1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

তুবা-র শ্রমিকদের চাকরি দেয়া হচ্ছে না, ফিরছেন গ্রামে

কর্তৃপক্ষ তুবা গ্রুপের পাঁচ প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করায় অনেক শ্রমিক কাজের অভাবে গ্রামে ফিরে যাচ্ছেন৷ তুবা গ্রুপে কাজ করেছেন বলে কেউ কেউ চাকরি পাচ্ছেন না বলেও জানিয়েছেন৷

‘‘বাড্ডা আর রামপুরায় দুইটা গার্মেন্টসে চাকরির চেষ্টা করছিলাম৷ কিন্তু তুবা গার্মেন্টসে কাজ করেছি শোনার পর তারা চাকরি দেয়নি৷ হাতে কোনো টাকাও নেই৷ যে টাকা পেয়েছিলাম বাকি শোধ করতেই শেষ৷ তাই বাধ্য হয়েই গ্রামের বাড়ি লালমনিরহাট ফিরে যাচ্ছি,'' কথাগুলো বলছিলেন তুবা গার্মেন্টসে কাজ করা শ্রমিক নার্গিস বেগম৷ তিনি বলেন, কাজ না পেয়ে ইতিমধ্যে তার পরিচিত অনেকেই বাড়ি চলে গেছেন৷ কোথাও কাজ পেলে তারা আবার ঢাকায় ফিরে আসবে৷

শুধু নার্গিস নয়, এখন সব শ্রমিকেরই একই অবস্থা৷ আলাপকালে রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘‘বাড্ডা ছাড়াও আশুলিয়া ও সাভার এলাকার কয়েকটি কারখানায় কাজের চেষ্ট করেছিলাম৷ কিন্তু তারা বলছে কাজ নেই৷ সিজন খারাপ৷ কি করব? কিছুই বুঝতে পারতেছি না৷ গ্রামে ফেরা ছাড়া উপায় নেই৷''

হঠাৎ নোটিশ টানিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য তুবা গ্রুপের ৫টি প্রতিষ্ঠান বুকশান গার্মেন্টস, তুবা ফ্যাশন, তুবা টেক্সটাইল, তাইফ ডিজাইন ও মিতা টেক্সটাইল বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ৷ এসব কারখানায় ১ হাজার ৪৫৬ জন শ্রমিক কাজ করতেন৷ দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা শ্রমিকদের ‘সার্ভিস বেনিফিট'সহ অন্যান্য পাওনা পাওয়া এখন অনিশ্চিত৷

গার্মেন্টস মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ-র একজন পরিচালক বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় কারখানাগুলো আর চালু হচ্ছে না৷ তাই কারখানাটি ১৩ (১) ধারা অনুযায়ী অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের নোর্টিশ দেয়া হয়েছে৷ নোটিশে বলা হয়েছে, বন্ধের ঘোষণা জুনের ১০ তারিখ থেকে কার্যকর হবে৷ সেই বিবেচনায় শ্রমিকরা ঈদ বোনাস থেকে বঞ্চিত হবে৷

শ্রম আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শ্রমিকদের সার্ভিস বেনিফিট, বোনাস, নোটিশ সময়ের পাওনা প্রায় ২ কোটি টাকা থেকে তাদের বঞ্চিত করার চেষ্টা চলছে৷

তুবা-র মালিক দেলোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের বলেছেন, শ্রমিকরা জুন মাসের ১০ তারিখ থেকে কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন৷ তারা মে মাসের বেতনের জন্য একটা সপ্তাহ ধৈর্য ধরতে পারলেন না৷ অথচ তখনো কারখানায় অনেক কাজের অর্ডার ছিল৷ এখন ১৩ (১) ধারা অনুযায়ী কারখানা বন্ধ করা ছাড়া আমার আর কোনো রাস্তা খোলা নেই৷

এদিকে বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম বলেছেন, বিজিএমইএ-র উদ্যোগে তুবা-র শ্রমিকদের একটি তথ্য ভাণ্ডার তৈরি করা হবে৷ এসব শ্রমিকদের চাকরি দিতে অন্য কারখানার মালিকদের কাছে তাদের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হবে৷ তবে শ্রমিকদের কাজে নেয়া না নেয়া মালিকের নিজস্ব সিদ্ধান্ত বলে জানান তিনি৷

তুবা গ্রুপ শ্রমিক সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক মোশরেফা মিশু ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘শ্রমিকরা প্রাপ্য বেতনের জন্য আন্দোলন করে ফৌজদারি অপরাধ করেননি৷ তারা তাদের প্রাপ্য টাকার জন্য আন্দোলন করেছে৷ এটা তাদের অধিকার৷ তাদের অন্য কারখানায় চাকরির ব্যবস্থা বিজিএমইএ'কেই করতে হবে৷ সেই ব্যবস্থা না করা পর্যন্ত এবং ন্যায্য পাওনা আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব৷'' তিনি বলেন, ‘‘তুবা-র মালিক দেলোয়ার হোসেনের অবিলম্বে জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠাতে হবে৷ কারণ সে একজন খুনি৷''

মোশরেফা মিশু বলেন, ‘‘আমরা আইনি লড়াই চালিয়ে যাব৷ কারখানা বন্ধের নোটিশ চ্যালেঞ্জ করে দুই এক দিনের মধ্যে শ্রম আদালতে মামলা করা হবে৷ শ্রম আইন অনুযায়ী, লে-অফ ঘোষণার জন্য যেসব শর্ত প্রয়োজন, তুবা এবং মালিক দেলোয়ারের ক্ষেত্রে তা খাটে না৷ দেলোয়ার গত কয়েক মাসে ৩৭ কোটি টাকার কাজ করেছেন৷ কেবল বিশ্বকাপ ফুটবল উপলক্ষ্যে অর্ডার সাপ্লাই করেছেন ২৬ কোটি টাকার৷ অথচ শ্রমিকদের ৪ কোটি টাকা দিচ্ছেন না৷''

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) সহকারী নির্বাহী পরিচালক সুলতান উদ্দিন আহমেদ বলেন, যে ধারায় মালিক প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করেছেন তা হলো শ্রমিকদের অবৈধ ধর্মঘটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়া৷ কিন্তু শ্রমিকরা বেতন না পাওয়ায় কাজ বন্ধ করেছে৷ সেজন্য তাদের ধর্মঘট অবৈধ নয়৷ ফলে মালিক অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানা বন্ধ করতে পারেন না৷ তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের মালিক শ্রমিকদের সব ধরণের পাওনা দিতে বাধ্য৷ তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী প্রত্যেক শ্রমিক নোটিশ পে বাবদ এক মাসের মূল বেতন এবং তিন বছরের জন্য তিন মাসের মূল বেতনের সার্ভিস বেনিফিট প্রাপ্য হবেন৷

এদিকে তুবার কারখানা বন্ধের নোটিশের প্রতিবাদে শুক্রবারও জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে কয়েকটি গার্মেন্টস শ্রমিক সংগঠন৷ এসব সমাবেশ থেকে কারখানা বন্ধের নোটিশকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে কারখানা খুলে দেয়ার দাবি জানানো হয়েছে৷ অন্যথায় লে-অফ ঘোষণা করলে আইন অনুযায়ী শ্রমিকদের সব পাওনা পরিশোধের দাবি জানানো হয়েছে৷ পাশাপাশি চলতি আগস্ট মাসের বেতন দেয়ারও দাবি জানানো হয়৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়