1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

তথ্যচিত্রে জীবনের প্রতিচ্ছবি

এবারের অ্যাকাডেমি পুরস্কার তথা অস্কারের জন্য যে সব ডক্যুমেন্টারিগুলো বিবেচনায় রয়েছে, তাদের উপজীব্য হলিউডের মনোরঞ্জন নয়, বরং আধুনিক জীবন ও সভ্যতার নানা সমস্যা ও সংঘাত৷

default

টাইজির কোভ-এর পাশে ও’ব্যারি এবং তাঁর ছেলে লিনকন

যেমন ধরা যাক জাপানের ডলফিন হত্যার উপর ভিত্তি করে তৈরি ‘দ্য কোভ' এবং ২০০৭ সালের রাজপথে বিক্ষোভ নিয়ে তৈরি ‘বার্মা ভি জে'৷ রয়েছে ‘হুইচ ওয়ে হোম' - যাতে দেখানো হয়েছে মধ্য আমেরিকা থেকে শিশু অভিবাসীরা কিভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মেক্সিকো পার হয়ে আমেরিকা যাওয়ার চেষ্টা করছে৷

‘দ্য কোভ'

‘দ্য কোভ'এ দেখানো হয়েছে যে, জেলেরা ডলফিনগুলোকে জাপানের টাইজির একটি গোপন জলাশয়ের দিকে প্রলুব্ধ করে নিয়ে যাচ্ছে৷ সংশ্লিষ্ট জেলেদের জিজ্ঞেস করলে তারা জানায় যে, এগুলোকে মেরিন বিনোদন পার্কের জন্য কিংবা খাদ্য হিসেবে ভক্ষণের জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে৷ প্রথমদিকে জাপানি রাজনীতিক এবং অধিবাসীরা এই ছবির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বলেছিলেন যে, ডলফিন শিকার করাটা আমাদের দীর্ঘ দিনের লালিত ঐতিহ্য৷ কিন্তু ২০০৯ সালে গণমাধ্যমে এ নিয়ে বিস্তর আলোচনা হওয়ার পর শেষ পর্যন্ত ‘দ্য কোভ'এর জন্যেও একজন জাপানি ডিস্ট্রিবিউটর জোটে৷

পরিচালক লুই সিহোয়োজ বলেন, যদিও এই ছবি মেরিন পার্কে ডলফিন প্রদর্শনী বন্ধ করতে পারে নি, স্তন্যপায়ী প্রাণীগুলোকে চিত্ত বিনোদনের কাজে ব্যবহারের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে সাহায্য করেছে৷ একটি ই-মেইলে তিনি লিখেছেন, ‘‘‘দ্য কোভ' দেখার পর অনেকেই আমাদের সাথে যোগাযোগ করে জানিয়েছে, মেরিন পার্কের স্তন্যপায়ী প্রাণীর প্রদর্শনীকে শিক্ষামূলক বলে তারা মনে করে না এবং ডলফিন ও তিমি ধরাও উচিত নয় বলেই তাদের অভিমত৷'' তবে জাপানে ইতিমধ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে৷

‘হুইচ ওয়ে হোম'

হুইচ ওয়ে হোম' এর পরিচালক রেবেকা কামিসা বলেন, ছবিটি তৈরি করতে তিনি দীর্ঘ সাত বছর ব্যয় করেছেন৷ কারণ তিনি চেয়েছিলেন যে, অভিবাসী শিশুদের ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রার সময় কী ঘটছে সে বিষয়ে মানুষকে তিনি সচেতন করতে চেয়েছিলেন৷ তিনি বলেন, ‘‘আমি বাচ্চাদের বলেছি যে, ছবিটির প্রতি এতটা মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে কারণ তাদের কাহিনীগুলো আমেরিকার জনগণের কাছে অত্যন্ত আবেদনময় এবং গুরুত্বপূর্ণ৷'' ‘‘আমাদের ছবি বিজয়ী হলে, পদক গ্রহণ বক্তৃতায় আমি তাদেরকে ধন্যবাদ জানাবো,'' বলেন কামিসা৷

Flash-Galerie Myanmar Burma Aung San Suu Kyi

২০০৭ সালের রাজপথে আন্দোলনের সময় মেগাফোন নিয়ে এক বৌদ্ধ ভিক্ষু

‘বার্মা ভি জে'

২০০৭ সালে মিয়ানমারের সামরিক শাসকের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে অন্যান্য বৌদ্ধ ভিক্ষুদের সাথে অংশগ্রহণকারী উ গাউসিতা বলেন, ‘‘‘বার্মা ভি যে' ছবির জন্য বার্মার মানুষ গর্বিত এবং এটা অস্কারে যাচ্ছে জেনে তারা আনন্দিত৷'' সেসময় থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় গ্রহণকারী গাউসিতা বলেন, ‘‘তাঁর দেশে বন্দি ভিক্ষুরা এই ছবির সফলতায় আরো শক্তিশালী হয়েছে৷ কারাগারেও তাঁরা এটার জন্য গর্বিত এবং আন্দোলনের জন্য এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ৷''

‘দ্য মোস্ট ডেঞ্জারাস ম্যান ইন আমেরিকা'

‘দ্য মোস্ট ডেঞ্জারাস ম্যান ইন আমেরিকা' ছবির বিষয়বস্তু ৭৮ বছর বয়সি ড্যানিয়েল এলসবের্গ বলেন, এই ছবি তাঁকে এবং অন্যান্য মানুষকেও ইরাক এবং আফগানিস্তানের চলমান যুদ্ধ নিয়ে খোলাখুলি কথা বলতে উৎসাহিত করেছে৷ তিনি বলেন, ‘‘এটা অসংখ্য মানুষের জীবন রক্ষা করতে সহায়ক হতে পারে৷''

প্রতিবেদন: হোসাইন আব্দুল হাই, সম্পাদনা: অরুণ শঙ্কর চৌধুরী

সংশ্লিষ্ট বিষয়