1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

তানজানিয়ায় জীবন বাঁচাতে এসএমএস

ম্যালেরিয়া রোগ প্রতিরোধে এবার ব্যবহার করা হচ্ছে মোবাইল ফোন৷ তানজানিয়া ম্যালেরিয়া রোগ প্রতিহত করতে হাতে নিয়ে একটি প্রকল্প৷ নাম দেয়া হয়েছে এসএমএস ফর লাইফ৷

default

তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডাব্লু বুশ তানজানিয়া সফরকালে ম্যালেরিয়া প্রতিরোধের উদ্যোগ সম্পর্কে আগ্রহ দেখিয়েছিলেন

এই প্রকল্পের সাহায্যে এগিয়ে এসেছে ওষুধ কোম্পানি নোভার্টিস, মোবাইল সেবাপ্রদানকারী সংস্থা ভোডাফোন এবং কম্পিউটার নির্মাতা আই বি এম৷

আফ্রিকা মহাদেশে ম্যালেরিয়া প্রতিরোধ করতে সরকার থেকে শুরু করে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা অর্থাৎ এনজিও কাজ করে যাচ্ছে দশকের পর দশক ধরে৷ ম্যালেরিয়ার ওষুধ বের হয়েছে অনেক আগেই কিন্তু সেসব ওষুধপত্র সুলভে কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না৷ পরিবহন একটি বড় সমস্যা এর সঙ্গে রয়েছে বিভিন্ন অস্বাস্থ্যকর হেল্থ সেন্টার৷ এসব সেন্টারে রোগীদের চিকিৎসা করা হয় কিন্তু কোন্ ওষুধ কি পরিমাণে আছে বা কোন্ ওষুধটি নেই তার সঠিক হিসাব কেউই জানেনা৷

তানজানিয়ায় ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাজার হাজার মানুষ মারা যাচ্ছে প্রতি বছর৷ বিশেষ করে গ্রামে এ মৃত্যুর হার অনেক বেশি৷ এর মূল কারণ হল গ্রামে যে সব হেল্থ সেন্টার বা ক্লিনিক থাকে সেগুলো ভালভাবে রোগীদের চিকিৎসা করতে সক্ষম নয়৷ যে সমস্যা চিহ্নিত করা হয়েছে তার নাম ‘স্টক আউট' অর্থাৎ কোন ওষুধ নেই বা মজুদ ওষুধ শেষ৷ তানাজনিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডঃ ডেভিড মোয়াকিউসা এ সমস্যা সম্পর্কে বেশ ভালভাবেই অবহিত৷ তিনি জানালেন, ‘‘এই সমস্যার কথা আমাকে সংসদে যেয়েও শুনতে হয়– ‘প্রয়োজনীয় ওষুধ শেষ'৷ আমাদের একটি সংস্থা রয়েছে যাদের কাজ বিদেশ থেকে ওষুধ দেশে আমদানি করা৷ সেই সংস্থার হাতেই দায়িত্ব থাকে ওষুধ স্টক করে রাখার এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধ পত্র বিলি করার৷ সবাইকে হাতে হাতে ওষুধ দেওয়া হয় না৷ ওষুধ বিতরণ করা হয় জেলা পরিষদে, হাসপাতালগুলোতে এবং ওষুধের দোকানগুলোতে৷ তবে গ্রাম পর্যায়ে হাসপাতাল এবং ডিসপেন্সারিতেওষুধ পত্র বিতরণের দায়িত্বে থাকে জেলা পরিষদের সদস্য৷ ''

জানানো হয়েছে, জেলা পরিষদের সদস্য কখনোই জানতে পারেন না তার এলাকায় কোন্ কোন্ ওষুধগুলো মজুদ রয়েছে৷ প্রায়ই দেখা গেছে একটি হেল্থ সেন্টারে যদি সব ধরণের ওষুধ এক শিশি বা এক পাতা করেও থাকে পাশের হেল্থ সেন্টারে কোন ওষুধই নেই – একেবারে ফাঁকা৷ রোগী আসছে কিন্তু ওষুধের অভাবে চিকিৎসা হচ্ছে না৷ ফোন বা ইন্টারনেট না থাকায় প্রয়োজনীয় ওষুধের জন্য কোন সংবাদও পাঠানো যাচ্ছে না৷

