1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ব্লগওয়াচ

‘তিনি সকল জাতিসত্তার সাংবিধানিক স্বীকৃতির পক্ষে ছিলেন'

প্রবীণ রাজনীতিবিদ, আওয়ামী লীগ নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে শেষ শ্রদ্ধা জানাচ্ছে দল-মত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষ৷ সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারেও আওয়ামী লীগের পাশাপাশি বিএনপি নেতারাও দেখা গেছে৷

জাতীয় সংসদে সাতবার সুনামগঞ্জের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করা সুরঞ্জিত পুরো সিলেট অঞ্চলেই রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের কাছে পরিচিত ছিলেন ‘দাদা' হিসেবে৷ আইন, বিচার ও সংসদ-বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত রোববার ভোর রাত ৪টা ১০ মিনিটে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান৷ বিকালে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় তাঁর কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা৷ সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া৷ এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘‘বাংলাদেশের জন্য সুরঞ্জিতের যে অবদান, তা কখনও ভোলার নয়৷ আমাদের রাষ্ট্র গঠনে তাঁর অনন্য ভূমিকা এ দেশবাসীর মনে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে৷ এই দুঃসময়ে প্রয়াত সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের মতো একজন বর্ষীয়ান নেতার পৃথিবী থেকে বিদায় নেওয়া দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক বড় ধরনের শূন্যতার সৃষ্টি হলো৷''


দুপুরে মির্জা ফখরুল ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে গিয়ে সুরঞ্জিতের কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি রাজনীতিতে তার অবদানের কথা স্মরণ করেন

সুরঞ্জির মৃত্যুর পর দুপুরে এক শোকবার্তায় এ কথা বলেন খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন সংগঠক হিসেবে রাজনৈতিক জীবনে দেশমাতৃকার মুক্তির জন্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত যে অবদান রেখেছেন তা জাতি কোনদিন ভুলবে না।' তাঁর মৃত্যুতে শোক ও শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও৷

কাওসার তাহমিদ তাঁর ফেসবুক পাতায় সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে মৌলিক অধিকারের সাংবিধানিক স্বীকৃতি আদায়ের অগ্রসৈনিক হিসেবে উল্লেখ করেছেন৷ তিনি লিখেছেন,‘‘গণপরিষদে সুরঞ্জিতের সরব উপস্থিতি মানবাধিকারের জন্য লড়াইয়ের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে আছে৷''  সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের মৃত্যূতে যে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে তা উল্লেখ করে তিনি লিখেছেন, ‘‘সুরঞ্জিত বাবু, আপনি চলে গেলেন, কিন্তু আজও রাষ্ট্র মৌলিক মানবাধিকারের নিকুচি করছে৷ রাষ্ট্র আইনের দোহাই দিয়ে নাঙা-ভুখার আর্তিতে নাক ডেকে ঘুমাচ্ছে৷ বিচার-বিভাগের স্বাধীনতা আজও এক তামাশা মাত্র৷

সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের প্রতি সেইদিন যথাযোগ্য সম্মান দেখানো হবে, যেদিন রাষ্ট্র মৌলিক মানবাধিকারের হন্তারক না হয়ে রক্ষাকবচ হবে৷''

গণমাধ্যমে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে নিয়ে লিখেছেন অনেক বিশিষ্ট সাংবাদিকক৷

 

নানা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে তাঁর বর্ণাঢ্য জীবনের বিভিন্ন দিক৷


 

ফেসবুক পাতায় ইমতিয়াজ মাহমুদ বাংলাদেশ গঠনের মৌলিক অবদানে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের অবদানের কথা লিখেছেন৷ তাঁর মতে,

সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত হচ্ছেন হাতে গোনা সেই ব্যক্তিদের একজন যারা বাংলাদেশ নামক দেশটি গঠনের জন্যে মৌলিক অবদান রেখেছেন৷ আমাদের দেশের সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগ, যেখানে রাষ্ট্রের মৌলিক নীতিমালাগুলি লেখা আছে, সেখানে একটু ভালো করে দেখলেই আপনি বুঝতে পারবেন কোন কোন বিধানগুলি সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের তৎপরতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে৷ তাঁর ব্যক্তিগত উদ্যোগ, উৎসাহ, দক্ষতা ও দৃঢ়তা না থাকলে সোশ্যালিস্ট ধরনের সেইসব মৌলিক ধারণা আমাদের সংবিধানে কি থাকতো? সম্ভবত থাকতো না৷''

