1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

আলাপ

‘তরুণ শিক্ষার্থীদের একাংশই জঙ্গি তৎপরতার দিকে ঝুঁকছে’

বাংলাদেশে ইসলামিক স্টেট আছে কি নেই – তা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও জঙ্গিদের নতুন রূপ আর কৌশল নিয়ে বিতর্ক নেই৷ তারা যে এখন মাদ্রাসার ছায়া থেকে বের হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, তা স্বীকার করছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারীরা৷

Bangladesch Aktivist Hizb-ut-Tahrir Dhaka Zusammenstöße Polizei

ফাইল ফটো

২০১৩ সালে ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দার হত্যায় গ্রেপ্তার হয় নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির বা এনএসইউ-এর পাঁচ ছাত্র৷ তারা হলো, ফয়সাল বিন নাইম দীপ, মাকসুদল হাসান অনিক, এহসান রেজা রুম্মান, নাঈম শিকদার ইরাদ ও নাফিস ইমতিয়াজ৷ তাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়৷ এরা সকলেই ছিল আনসারুল্লাহ বাংলাটিমের সদস্য৷

সে সময় নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য মো. আবদুস সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, ‘‘এক শ্রেণির শিক্ষক ও কর্মকর্তা কতিপয় শিক্ষার্থীকে জঙ্গিবাদে জড়াতে মগজধোলাই করছেন৷''

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বা বুয়েট-এর ছাত্র মোহাম্মদ নুরউদ্দনি এবং আবু বারাকাত মোহাম্মদ রফকিুল হাসানকে বুয়েট থেকে বহিষ্কার করে পুলিশে দেয়া হয় সেপ্টেম্বর মাসে৷

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার এবং জঙ্গি বিষয়ক বিশেষ সেলের সদস্য সানোয়ার হোসেন ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমাদের পর্যবেক্ষণ বলছে বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ শিক্ষার্থীদের একাংশ এখন জঙ্গি তৎপরতার দিকে ঝুঁকছে৷ আর যারা অপারেশনে অংশ নিচ্ছে, তারাও বয়সে তরুণ এবং ছাত্র৷''

সানোয়ার হোসেনের কথার সত্যতা পাওয়া যায় ঢাকায় নিহত ব্লগার নিলয় নীলের স্ত্রী আশামনির কথায়৷ তিনি ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘যারা নীলকে হত্যা করেছে তারা বয়সে তরুণ এবং দেখে কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বলেই মনে হয়েছে৷ তারা জিন্সের প্যান্টসহ আধুনিক পোশাক পরা ছিল৷''

বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন হিযবুত তাহরীরের প্রধান মহিউদ্দিন আহমেদ ঢাকা বিশ্ববদ্যিালয়ের আইবিএ-র শিক্ষক ছিলেন৷ ২০১০ সালে তাকে গ্রেপ্তার করা হলেও পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান৷ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষক সৈয়দ গোলাম মাওলা হিযবুত তাহরীর বাংলাদেশের সমন্বয়ক৷ তিনিও গ্রেপ্তার হওয়ার পর জামিনে ছাড়া পান৷

নিষিদ্ধ হলেও প্রায় প্রকাশ্যেই তৎপরতা চালাচ্ছে জঙ্গি তৎপরতার অভিযোগে নিষিদ্ধ এই সংগঠনটি৷ তাছাড়া বাংলাদেশের প্রায় প্রত্যেকটি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বড় বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তারা তৎপর৷ ছাত্ররাই হচ্ছে এই সংঠনের মূল শক্তি৷ প্রায়শই ঝটিকা মিছিল এবং লিফলেট বিতরণসহ নানাভাবে তৎপর তারা৷ গতমাসে তারা ৪১ জন বিচারপতিকে হুমকিও দেয় ‘ইসলামের পথে' আসার জন্য৷ একই মাসে তারা অনলাইন সম্মেলনও করেছে৷

উপ-পুলিশ কমিশনার সানোয়ার হোসেন জানান, ‘‘তরুণদের একাংশ এখন ছোট ছোট গ্রুপে সক্রিয়৷ তারা ফেসবুক বা অন্য কোনো সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমের সহায়তায় এই গ্রুপগুলো গঠন করে৷ নিজেদের মধ্যে তথের আদান-প্রদান করে৷ তাদের প্রত্যেক গ্রুপই আলাদা৷ তারা মূলত অনলাইনে নানা টেক্সট এবং ভিডিও দেখে উদ্ধুদ্ধ হয় এবং পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে৷ বলা বাহুল্য, এদের চিহ্নিত করাও বেশ কঠিন৷''

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘জঙ্গিরা ছদ্মনাম ব্যবহার করে ফেসবুক ও জিমেল অ্যাকাউন্ট খুলে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করে৷ হাজার হাজার ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট, ওয়েবসাইট রয়েছে – যেগুলো ব্যবহার করে জঙ্গিরা সংঘঠিত হওয়ার চেষ্টা করেছে, তৈরি করছে জঙ্গি নেটওয়ার্ক৷''

Bangladesch Aktivist Hizb-ut-Tahrir Dhaka Zusammenstöße Polizei

জঙ্গিরা নানা নামে এবং ব্যানারে নুতন করে তৎপরতা চালাচ্ছে, মনে করে পুলিশ

বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর অফিসিয়াল আইটি কনসালটেন্ট তানভীর হাসান জোহা ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমরাও বিষয়টি দেখছি৷ এ পর্যন্ত আমরা এক ব্যক্তির ৫০০ ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্টও পেয়েছি৷ এই সব ভুয়া অ্যাকাউন্ট থেকে জঙ্গি তৎপরতাসহ তথ্য আদান-প্রদান করা হয়ে থাকে৷ এছাড়া ছোট ছোট জঙ্গি গ্রুপ ওয়ার্ডপ্রেস-এ ব্লগ সাইট খুলে কিছু দিন তৎপরতা চালিয়ে বন্ধ করে দিয়ে, আবার নতুন আরেকটি সাইট খোলে৷''

২০০৫ সালের পর থেকে বাংলাদেশে মোট ছয়টি জঙ্গি সংগঠন নিষিদ্ধ করা হয়৷ এগুলো হলো – জামাআতুল মুজাহেদীন বাংলাদেশ (জেএমবি), জাগ্রত মুসলিম জনতা বাংলাদেশ (জেএমজেবি), হরকাতুল জিহাদ, শাহদাতই আল-হিকমা এবং হিযবুত তাহরীর এবং আনসারুল্লাহ বাংলা টিম৷ এ পর্যন্ত পুলিশ ও র‌্যাব বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের প্রায় ৩ হাজার সদস্য আটক করলেও, তাদের বড় একটা অংশ জামিনে ছাড়া পেয়ে নতুনভাবে তৎপর৷

অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার সানোয়ার হোসেন বলেন, ‘‘জঙ্গিরা নানা নামে এবং ব্যানারে নুতন করে তৎপরতা চালাচ্ছে৷ তারা এখন আধুনিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করছে৷''

অন্যদিকে, যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম মনে করেন, ‘‘অনেকটা ‘হিরোইজম' এবং জঙ্গিদের টেক্সট ও ভিডিও-র সহজলভ্যতার কারণে ছাত্রসহ তরুণদের একাংশ এখন জঙ্গি তৎপরতায় জড়িয়ে পড়ছে৷'' তিনি জানান, ‘‘এ কারণে আমরা এখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নজরদারি বাড়িয়েছি৷''

আপনার কি কিছু বলার আছে? লিখুন নীচের মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়