1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

তীরন্দাজ মাছ মানুষের মুখ চিনতে পারে

যা শুধু সর্বোচ্চ শ্রেণির স্তন্যপায়ী জীব ও পাখিরা পারে বলে ভাবা হতো৷ দেখা যাচ্ছে, মাছেরাও তা করতে সক্ষম, যদিও তাদের মস্তিষ্কের সংশ্লিষ্ট অংশটিই নেই৷

‘সায়েন্টিফিক রিপোর্টস' জার্নালে প্রকাশিত বিবরণ অনুযায়ী, বিজ্ঞানীরা আটটি আর্চার ফিশ বা তীরন্দাজ মাছ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন৷ তীরন্দাজ মাছেরা মুখটাকে পিচকিরির মতো করে জলের ফোয়ারা ছুঁড়ে দিতে পারে; যার ফলে জলের ওপর ঘাসপাতায় বসা পোকামাকড় ঘায়েল হয়ে জলে পড়ে ও মাছের শিকার হয়ে যায়৷

বিজ্ঞানীরা মাছি বা পোকামাকড়ের বদলে অ্যাকোয়ারিয়ামের ওপর ঝোলানো মনিটরে মানুষের মুখ দেখিয়েছেন: প্রথমে মাত্র দু'জন মানুষ, তাদের একজনকে চিনে, সেদিকে তাক করে জলের ‘তীর' ছুঁড়তে পারলেই মাছেরা পুরস্কার হিসেবে খাবার পায়৷ দেখা যায়, মাছেরা অতি তাড়াতাড়ি ব্যাপারটা রপ্ত করে ফেলে৷ এরপর তাদের ৪৪টি মুখ দেখিয়ে তার মধ্যে সেই পরিচিত মুখটি দেখানো হয়, যার দিকে ‘তীর' ছুঁড়তে পারলে তারা পুরস্কার পাবে৷ এবারেও মাছেরা শতকরা ৮০ ভাগ ক্ষেত্রে ঠিক মুখটি চিনে, জল ছুঁড়ে, তাদের পুরস্কার সংগ্রহ করে!

বিজ্ঞানীরা এবার রঙীন ছবির বদলে সাদা-কালো ছবি ব্যবহার করেন, মানুষগুলোকেও এমনভাবে বাছেন যে তাদের মাথার আকৃতি যেন একরকম হয়৷ তা সত্ত্বেও মাছেদের ‘লক্ষ্যভ্রষ্ট' করা যায়নি৷ কাজেই বিজ্ঞানীদের তরফে রিপোর্টের যুগ্ম-রচয়িতা, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের কেইট নিউপোর্ট বলতে বাধ্য হন, ‘‘এই মাছগুলো যে কতোটা চালাক-চতুর, তা দেখলে সাধারণ মানুষ অবাক হয়ে যাবেন৷''

তবে মানুষের মতোই, সব মাছেরা একই রকম চালাক-চতুর নয়: কোনো মাছ একবার ট্রেনিং দিলেই যা শিখে ফেলে, অন্য মাছেদের তা শিখতে ১৭ দিন অবধি সময় লেগে যায়৷ বলতে কি, মানুষের মুখ আলাদা করে চিনতে পারাটা খুব সহজ কাজ নয়৷ আগে ধরে নেওয়া হতো, এ কাজের জন্য বড় আকারের, জটিল মস্তিষ্ক প্রয়োজন৷ বিশেষ করে বিবর্তনের প্রক্রিয়ায় মস্তিষ্কের যে অংশটির সবার শেষে বিকাশ ঘটেছে, সেই নিওকর্টেক্স বস্তুত মাছেদের ক্ষেত্রে পুরোপুরি অনুপস্থিত৷ পাখিরা যে মানুষের মুখ চিনতে পারে, সেও তাদের মস্তিষ্কে নিওকর্টেক্স জাতীয় কাঠামো আছে বলে৷ তাহলে মাছেরা – অন্তত তীরন্দাজ মাছেরা সেই অসাধ্যসাধন করল কিভাবে?

বিজ্ঞানীরা বলছেন, মাছেদের মস্তিষ্ক সহজ-সরল বলে তাদের বুদ্ধি যে কম হবে, এমন কোনো কথা নেই৷ গবেষণা থেকে দেখা যাচ্ছে, মাছেরা আরো অনেক কিছু শিখতে পারে – যদিও তীরন্দাজ মাছ ছাড়া অন্য কোনো জাতের মাছ নিয়ে এই পরীক্ষা করে দেখা হয়নি৷ আরো কিছু প্রশ্ন থেকে যায়: মুখ চিনতে পারাটা একটি সহজাত ক্ষমতা, নাকি অর্জিত ক্ষমতা? আবার এমনও তো হতে পারে যে, মানুষের মুখাবয়ব জীবজগতে কোনো বিশেষ বস্তু নয়?

এসি/ডিজি (এএফপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন