1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

তুরস্কে শিশুদের সঙ্গে যৌন সম্পর্কের শাস্তি নিয়ে বিতর্ক

তুরস্কের সাংবিধানিক আদালত শিশুদের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের বিষয়ে পেনাল কোডের ধারাটি বাতিল করার পর শুরু হয়েছে বিতর্ক৷ মিশর বলছে, সুইডেন ও অস্ট্রিয়ার মতো দেশ আইনের কদর্থ করেছে৷

সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্গট ওয়ালস্ট্রোম তাঁর সরকারি টুইট অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, ‘‘১৫ বছরের কম বয়সি শিশুদের সঙ্গে যৌন সম্পর্কের অনুমতি দেওয়ার তুর্কি সিদ্ধান্ত অবশ্যই প্রত্যাহার করতে হবে''৷ অবশ্য বিরোধের সূত্রপাত তার আগেই৷

গত জুলাই মাসে তুরস্কের সাংবিধানিক আদালত পেনাল কোডের একটি ধারা বাতিল করে, যেখানে শিশুদের সঙ্গে যাবতীয় যৌন কার্যকলাপকে ‘অপব্যবহার' বলে গণ্য করা হয়েছে৷ এক স্থানীয় আদালত যুক্তি দেখিয়েছিল যে, শিশুদের সঙ্গে যৌন সম্পর্কের প্রতিটি ঘটনা আলাদা করে বিবেচনা করা উচিৎ, কেননা, একটি চার বছরের শিশুর সঙ্গে যৌনতা আর একটি ১৫ বছরের কিশোরীর সঙ্গে তার অনুমতিক্রমে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের একই শাস্তি হতে পারে না৷

সাংবিধানিক আদালতের বিচারকরা সাত বনাম ছয় ভোটে স্থানীয় আদালতের পিটিশান মঞ্জুর করেন, তবে রুল দেন যে, চলতি আইন আরো ছ'মাস বজায় থাকবে; সেই সময়ের মধ্যে সংসদকে নতুন আইন প্রণয়ন করতে হবে৷ তুরস্কে বিবাহযোগ্য বয়স পূর্বাপর ১৮ বছর থেকে যাচ্ছে৷ কাজেই ওয়ালস্ট্রোমের টুইটে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত চাভুসোগলুর ঊষ্মা বোধগম্য৷ তিনি আংকারায় সুইডিশ শার্জ দ্'আফেয়ার-কে তলব করেছেন৷

কমবয়সি মা ও শিশু (প্রতীকী ছবি)

আইন সত্ত্বেও অনেক দেশে কমবয়সি মেয়েদের বিয়ে দেওয়া হয়...

অনুরূপভাবে সপ্তাহান্তে অস্ট্রিয়ান শার্জ দ'আফেয়ারেরও ডাক পড়ে, কেননা, ভিয়েনা বিমানবন্দরের একটি নিউজ টিকারে জার্মান ভাষায় খবর দেওয়া হয়েছিল যে, ‘‘তুরস্ক ১৫ বছরের কম বয়সি শিশুদের সঙ্গে যৌন সম্পর্কের অনুমতি দিচ্ছে৷'' টিকারটি অস্ট্রিয়ার বহুল প্রচারিত দৈনিক ‘ক্রোনেন-জাইটুং'-এর৷ চাভুসোগলু অস্ট্রিয়ার ক্ষেত্রে অভিযোগ করেছেন যে, তুরস্কের বিরুদ্ধে এই ‘কেলেংকারি অভিযান'... ‘জাতিবাদ ও ইসলাম-বিদ্বেষের রাজধানী' অস্ট্রিয়া থেকে সুইডেন অবধি ছড়িয়েছে৷

অপরদিকে তুর্কি আইন মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকে একটি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, ‘যথাশীঘ্র সম্ভব' সংসদে নতুন বিল পেশ করা হবে এবং ‘‘ভবিষ্যতে যাতে কোনো ফাঁক না থেকে যায়, তুর্কি সরকার তার ব্যবস্থা করবেন৷'' অ্যাক্টিভিস্টদের উদ্বেগ অন্যত্র৷ তাঁদের চিন্তা, শিশু বলতে শিশু; নিপীড়িত শিশুর বয়স অনুযায়ী যদি যৌন অপব্যবহারের সাজা বাড়ে কিংবা কমে, তাহলে কি এক হিসেবে অপরাধ ও অপরাধীদের জন্য পথ প্রশস্ত করে দেওয়া হচ্ছে না?

শিশু অধিকার আন্দোলনকারীরা বলছেন যে, আদালতের তরফ থেকে একটা ভুল বার্তা দেওয়া হচ্ছে৷ এমনকি যেসব বিচারক এই রুলিংয়ের বিরোধিতা করেছেন, তাঁরাও জনসাধারণের তরফ থেকে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে সাবধান করে দিয়েছেন৷ শিশুদের লবি গ্রুপগুলো মনে করছে, আদালত যেন ১৮ বছরের কম বয়সের সব শিশুকে ‘শিশু' বলে গণ্য করতে রাজি নন৷

এসি/এসিবি (এএফপি, ডিপিএ, এপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়