প্রকল্পের শুরু যেভাবে

তানজানিয়ায় এক্ষেত্রে আশার আলো দেখিয়েছে মোবাইল ফোন৷ মোবাইল ফোনের সাহায্যে প্রতিটি হেল্থ সেন্টার, এবং হাসপাতালের অষুধের প্রয়োজনীয়তা জানা এবং দ্রুত ওষুধ পাঠানোর ব্যবস্থা করা যেতে পারে৷ এ লক্ষ্যে হাতে নেওয়া হয়েছে একটি প্রকল্প – নাম এসএমএস ফর লাইফ অর্থাৎ জীবনের জন্য এসএমএস৷ একটি এসএমএস পাঠানো হলে সঙ্গে সঙ্গে তা ন্যাশনাল ম্যালেরিয়া কন্ট্রোল প্রোগ্রামের কাছে পৌঁছে যাবে৷ এই প্রকল্পের মূল উদ্যাক্তা জিম ব্যারিংটান৷ তিনি বললেন, ‘‘ দু বছর আগে এই বুদ্ধিটি আমার মাথায় আসে৷ তখন আমি নোভার্টিসের চিফ ইনফরমেশন অফিসার৷ আমাদের একটি আইটি কনফারেন্স চলছিল৷ আমরা সিলভিও গ্যাব্রিয়েলকে আমন্ত্রণ করি৷ তিনি ম্যালেরিয়া ইনিশিয়েটিভ গ্রুপের প্রধান ছিলেন৷ তিনি বক্তব্য শেষ করেন এই বলে যে – আমরা প্রতি বছর ৬০ থেকে ৭০ লক্ষ মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য ওষুধ সরবরাহ করে থাকি কিন্তু তারপেরও প্রতিদিন তিন হাজার মানুষ ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে৷ একজন আইটি বিশেষজ্ঞ হয়ে যে বিষয়টি আমার মাথায় কিছুতেই ঢুকছিল না তা হল – নিরাময়ের জন্য ওষুধ থাকতেও কেন মানুষ মারা যাচ্ছে ?''

সাহায্য সহযোগিতা চারপাশ থেকে

ম্যালেরিয়া প্রতিরোধে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রকল্পের নাম ‘রোল ব্যাক ম্যালেরিয়া' অর্থাৎ ম্যালেরিয়াকে হটিয়ে দেওয়া৷ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এই প্রকল্পকে বাস্তবায়ন করতে তিনটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এগিয়ে এসেছে৷ আন্তর্জাতিক ওষুধ কোম্পানি নোভার্টিস, মোবাইল ফোন সেবা প্রদানকারী সংস্থা ভোডাফোন এবং কম্পিউটার নির্মাতা কোম্পানি আই বি এম৷

তানজানিয়ায় মৃত্যুর অন্যতম কারণ হিসেবে ম্যালেরিয়াকে চিহ্নিত করা হয়েছে৷ আফ্রিকায় প্রতি পাঁচ জন শিশুর মধ্যে একটি শিশু ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যায়৷ জিম ব্যারিংটন এবং তার অন্যান্য সহকর্মীরা আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন এই রোগ প্রতিরোধ করতে৷ প্রায় এক বছর সময় লেগেছে প্রকল্পটি দাঁড় করাতে ৷ মোবাইল ফোনে দেখা যাবে এমনভাবেই তৈরি করা হয়েছে ম্যাপ, মোবাইল ফোনে আসবে মূল তথ্য কেন্দ্র থেকে ওষুধ সংক্রান্ত নানা খবর৷ এর সঙ্গে রয়েছে বিভিন্ন ট্রেনিং প্রোগ্রাম৷ এই পাইলট প্রকল্পের অধীনে রয়েছে প্রায় ১০০ টি হেল্থ সেন্টার এবং হাসপাতাল৷ তিনটি জেলার ২২৬ টি গ্রাম প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে৷

প্রতিবেদন: মারিনা জোয়ারদার
সম্পাদন: আবদুল্লাহ আল-ফারূক

সংশ্লিষ্ট বিষয়