1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

তাদের হাতে খুন-গুম কি কমবে?

নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা নূর হোসেন এবং নারায়ণগঞ্জে র‌্যাবের তখনকার কমান্ডিং অফিসার (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারেক সাঈদ মাহমুদসহ ২৬ জনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত৷

এদের মধ্যে র‌্যাবের সদস্য মোট ১৭ জন, বাকিরা নূর হোসেনের সহযোগী৷ এই ১৭ জন র‌্যাব সদস্যের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের সময় ২০১৪ সালে নারায়ণগঞ্জ র‌্যাবের সিও লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারেক সাঈদ মাহমুদ ছাড়াও, মেজর আরিফ হোসেন ও লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মাসুদ রানাও রয়েছেন৷ বকিরা র‌্যাবের নিম্ন পদস্থ কর্মকর্তা৷

তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের তৎকালীন কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা নজরুল ইসলামসহ সাতজনকে অপহরণ ও হত্যা করে৷ ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদী থেকে তাঁদের লাশ উদ্ধার করা হয়৷ নজরুল ইসলামের প্রতিপক্ষ আরেক কাউন্সিলর এবং আওয়ামী লীগে নেতা নূর হোসেন বিপূল পরিমাণ টাকার বিনিময়ে র‌্যাবকে দিয়ে সাতজনকে হত্যা করায়৷

রায় দেয়ার পর আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘‘এই অপরাধে যে নৃশংসতার পরিচয় দেওয়া হয়েছে তার প্রমাণ আদালত পেয়েছে৷ আমি মনে করি, সঠিক রায় হয়েছে৷ এই রায়ে জনগণ সন্তুষ্ট হবে৷ অপরাধী যেই হোক, তার শাস্তির বিষয়ে মানুষের মন থেকে ভীতি দূর হবে৷''

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, ‘‘যেই অপরাধ করুক না কেন, কেউ রক্ষা পাবে না – নারায়ণগঞ্জের সাত খুন মামলার রায়ে তা নিশ্চিত হয়েছে৷ দেশ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হয়েছে বলেই, আইনের ফাঁকফোকর থাকলেও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও এই মামলা থেকে রেহায় পায়নি৷''

তবে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক নূর খান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘এই রায়ের মধ্য দিয়ে এটা প্রমাণিত হলো যে, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে ভাড়াটে খুনি আছে৷ এছাড়া নারায়ণগঞ্জের ঘটনা প্রথম নয়৷ এর আগে এবং পরে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের হাতে আমরা হত্যা, গুম আর নির্যাতনের কয়েকশ' অভিযোগ পেয়েছি৷ সুতরাং এই রায়ের মধ্য দিয়ে হয়ত সাধারণ মানুষ প্রতিকার চাইতে আগের চেয়ে সাহসী হবে, তবে পরিস্থিতির অবসান ঘটবে বলে আমরা মনে হয় না৷''

তিনি আরো বলেন, ‘‘আমরা দীর্ঘদির ধরে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশনের দাবি জানিয়ে আসছি৷ যারা স্বাধীনভাবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে প্রতিটি হত্যা, গুম ও নির্যাতনের ঘটনা তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বা নেয়ার সুপারিশ করবে৷ তা না হলে পরিস্থিতির উন্নতি আশা করা যায় না৷''

অডিও শুনুন 02:29

‘ব়্যাব শুরু থেকে ব্যবস্থা নিয়ে সাতজনকে প্রাণ হারাতে হতো না’

নূর খানের কথায়, ‘‘এটা মনে রাখতে হবে যে, র‌্যাব নরায়ণগঞ্জের ঘটনায় শুরুতেই যদি কার্যকর ব্যবস্থা নিত তাহলে হয়ত এই সাতজনকে প্রাণ হারাতে হতো না৷ কারণ র‌্যাব সদস্যরা অপহরণের ১০ ঘণ্টা পর তাঁদের হত্যা করে৷''

ওদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও অপরাধ বিজ্ঞানের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘যারা নাগরিকদের জান-মাল রক্ষার দায়িত্বে, তারাই টাকার বিনিময়ে হত্যা করেছে৷ এর চেয়ে জঘন্য আর কী হতে পারে? এই রায়ের মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জের ঘটনার হয়ত ন্যায়বিচার পাওয়া গেল৷ কিন্তু আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ভিতরে যে চরম বিচ্যুতি দেখা দিয়েছে, তার অবসান এত সহজে হবে না৷''

তিনি আরো বলেন, ‘‘দুর্বৃত্তায়নের ক্ষেত্রে রাজনীতি, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এবং অপরাধীদের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় যে সম্পর্ক তা গভীর৷ এটার অবসান না হলে স্বস্তি আসবে না৷''

তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মনে করেন, ‘‘এ ঘটনার মধ্য দিয়ে র‌্যাব আরও শক্তভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে৷ যারা বিপদগামী হয়েছে তারা নিজের সিদ্ধাতেই বিপদগামী হয়েছে৷ প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এর দায় র‌্যাবের ওপর বর্তায় না৷''

অডিও শুনুন 03:03

‘এর মধ্য দিয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীতে চরম বিচ্যুতি দেখা গেছে’

আসক-এর প্রতিবেদন অনুসারে ২০১৩ সাল থেকে গত বছরের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ২৮৪ জন গুম হন৷ ২০১৬ সালের নভেম্বর পর্যন্ত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে যে ৯৩ জনকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তার মধ্যে এখনও নিখোঁজ ৫৭ জন৷ লাশ হয়ে ফিরেছেন ১১ জন৷

প্রসঙ্গত, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা টাকার বিনিময়ে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে এই প্রথম মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হলো৷ শুধু তাই নয়, শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিবেচনাতেও বাংলাদেশে এই প্রথম এত বড়মাপের কর্মবর্তাদের বিরুদ্ধে মৃত্যদণ্ডের রায় হলো৷

বন্ধু, এ বিষয়ে আপনার কিছু বলার থাকলে লিখুন নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়