সবশেষে তিনি লিখেছেন, ‘‘সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত আর কোনোদিনই জানবেন না, অনেক সমালোচনা ও রাজনৈতিক বিরোধের পরেও তাঁর প্রতি ইমতিয়াজ মাহমুদের অনেক অনেক কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসাও ছিল৷ একাকী লড়েছেন এই যোদ্ধা, আমাদের ইতিহাসে তাঁর অবস্থান উজ্জ্বল ছিল, উজ্জ্বলই থাকবে৷ বিদায়৷''

টুইটারে এস এম সুমন সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কাবেরী গায়েন সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সঙ্গে তাঁর কিছু স্মৃতির কথা উল্লেখ করেছেন৷ তিনি লিখেছেন, ‘‘

‘‘সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে আমি প্রথম দেখি সিপিবি অফিসে, ৭২-এর সংবিধান পুনঃপ্রবর্তনের দাবিতে আয়োজিত এক আলোচনাসভায়৷ তাঁর হাস্যরস অনেকের ভালো লাগলেও আমার কোনোদিন ভালো লাগেনি৷ তাজউদ্দিনের কথা বলার ভঙ্গি অনুকরণ করেছিলেন বলে আমি ভীষণ বিরক্ত হয়েছিলাম৷ কিন্তু সেই আলোচনাতেই তিনি মারাত্মক একটি তথ্য দিয়েছিলেন, যে কারণে এই রাজনীতিকের প্রতি আমার শ্রদ্ধা তৈরি হয়েছিল৷''

কাবেরী গায়েন আরো লিখেছেন, ‘‘বাংলাদেশের চূড়ান্ত সংবিধানে তিনি স্বাক্ষর করেননি৷ সই না করার একটি কারণ ছিল, ৭২-এর সংবিধানে তিনি সকল জাতিসত্তার সাংবিধানিক স্বীকৃতির পক্ষে ছিলেন৷ কিন্তু শুধু বাঙালি জাতীয়তাবাদ থাকার কারণে তিনি শুরু থেকেই বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে শেষতক আর সই করেননি৷ আমার খুব বিদগ্ধ বন্ধুদেরও বোঝাতে গলদ্ঘর্ম হতে হয় সকল জাতিসত্তার সাংবিধানিক স্বীকৃতির বিষয়টি এবং বলতে দ্বিধা নেই, আমি প্রায়শই ব্যর্থ হই৷ তিনি সেই ১৯৭২ সালেই যদি এ বিষয়ে লড়ে থাকেন এবং শুধু তাই নয়, ওতপ্রোতভাবে জড়িত থেকেও সংবিধানে সেইকালে স্বাক্ষর না করে থাকেন এই প্রশ্নে- শুধু সে কারণেই তিনি আমার কাছে শ্রদ্ধেয় হয়ে ওঠেন৷''

সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সমালোচনা প্রসঙ্গে লিখেছেন, ‘‘আমাদের দেশে ক্ষমতার রাজনীতিতে থেকে নিজেকে নিষ্কলুষ রাখা দুরূহ৷ তিনিও বিতর্কিত হয়েছেন৷ তাঁর যেসব বিষয় প্রশংসিত বা নিন্দিত হয়, আমি সেসবের বাইরে একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে, বাংলাদেশের সংবিধানের অন্যতম রচয়িতা হিসেবে এবং এদেশের সব জাতিসত্তার মানুষের সাংবিধানিক স্বীকৃতির একজন লড়াকু সৈনিক হিসেবে তাঁর মৃত্যুতে বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই৷''

পল্লব হোসেইন ফেসবুক পাতায় লিখেছেন, ‘‘ ‘দেশের প্রায় সব সংসদে যার প্রতিনিধিত্ব ছিল, প্রথম সংবিধান প্রণয়ন এবং পরে দফায় দফায় পরিবর্তিত সংবিধানকে ৭২-এর চেহারায় ফিরিয়ে আনতে যার ছিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা, সেই সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের শেষ বয়সের স্বল্পমেয়াদী মন্ত্রিত্বের অভিজ্ঞতা পরিণত হয়েছিল তিক্ততায়৷ ষাটের দশকে স্বাধিকারের দাবিতে উত্তাল বাংলাদেশে বাম ধারার রাজনীতিতে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের পদার্পণ৷ দুই দশক আগে আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়ার আগ পর্যন্ত একাত্তরের রণাঙ্গনের এই মুক্তিযোদ্ধা পরিচিত ছিলেন ‘ছোট দলের বড় নেতা' হিসেবে৷


স্বাধীন বাংলাদেশে তিনি সাতবার জাতীয় সংসদে সুনামগঞ্জের দিরাইয়ের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করেছেন৷ মৃত‌্যুর সময় ছিলেন আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি৷''

সংকলন: অমৃতা পারভেজ

সম্পাদনা: আশীষ চক্রবর্ত্তী

 

নির্বাচিত প্রতিবেদন