1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি ইউরোপ

তথ্য সুরক্ষার অধিকার নাকি সংবাদের স্বাধীনতা?

আমার প্রতিবেশী কিংবা বাচ্চাদের শিক্ষক কি কখনও আদালতের সম্মুখীন হয়েছিলেন? সুইডেনের একটি অনলাইন-পোর্টালে এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাচ্ছে৷ সুইডেনের মতো ‘স্বচ্ছতাপ্রবণ’ দেশেও বিষয়টিকে বাড়াবাড়ি বলে মনে করছেন অনেকে৷

default

‘লেক্সবেস' ওয়েবসাইটে গিয়ে এক ক্লিকেই সব জানা যায়

শুরু হয়েছে সমালোচনা

সমালোচকরা বলেন এ হলো আধুনিক যুগের ‘পিলার', অর্থাৎ কাঠের কাঠামো, যার মধ্যে প্রাচীনকালে অপরাধীর হাত ও মাথা ঢুকিয়ে বিদ্রুপ করা হতো৷ আর পোর্টালের আয়োজকরা একে বলেন সংবাদের স্বাধীনতা৷

প্রতিবছর মে মাসের প্রথম দিকে সুইডেনে শেষ করতে হয় এই কাজটা৷ তা হলো আয়করের বিবরণ পেশ করা৷ অল্প কিছুদিন পরেই খবরের শিরোনাম হয়ে দেখা দেয় বিত্তশালীদের তালিকা৷ বিশেষ করে ‘হলুদ' সংবাদপত্রগুলি লুফে নেয় এইসব খবর৷

‘এরাই হলেন শীর্ষ উপার্জনকারী' কিংবা ‘সুইডেনের সবচেয়ে ধনী নাগরিক' ইত্যাদি ইত্যাদি৷ বিশেষ করে রাজনীতিবিদ, খোলোয়াড়, ম্যানেজার কিংবা খ্যাতনামা লেখকদের ব্যাপারে উত্সাহী এই সব পত্র-পত্রিকা৷ এইসব তথ্য সুইডেনের প্রত্যেক মানুষই পেতে পারে৷ ট্যাক্স অফিসে একটি ফোনই যথেষ্ট৷ এই নিয়ে কেউ তেমন মাথা ঘামায় না বা উত্তেজিত হয় না৷ বরং অনেকে এই স্বচ্ছতাকে ভালোই মনে করে৷ সব বিষয়ে জনগণের সম্পৃক্তি সুইডেনের সমাজে একেবারে মজ্জাগত৷ রাষ্ট্রও এ ব্যাপারে দায়বদ্ধ৷

সরকার ও কর্তৃপক্ষের সব ধরনের কার্যকলাপ, যদি কোনো কারণে গোপন করতে না হয়, তাহলে সবাই তা দেখতে বা জানতে পারে৷ এতে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের সুযোগ থাকে কম৷

শেষ সীমায় পৌঁছেছে

তবে এখন মনে হচ্ছে এই স্বচ্ছতা যেন শেষ সীমায় এসে পৌঁছেছে৷ কারণ কয়েক মাস আগে ‘লেক্সবেস' নামে একটি বাণিজ্যিক ইন্টারনেট সার্ভিস শুরু হয়েছে৷ এখানে একটি ক্লিক দিয়েই দেখা যায়, কোনো সহকর্মী, আত্মীয় বা প্রতিবেশী কোনো মামলায় জড়িয়ে পড়েছিলেন কিনা৷ কিংবা দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন কিনা৷ সার্চে শুধু তাঁদের নামটি দিলেই হলো৷ ‘লেক্সবেস' খোঁজাখুঁজিটা আরো সহজ করে দিয়েছে:

মানুষ নিজের বসবাসের এলাকা ক্লিক করলেই লাল দাগ দেখিয়ে দেবে সম্ভবত সাজা ভোগ করা কোনো ব্যক্তি আশেপাশে বসবাস করছে৷ তবে পয়সা না ছাড়লে এসব তথ্য পাওয়া যাবে না৷

প্রথমে আট ইউরোর মতো দিতে হবে সার্ভিসকে৷ তারপরই জানা যাবে প্রতিবেশী কর ফাঁকি দিয়েছেন কিনা, কিংবা মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালিয়েছেন কিনা৷ আরো সাংঘাতিক হলো, যৌন-অপরাধে জড়িয়ে পড়েছিলেন কিনা৷

মধ্যযুগীয় অবস্থা?

