1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

আলাপ

ঢাকা শাহজালাল বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার যন্ত্রপাতিগুলো আধুনিক নয়৷ এক্সপ্লোসিভ ডিটেক্টর মেশিন কাজ করেনা৷ নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নে একটি বৃটিশ কোম্পানিকে নিয়োগ দেয়া হলেও পরিস্থিতির উন্নতি ঘটছেনা৷

গত বছরের ৫ অক্টোবরে মিশরের শারম আল শেখে একটি রাশিয়ান বিমান বোমা বিস্ফোরণে বিধ্বস্ত হওয়ার পর ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ শাহজালাল বিমানবন্দরসহ ২০টি দেশের ৩৮ বিমানবন্দরকে নিরাপত্তা জোরদার করতে বলে৷ এসব বিমানবন্দর থেকে লন্ডনে সরাসরি বিমান যোগাযোগ রয়েছে৷

তখন বাংলাদেশের শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য যুক্তরাজ্যকে দায়িত্ব দেয় ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়া৷

এরপর ডিসেম্বরে নিরাপত্তা ব্যবস্থার অপ্রতুলতা দেখিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে সরাসরি কার্গো ফ্লাইট বন্ধ করে দেয় অস্ট্রেলিয়া৷ অস্ট্রেলিয়ার পথ ধরে যুক্তরাজ্যও গত ৮ মার্চ ঢাকা থেকে সরাসরি কার্গো পরিবহন বন্ধ করে দেয়৷ আর সর্বশেষ সরাসরি কার্গো ফ্লাইট বন্ধ করে জার্মানি৷ গত ২৬ জুন এ সিদ্ধান্ত নেয় তারা৷ তবে এরইমধ্যে যুক্তরাজ্য এবং অস্ট্রেলিয়া তাদের নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে৷

বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিয়ে ব্রিটিশ অ্যাভিয়েশন যা বলেছিল

ব্রিটিশ এভিয়েশনের এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের দিল্লিভিত্তিক লিয়াজোঁ অফিসার জন লাভসে গত নভেম্বরে ঢাকা বিমানবন্দর পরিদর্শনে আসেন৷ পরিদর্শনের পর তিনি রিপোর্টে জানান, ‘‘যাত্রীদের সঠিকভাবে স্ক্যানিং করা হয় না এবং মালামাল ট্যাগ করার যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয় না৷ বিমানবন্দরে যারা স্ক্যান করেন, তারা অন্যদিকে তাকিয়ে থাকেন, বসে বসে টেলিফোনে কথা বলেন, অন্য লোকের সঙ্গে গল্প করেন, তাদের প্রশিক্ষণ নেই৷ আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী একজন কর্মী ২০ মিনিট স্ক্যান করার পরে তাকে ৪০ মিনিট বিশ্রাম দিতে হবে৷ কিন্তু বাংলাদেশে লোকবল কম থাকায় এক বা দুই ঘন্টা একটানা কাজ করতে হয়৷''

এরপর ডিসেম্বরের মাঝামাঝি আবারও ঢাকায় আসেন জন লাভসে৷ তখন তিনি তার প্রতিবেদনে বলেন, ‘‘কার্গো রাখার জায়গায় বেসরকারি ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার প্রতিষ্ঠানের লোকেরা কাজ করেন, নিরাপত্তা ট্যাগ লাগানোর মেশিন ব্যবহার করা হয় না এবং কার্গো ওয়ারহাউসের বাইরে মালামাল স্তুপ করে রাখা হয়৷ বিমানবন্দরে এক্সপেস্নাসিভ ট্রেসিং মেশিনও কাজ করে না৷ এছাড়া এ সংক্রান্ত কাজে নিয়োজিত লোকদের সুষ্ঠু প্রশিৰণও নেই৷'

অডিও শুনুন 03:30

‘‘আমাদের বিমানবন্দরের নিরপত্তা আন্তর্জাতিক মানের’’

রিপোর্টে কার্গো রাখার জায়গায় ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার প্রতিষ্ঠানের বেসরকারি লোকদের সরিয়ে নিতে বলা হয়, নিরাপত্তা ট্যাগ লাগানোর মেশিন ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয় এবং কার্গো ওয়ারহাউসের বাইরে সব মালামাল ভেতরে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়৷

রেডলাইন ও বর্তমান পরিস্থিতি

বিমানবন্দরেরর নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং প্রশিক্ষনের জন্য গত ২১ মার্চ যুক্তরাজ্যের বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ‘রেডলাইন অ্যাসিওরড সিকিউরিটি'র সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর কর্তৃপক্ষের৷ দুই বছরের জন্য রেডলাইনকে ৭৩ কোটি ২৫ লাখ টাকায় নিয়োগ দেয়া হয়৷

