ড নয়, বলা যায় এটা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের একটা উদ্যোগ, যারা একত্রিত হয়ে পরস্পরের অভিজ্ঞতা থেকে শিখতে পারে৷''

বার্লিনের অবসরপ্রাপ্ত চিকিৎসক কারিন রিটার পিখল অনেক বছর ধরে ‘‘তৃতীয় বিশ্বের জন্য চিকিৎসক'' সংস্থাটির সঙ্গে যুক্ত৷ অবসর নেওয়ার পর তিনি অর্থবহ কোনো কাজ করতে চেয়েছিলেন৷ তাই প্রথমে তিনি ফিলিপিনস'এ ও পরে কেনিয়ার নাইরোবির কাছে এক জায়গায় সাহায্যের জন্য যান৷ ডা: রিটার পিখল জানান, ‘‘আমাদের চিকিৎসা কেন্দ্রে প্রতিদিন কয়েকশ মানুষ আসেন৷ আমরা সেখানে ছয় জন কাজ করি৷

medical team

আড়াই হাজারেরও বেশি চিকিৎসক নানা দেশে এ ধরনের প্রকল্পে কাজ করেছেন

মানুষ এত অসুস্থ যে, আমি পৃথিবীর আর কোথাও তা দেখিনি৷ বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই যক্ষ্মা সেই সাথে এইডস৷ আমাদের এইডস কর্মসূচিতে তাদের নেওয়া হয়েছে৷ সন্তানসম্ভবা নারীদের ওপর বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে, যাতে প্রসবের পরেই নবজাতদের চিকিৎসা করা যায়৷ এর ফলে এইডস'এ আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায় বাচ্চাদের৷''

২০১০ সাল থেকে ‘তৃতীয় বিশ্বের জন্য চিকিৎসক' সংস্থাটি সিয়েরা লেওনেতে কর্মতৎপরতা চালাচ্ছে৷ এমন একটি দেশ, যেখানে মাতৃ ও শিশু মৃত্যুর হার বিশ্বে সর্বোচ্চ৷ ২০১২ সালের মাঝামাঝি আরেকটি প্রকল্প চালু করা হবে দেশটিতে৷ সেখানেও সাহায্য সংস্থাটির সহযোগিতায় এগিয়ে আসবে জার্মান ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলো৷

প্রতিবেদন: রায়হানা বেগম

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল ফারূক