লেক্সবেস এই তথ্য সরবরাহ শুরু করার পর থেকে সমালোচনাও শোনা যাচ্ছে অনেক৷ বলা হচ্ছে, আমরা কি সেই গহিন মধ্যযুগে ফিরে যাচ্ছি, যেখানে অপরাধীকে গির্জার সামনে সাজা দেওয়ার কাষ্ঠস্তম্ভের কাছে আনা হতো? জনসাধারণ থুতু ছিটাতো? বলেন সুইডেনের আইনজীবীসমিতির বেঙ লাভারসন৷ তাঁর মতে, একবিংশ শতাব্দীর প্রারম্ভে এই ধরনের পরিস্থিতি মেনে নেওয়া যায়না৷

যে কয়েক হাজার সুইডিশের নাম ‘লেক্সবেস'-এ খুঁজে পাওয়া যায়, তার মধ্যে রয়েছে ৩৪ বছর বয়সি ইওনাস ক্লিন্টেব্যার্গের নামও৷ দোকানে ডাকাতি করার কারণে দুই বছরের মতো কারা ভোগ করতে হয়েছিল তাঁকে৷ টিনএজ বয়স থেকেই মাদক নেওয়া শুরু করেন ইওনাস৷ গভীর সংকটে পড়ে আক্রান্ত হন ডিপ্রেশনে৷ এরপর সবকিছুই মাদককে ঘিরেই চলতে থাকে৷ অর্থ জোগাড়ের জন্য বেআইনি পথও বেছে নিতে হয়৷

যাবজ্জীবন সাজা

তবে এসব এখন অতীত৷ ইওনাস ক্লিন্টেব্যার্গ তাঁর শাস্তি ভোগ করেছেন৷ নতুন করে জীবন শুরু করেছেন৷ বের হয়ে এসেছেন মাদকাসক্তি থেকে৷ এক কিন্ডারগার্টেনে পাচক হিসাবে কাজ করছেন তিনি৷ স্ত্রী ও তিন সন্তান নিয়ে সুইডেনের এক ছোট শহরে বাস করছেন৷ কিন্তু লেক্সবেস তাঁর অতীতের অপরাধীকর্মটা আবার সামনে তুলে এনেছে৷ ইওনাস ক্লিন্টেব্যার্গ আক্ষেপ করে জানান, ‘‘কর্মদাতা আমার সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করলে আমার কোনো সমস্যা নেই৷

যেমন স্কুলগুলিকে জানতে হয়, তারা কোনো যৌনঅপরাধীর সঙ্গে কাজ করছে কিনা৷ কিন্তু ‘লেক্সবেস'-এর সাহায্যে আমার প্রতিবেশীরা কিংবা কিন্ডারগার্টেনে বাচ্চাদের মা-বাবা ও কর্মচারীরাও আমার সম্পর্কে জানতে পারেন৷ এইভাবে আমার শাস্তিটা যাবজ্জীবনের জন্য হয়ে গেলো৷''

ইতোমধ্যে লেক্সবেস-এ তালিকাবদ্ধ আরো কয়েকজনের সঙ্গে ক্লিন্টেব্যার্গ একটি গ্রুপ গড়ে তুলেছেন৷ তাঁরা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে চান৷ কেননা তাঁদের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে বলে মনে করেন এই ভুক্তভোগীরা৷ লেক্সবেস-কে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো যাবে না৷ কেননা সুইডেনের মৌলিক আইন অনুযায়ী মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে৷ যা আবার তথ্যসুরক্ষা আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক৷

আইনের ফাঁকফোকর

লেক্সবেস আইনের একটি ফাঁক ব্যবহার করেছে৷ বলেন সুইডিশ তথ্যসুরক্ষা দপ্তরের আইনজ্ঞ মার্টিন ব্রিনেন৷ তথ্য সুরক্ষা দপ্তর সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে আইনগত বিধিবিধান পরীক্ষা করতে, প্রয়োজন হলে সংবিধানে সংশোধনী আনতে৷

মার্টিন ব্রিনেন জানান, ‘‘আইন মন্ত্রণালয় এব্যাপারে অনুসন্ধান চালানোর উদ্যোগ নিয়েছে৷ তবে মৌলিক আইনে কোনো পরিবর্তন আনা বেশ কষ্টকর হবে৷ এ জন্য সংসদের অনুমোদন প্রয়োজন৷ তাও আবার সহজে করা যায় না৷ সময়সাপেক্ষও বটে৷''

এদিকে ‘লেক্সবেস' তাদের পোর্টাল নির্বিকারে চালিয়ে যেতে পারবে৷ প্রতিষ্ঠানটির মুখপাত্র মাগনুস গ্র্যনডাল তাঁদের পোর্টালকে নিয়ে এই ধরনের উত্তেজনা বুঝতে পারেন না৷ তাঁর ভাষায়, ‘‘আমাদের সার্ভিস তো অন্যদের মতোই, যারা একই ধরনের তথ্য প্রস্তুত রাখে৷'' পার্থক্যটা হলো, লেক্সবেস সরাসরি সুইডেনের জনসাধারণের কাছে পৌঁছে যেতে পারে৷

‘‘কেউ বেশি সময় দিতে পারলে আদালতের কাছ থেকে একই তথ্য পেতে পারেন৷ আমরা শুধু খোঁজাখুঁজিটা সহজ করি৷'' জানান গ্র্যোনডাল৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়