1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

তুর্কি এবং আরব মেয়েদের ফুটবল প্রীতি

জার্মানির রাজধানী বার্লিনে অভিবাসীদের মধ্যে ফুটবলপ্রীতি চোখে পড়ার মত৷ প্রায় সবাই ফুটবলে মেতে রয়েছে৷ মেয়েরাও এগিয়ে রয়েছে ফুটবল খেলায়৷

default

জার্মানির মহিলা ফুটবলে জায়গা করে নিচ্ছে অনেক বিদেশী বংশোদ্ভুত নারী

বার্লিনে অভিবাসীদের মধ্যে রয়েছে পোলিশ, রুশ, তুর্কি এবং আরব বংশোদ্ভূত মানুষ৷ জার্মানিতে থাকার কারণেই হয়তো সবার মধ্যে ফুটবলের প্রতি দুর্বলতা জন্মে গেছে৷ শ্প্রে নদীর তীরে প্রায় প্রতিটি ফুটবল ক্লাবেই দেখা যায় দেশি-বিদেশি খেলোয়াড়দের ভিড়৷ এরমধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং সবচেয়ে বড় ‘তুর্কিয়েম' অর্থাৎ ‘আমার তুরস্ক' ফুটবল ক্লাব৷ এই ক্লাবে রয়েছে প্রায় চারশ' খেলোয়াড়৷ এরা এসেছে ২৫টি বিভিন্ন দেশ থেকে৷ এই দলে মেয়েরাও ফুটবল খেলছে৷ তবে অভিবাসী অনেক বাবা-মায়েরাই পছন্দ করছেন না মাঠে ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েরাও ফুটবল খেলুক৷ রক্ষণশীল পরিবার থেকে আসা মেয়েরা তারপরেও ফুটবলে মেতে থাকতে চায়৷

Albanien Frauen Fußball Tirana

আলবেনিয়ার জাতীয় দল

বার্লিনের শ্যোনেব্যার্গ এলাকা৷ এখানে অভিবাসীদের বসবাস বেশি৷ দশ-বারো জন মেয়ে ফুটবল খেলছে৷ বেশিরভাগই মেয়েই তুরস্ক অথবা আরব দেশের নাগরিক৷ জেসিকা মনসুর বলল, ‘‘আমার বাবা সবসময়ই ফুটবল খেলা নিয়ে হাসাহাসি করে৷ আমাকে ক্ষেপায়৷ বাড়ি ফিরলেই বলে, ‘এইতো এসে গিয়েছে আমাদের ফুটবলার! জানতে চাইছি, আমাদের ফুটবলারের আবার ট্রেনিং কবে?' আমার মাও এর বিরুদ্ধে৷ মা সরাসরি আমাকে নিষেধ করেন, ‘তুমি ট্রেনিং-এ যেতে পারবে না৷ বাড়িতে অনেক কাজ, এগুলো কি সব আমি একা করবো? এখন কোথাও যাওয়া চলবে না৷''

জেসিকা মনসুর যে ক্লাবে খেলছে, তার নাম ‘তুর্কিয়েমস্পর'৷ এই ক্লাবে মেয়েরাই খেলে৷ ১৭ বছরের জেসিকাকে তার শখের খেলা টিকিয়ে রাখতে প্রায়ই বাবা-মায়ের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়তে হয়৷ জেসিকার বান্ধবী তুর্কি বংশোদ্ভূত হুলিয়া কায়াও বলল একই কথা৷ কায়া জানাল তার সমস্যার কথা, ‘‘ব্যাপারটি এরকম: বাবা-মায়েরা মনে করে, একটি মেয়ে শর্ট্স পড়ে মাঠে দৌঁড়াচ্ছে – এটা ভাবা যায় না৷ এসব কিছুতেই মেনে নেওয়ার মতো নয়৷''

Bilder zum Frauenfußballcamp in Leipzig

লাইপজিগে মহিলা ফুটবল ক্যাম্পিং এ অংশ নেয় অনেক মুসলিম ফুটবলার

আরো মেয়ে ফুটবলার চাই – ট্রেনার দোগান

তেত্রিশ বছর বয়স্ক ফুটবল ট্রেনার মুরাদ দোগান জানান, ফুটবলে আগ্রহী মেয়ে খুঁজে পেতে তাঁকে ভীষণ বেগ পেতে হয়৷ তাঁর দলে সবসময়ই মেয়ে ফুটবলারের প্রয়োজন৷ জার্মান-তুর্কি বংশোদ্ভূত হয়েও প্রায় সব বাবা-মায়েরাই চায় তুর্কি সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য অনুযায়ী ছেলে-মেয়েদের বড় করতে৷ তিনি বললেন,‘‘ বাস্তব সত্য হল, বেশির ভাগ তুর্কি পরিবারই তুরস্কের আনাতোলিয়া থেকে এসেছে৷ ছোট ছোট গ্রাম থেকে তারা একেবারে সরাসরি বার্লিনের মত বিশাল এবং অত্যন্ত আধুনিক শহরে এসে পড়েছে৷ তাই খুব দ্রুত এদের কাছ থেকে তেমন কোন পরিবর্তন আশা করা উচিত নয়৷ পাঁচ, দশ বা কুড়ি বছরে কোন পরিবর্তন আসবে না৷ এই পরিবর্তন আসবে কয়েক প্রজন্ম পর৷ সমস্যা হল, একটি মেয়ে যখনই সাবালিকা হয়, তখনই রক্ষণশীল পরিবারের বাবা-মায়েরা মনে করে, মেয়ের বিয়ে দিয়ে দেওয়া উচিত৷ এসব বাবা-মাকে দোষ দেওয়া যায় না৷ এদের কাছে ফুটবল কখনোই গ্রহণযোগ্য মনে হবে না৷ সেই তুলনায় পড়াশোনা করা বা নিজেকে বিয়ের জন্য প্রস্তুত করাকেই অনেক বাবা-মা প্রাধান্য দেয়৷

ফুটবলের মাঠে বিদেশি বৈরিতা

তবে এসব মেয়েরা শুধু বাবা-মা বা পরিবারের সঙ্গেই দ্বন্দ্বে লিপ্ত নয়৷ অনেক ফুটবল দর্শক বা ফুটবলপ্রেমী রয়েছে, যারা জার্মান দলে বিদেশি খেলোয়াড় দেখতে চায় না৷ এরা সবসময়ই কটুক্তি করে৷ বিদেশি বৈরিতা ফুটবলের মাঠেও দাপিয়ে বেড়াচ্ছে৷ জেসিকা বলল, ‘‘বিপক্ষ দলের অনেক খেলোয়াড়ের বাবা-মা খেলা দেখতে আসে৷ আমরা ভাল খেললেই তখন তারা চিৎকার করে আমাদের অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে৷ আমরা কেন জার্মানিতে এসেছি, আমাদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়া উচিত – এসব৷ খেলার মাঝখানে না চাইলেও আমাদের এগুলো শুনতে হয়৷ তবে আমরা কোন ধরণের প্রতিবাদ করি না৷ আমরা বিদেশি, আমরা তুর্কি – সেজন্য আমরা গর্বিত৷ আমরা ভাল ফুটবল খেলি – সে জন্য তো বটেই! ''

প্রতিবেদন: মারিনা জোয়ারদার

সম্পাদনা: সঞ্জীব বর্মন

সংশ্লিষ্ট বিষয়