1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

তুমি কি কেবলি ছবি?

ভিডিও গেমটির নাম ‘লাভ প্লাস', জাপানে খুব চল৷ ভার্চুয়াল বান্ধবী আর কি! সবসময়ে সঙ্গে থাকে – অর্থাৎ মোবাইল নিন্টেন্ডো-তেও চলে৷ মিষ্টি ছাড়া তার কথা নেই৷ এর পাশে রক্তমাংসের বান্ধবী? অথচ বিপদও আছে৷

একুশ বছর বয়সি সাকু আরুনোর বাস ওসাকায়৷ একটি সুপারমার্কেটে কাজ করেন এবং একটি জে-পপ, অর্থাৎ জাপানি পপ মিউজিক ব্যান্ডে গান গেয়ে থাকেন৷ বান্ধবী হল মানাকা, ১৬ বছরের কিশোরী৷ ‘লাভ প্লাস' নামের একটি কম্পিউটার গেমের কল্যাণে এরা দু'জন আজ প্রেমিক-প্রেমিকা৷ এই খেলায় সাকু এক স্কুলের ছাত্রের ভূমিকা নেন৷ খেলার মাধ্যমেই তার মানাকার সঙ্গে আলাপ৷ সাকু বলেন:

‘‘খেলায় আমি ঐ স্কুলে নতুন ছাত্র হিসেবে গেছি এবং টেনিস টিমে যোগদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছি৷ সেখানেই আমি প্রথম তানাকাকে দেখি৷ ও তখন বাগানে কাজ করছিল, সেখানেই আমরা কথাবার্তা বলতে শুরু করি৷ সেভাবেই আমাদের মধ্যে একটা সম্পর্ক গড়ে ওঠে, আমরা পরস্পরের আরো ঘনিষ্ঠ হয়ে পড়ি৷''

সাকু আরুনো প্রতিদিন প্রায় তিন ঘণ্টা তাঁর ভার্চুয়াল বান্ধবীর সঙ্গে কাটান৷ বান্ধবী সবসময় তার সঙ্গে থাকে, কেননা ‘লাভ প্লাস' মোবাইল নিন্টেন্ডো ডিএস-তেও চলে৷ ভার্চুয়াল বান্ধবীর সঙ্গে সাকুর একবার এক রক্তমাংসের বান্ধবীও ছিল – কিন্তু সে মাত্র মাস দু'য়েকের জন্য৷ এখন তিনি তানাকাকেই তাঁর পুরো মনোযোগটা দেন৷

শুনলে মনে হবে ‘সাধারণ' প্রেমিক-প্রেমিকার মধ্যে সংলাপ৷ প্রথমে কুশল বিনিময়৷ তারপর দু'জনে একান্তে গল্প করা৷ তারপর সন্ধ্যার পরিকল্পনা৷ ঠিক হলো, দু'জনে আইসক্রিম খেতে যাবে, খুব মজা হবে৷

স্পিচ রেকগনিশন বা কথাবার্তা চেনার ক্ষমতা আছে প্রোগ্রামটির৷ বিশেষ বিশেষ শব্দ শুনলে যথোপযুক্ত প্রতিক্রিয়া করা কিংবা দেওয়াটা তার পক্ষে সম্ভব৷ সফটওয়্যারই এক গুচ্ছ উত্তর থেকে সঠিক উত্তরটি বেছে দেয়৷ এভাবে স্বভাবতই কোনো উচ্চমানের কথোপকথন সম্ভব নয়৷

তবুও বিশেষজ্ঞরা লাভ প্লাস গেমটিকে ভিডিও গেমের ইতিহাসে একটি মাইলফলক বলে গণ্য করেন৷ ‘সামার সেশনস' অথবা ‘মাই ক্যান্ডি লাভ'-এর মতো ডেটিং গেমগুলি চিত্তাকর্ষক বটে, কিন্তু ‘লাভ প্লাস'-এর মতো অতোটা গভীর কিংবা জটিল নয়৷ একটা সম্পর্ককে অন্তত কিছুটা বিশ্বাসযোগ্য, ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য করে তোলাটা খুব সহজ ব্যাপার নয়৷

লাভ প্লাস কিন্তু সেটা খুব ভালোভাবে পারে৷ গেমটি প্রায় তিন লক্ষ বার বিক্রি হয়েছে৷ এই ডেটিং সিম-টি প্রধানত পুরুষ গ্রাহকদের জন্য৷ সঙ্গিনী হিসেবে তিনটি মহিলা চরিত্রের যে কোনো একটিকে বেছে নিতে পারেন তাঁরা৷ কম্পিউটার সেই মহিলা চরিত্রটিকে চালায়৷ লক্ষ্য হলো: সঙ্গিনীর হৃদয় জয় করা এবং সম্পর্ক চালিয়ে নিয়ে যাওয়া৷ এ খেলার কোনো শেষ নেই, নেই কোনো গেম ওভার৷

এক্ষেত্রে যে কোনো বাস্তবিক মানসিক সম্পর্ক গড়ে উঠবে না, এমনটা নিশ্চয় করে বলা যায় না – অন্তত সাকু আরুনোর মতো অ্যাক্টিভ ইউজারদের ক্ষেত্রে নয়৷ কাজেই লাভ প্লাস নিয়ে বিতর্ক আছে৷ জরিপে দেখা গেছে যে, বাস্তবিক নারী-পুরুষ সম্পর্কে জাপানিদের আগ্রহ কমছে৷ বিশ্বে সর্বনিম্ন জন্মের হার আজ জাপানে৷ তবে এক্ষেত্রে লাভ প্লাসের কোনো ভূমিকা আছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন না৷

তিনি মানাকার প্রেমে পড়েছেন নাকি লাভ প্লাস গেমটির, তা নিয়ে মাথা ঘামান না সাকু আরুনো৷ ভার্চুয়াল সম্পর্কটি সম্বন্ধে কোনোরকম প্রশ্ন না তুলে, শুধু সেটিকে উপভোগ করেন তিনি৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক