1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

তুলে নেওয়ার ৬ ঘণ্টা পর লাশ, ক্রসফায়ার আতঙ্কে অনেক পরিবার

গত ১০ দিনে চার জেলায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে অন্তত ১২ জনকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ বাংলাদেশে৷ সর্বশেষ পুলিশের পোশাকে চট্টগ্রামে ছাত্রদল নেতা নুরুল আলম নুরুকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ৬ ঘণ্টা পর তাঁর লাশ পাওয়া গেছে৷

বিএনপির সহযোগী সংগঠন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি নুরুল আলম নুরুকে তাঁর চট্টগ্রাম শহরের চন্দনপুরার বাসা থেকে পুলিশ পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বুধবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে৷ এঘটনার ছয় ঘণ্টার মাথায় তাঁর লাশ পওয়া যায় চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় কর্নফুলি নদীর তীরে৷ স্থানীয়রা লাশ পড়ে থাকতে দেখেন৷ পরিবারের সদস্যরা লাশের খবর পান সকাল ১১টার দিকে৷ এরপর বিকেল চারটার দিকে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে৷

তাঁকে যখন রাতে নিয়ে যাওয়া হয়, তখন অন্যান্যের মধ্যে ভাগ্নে রাশেদুল ইসলাম বাসায় উপস্থিত ছিলেন৷ তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘সাত-আট জন সিভিল পোশাকে ছিল আর দু-তিনজন ছিল পুলিশের পোশাকে৷ তাদের হাতে ছিল শট গান এবং চাইনিজ বন্দুক৷ তারা দরজা নক করে ঘরের ভিতরে ঢুকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই আমার মামাকে তুলে নিয়ে যায়৷''

তিনি বলেন, ‘‘এরপরই আমরা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করি, থানার ওসিকে জানাই৷ কিন্তু পুলিশ বিষয়টি অস্বীকার করে৷ তারা জানায়, পুলিশের কেউ তাঁকে তুলে নিয়ে যায়নি৷ পরে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে তাঁর লাশ পরে থাকার খবর পাই আমরা৷''

অডিও শুনুন 02:08

‘আমরা জানতে চাই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে যাঁদের তুলে নেয়া হচ্ছে, তাঁদের আসলে কারা তুলে নিচ্ছে’

তিনি আরো জানান, ‘‘নুরুর মাথায় তিনটি গুলির চিহ্ন আছে আর কাধে আছে জখমের চিহ্ন আছে৷ তাঁর হাত-পা দড়ি দিয়ে বাধা ছিল, মুখ ও চোখ বাধা ছিল ওড়না এবং জামা দিয়ে৷''

পরিবারের পক্ষ থেকে শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত মামলা করা হয়নি৷ পুলিশের দাবি, নুরুল আলম নুরু একাধিক মামলার আসামি৷ তবে ভাগ্নে রাশেদুল ইসলাম জানান, ‘‘যেহেতু তুলে নেওয়ার সময় পুলিশের পোশাক পরা লোকজন ছিল, তাই তদন্ত করে দেখা হবে ওরা আসলেই পুলিশের লোক কিনা৷ এমনটাই জানিয়েছে পুলিশের কর্মকর্তারা৷''

এদিকে ঢাকার বাংলা দৈনিক ‘প্রথম আলো' শুক্রবার এক প্রতিবেদনে জানায়, গত ১০ দিনে বাংলাদেশের চারটি জেলা থেকে একজন কলেজ অধ্যক্ষসহ অন্তত ১২ জনকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে৷ এরমধ্যে ঝিনাইদহে পাঁচজন, চট্টগ্রামে এক পরিবহন ব্যবসায়ী ও তাঁর দুই শ্যালক, নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলা থেকে তিন যুবক এবং রাজশাহীর বাগমারা থেকে এক ব্যক্তিকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়৷

এছাড়া কোটচাঁদপুর থেকে একটি কলেজের অধ্যক্ষকেও তুলে নেওয়া হয়৷ কোটচাঁদপুর পৌর কলেজের অধ্যক্ষ হুমায়ন কবিরকে বুধবার দুপুরে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে তাঁর পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছে৷

প্রথম আলোর খবরে আরো বলা হয়, ‘‘সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোর স্বজনেরা বলছেন, তাঁরা কোথাও নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান পাচ্ছেন না৷ থানায় খোঁজ নিতে গেলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হচ্ছে যে, এ বিষয়ে তাঁরা কিছুই জানে না৷'' পরিবারগুলোর সদস্যরা তাই এখন ক্রসফয়ার আতঙ্কে আছেন৷ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে অবশ্য এ সব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে৷

অডিও শুনুন 02:10

‘তারা ঘরে ঢুকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই তুলে নিয়ে যায়’

মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র শুক্রবার তাদের এক প্রতিবেদনে বলে, গত তিন মাসে সারাদেশে ক্রসফায়ারে অন্তত ৫৯ জন নিহত হয়েছেন৷ এরমধ্যে ৩১ জনই পুলিশের ক্রসফায়ারে নিহত হন৷ বাকিরা র‌্যাব ও ডিবিসহ অন্যান্য বাহিনীর ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছেন৷

এ সময়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে তুলে নেওয়া হয় ২৫ জনকে৷ এঁদের মধ্যে চারজন ফিরে এলেও, বাকিদের কোনো খবর পচ্ছেন না তাঁদের পরিবারের সদস্যরা৷

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক এ সব ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমরা একটা ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছি৷ এপ্রিল মাসেই আমরা সেটা গঠন করতে চাই৷ আমরা জানতে চাই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে যাঁদের তুলে নেয়া হচ্ছে, তাঁদের আসলে কারা তুলে নিচ্ছে?''

তিনি বলেন, ‘‘পুলিশের বিরুদ্ধে যখন অভিযোগ উঠছে, তাই পুলিশকেই এটা তদন্ত করে দেখতে হবে৷ আর পুলিশ জড়িত না থাকলেও কারা জড়িত, সেটাও পুলিশকে বের করতে হবে৷ কারণ নাগরিকদের নিরপত্তা দেোয়া তাদেরই কাজ৷''

ক্রসফায়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘সাধারণ মানুষের মধ্যে এই ক্রসফায়ার নিয়ে প্রশ্ন আছে৷ তাই প্রতিটি ঘটনার তদন্ত করা দরকার৷ তদন্তের মাধ্যমে সরকারকে জানাতে হবে ক্রসফায়ার যৌক্তিক ছিল কিনা৷ এটা বিশ্বাসযোগ্য হতে হবে৷ এছাড়া পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, ধরে এনে ক্রসফয়ার করার৷ তাই পুলিশকেও প্রত্যেকটি ঘটনার জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে৷''

প্রতিবেদনটি সম্পর্কে আপনার কিছু বলার থাকলে লিখুন নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়