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ঘুরে দেখা গেছে, রেডলাইনকে নিয়োগ দেয়ার পরও নিরাপত্তাকর্মীদের আচরণ আগে যেমন ছিল, তেমনি রয়ে গেছে৷ যুক্তরাজ্যের অভিযোগগুলোর বিষয়ে শাহজালালের নিরাপত্তাকর্মীদের আচরণগত কোনো পরিবর্তন হয়নি৷

শাহজালাল বিমানবন্দরের বিভিন্ন পয়েন্টে ঘুরে দেখা গেছে, নিরাপত্তাকর্মীরা আগের মতোই স্ক্যান করার সময়ে অন্যদিকে তাকিয়ে থাকেন, মোবাইলে ব্যস্ত থাকেন, কথা বলেন, অন্য লোকের সঙ্গে গল্প করেন, পত্রিকা পড়েন, খাবার খান৷

অন্যদিকে অভিযোগ আছে, রেডলাইন-এর সঙ্গে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা, প্রশিক্ষন ও পরামর্শক হিসেবে চুক্তি হলেও প্রতিষ্ঠনিটি শুধুমাত্র লন্ডনভিত্তিক ফ্লাইটের তদারকি করছে৷ অন্যদিকে আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী ২০ মিনিট স্ক্যান করার পরে ৪০ মিনিট বিশ্রাম নেওয়ার নিয়ম থাকলেও লোকবল কম থাকায় একটানা কাজ করছেন সিভিল অ্যাভিয়েশনের নিরাপত্তাকর্মীরা৷

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (বিমান ও সিএ উইং ) জিয়াউল হক বলেন, ‘‘রেডলাইনের প্রশিক্ষণের ফলে কিছুটা উন্নতি ঘটেছে৷ অনেক কর্মী প্রশিক্ষণ পেয়েছেন, অনেকে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন৷ প্রশিক্ষণের পুরো ফল পেতে আরও সময় লাগবে, অল্প সময়ে পরিবর্তন বোঝা যাবে না৷''

বিমানমন্ত্রী যা বললেন, ‘বিমানবন্দরের নিরপত্তা আন্তর্জাতিক মানের'

বিমানমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উন্নীত করার কাজ আমরা করছি৷ আমাদের চেষ্টার ফলেই গত মে মাসে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ আরএ-৩ (ইইউ অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটি ভ্যালিডেটেড রেগুলেটেড এজেন্ট) হিসেবে মর্যাদা লাভ করে৷ তিনটি এয়ারলাইন্সকে ওই জোনের মাধ্যমে কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের জন্য নির্বাচন করা হয়; যারা বাংলাদেশ থেকে কার্গো পরিবহন করতে পারবে৷ এই তিন এয়ারলাইন্স হচ্ছে- বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইতিহাদ এয়ারলাইন্স ও লুফথানসা এয়ারলাইন্স৷ এরপরও জার্মানি এখন এসে কেন সারাসরি কার্গো ফ্লাইট বন্ধ করল, তা বুঝতে পারছিনা৷''

মন্ত্রী দাবি করেন, ‘‘এখন আমাদের বিমান বন্দরের নিরপত্তা আন্তর্জাতিক মানের ৷ কথা যা হচ্ছে, তা রাজনৈতিক কারণে৷ কেউ কেউ এর মাধ্যমে আমাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চায়৷''

গুলশান অ্যাটাকের পর যাত্রী নিরাপত্তার বিষয়টি আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে৷ যাত্রীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা অনেক উন্নত করা হয়েছেও বলে জানান বিমানমন্ত্রী৷ তিনি বলেন, ‘‘বিমান বন্দরে বহিরাগতদের প্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ করা হয়েছে৷ যাত্রীদের ডাবল চেকিং করা হয়৷''

তবে তিনি স্বীকার করেছেন, ‘‘এক্সপ্লোসিভ ডিটেক্টর মেশিন এখনো কার্যকর হয়নি৷ শিগগিরই এটা স্থাপন করা হবে৷''

আর বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় এয়ারফোর্স, পুলিশ এবং আনসারের সমন্বয়ে অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটি ফোর্স গঠন করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি৷

মন্ত্রী জানান, ‘‘চট্টগ্রাম ও সিলেট বিমানবন্দরের নিরাপত্তাও আধুনিক করা হচ্ছে৷''

আপনার কি কিছু বলার আছে? লিখুন নীচের মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়