1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

ঢাকা শহরের বস্তি সমস্যা

বস্তি সমস্যা ঢাকা শহরে নতুন কিছু নয়৷ দশকের পর দশক ধরে নগর জীবনের একটি অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে এই সব বস্তি এবং তার সমস্যাগুলো৷ সেখানে পরিস্কার পানির অভাব, স্বাস্থ্য সম্মতভাবে জীবন কাটানো কী সেখানে সত্যিই সম্ভব ?

default

‘বিশেষ করে স্বাস্থ্য সমস্যা বস্তিতে তীব্র৷’

ঢাকা শহরে বস্তি সমস্যা প্রকট৷ গ্রাম থেকে যারা শহরে আসে কাজের সন্ধানে, জীবিকা নির্বাহের জন্য, তারা প্রথমেই ওঠে বস্তিতে৷ সেখানেই শুরু হয় তাদের ঢাকা শহরের জীবন৷ কিন্তু বস্তির পরিবেশে সুস্থভাবে বেঁচে থাকা কী সম্ভব ? বিভিন্ন পরিসংখ্যানে জানানো হয়েছে যে, প্রায় প্রতিটি বস্তিতেই যে সব রোগের সমস্যা প্রকট তার মধ্যে প্রথমেই রয়েছে ডায়রিয়া৷ এর পর রয়েছে গ্যাস্ট্রিক এবং কলেরা৷

বস্তিতে যারা বসবাস করে, বিশেষ করে তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টির দিকে যদি নজর দেওয়া হয় তাহলে আমরা কী দেখবো ? ঢাকার জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোবারক হোসেইন খান৷ জার্মানির বিলেফেল্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি গবেষণা করছেন৷ বিষয়– মেগাসিটি, হেল্থ এ্যান্ড এনভায়রমেন্ট৷ তিনি জানালেন, ‘স্বাস্থ্য সমস্যার মধ্যে আমাদের ডাটা অনুসারে আমরা যা দেখেছি সেখানে ডায়রিয়া, গ্যাস্ট্রিক, কলেরা পেটে ব্যাথা, শরীরে ব্যাথা, জ্বর-ঠান্ডা-কাশি – এ সমস্ত রোগ দেখা যায় সবচেয়ে বেশি৷ আমি মনে করি, মূল কারণ হল বস্তির পরিবেশ৷ সেই পরিবেশটি খুব দূষিত৷ সেখানে দূষিত বায়ু, পানি, দূষিত পরিবেশ – সবকিছু মিলিয়ে তাদের মধ্যে রোগ শোকের পরিমাণ একটু বেশি৷'

কেন বস্তিবাস

বস্তিতে দূষিত পানি এবং বাতাসের মধ্যেই সবার বসবাস৷ এসব কারণেই বস্তিবাসীদের মধ্যে রোগের প্রকোপ বেশি৷ কিন্তু এসব অসুখ বিসুখ সত্ত্বেও মানুষ বস্তিতে কেন বাস করে ? মোবারক হোসেন খান জানালেন, ‘কোন কারণে এরা আসলে বস্তিতে আসছে সে বিষয়ে আমরা মনে করি, অবশ্যই তাদের উপার্জন জড়িত৷ যখন কোন একটা লোক গ্রাম থেকে শহরে আসে, সে ঢাকা শহরে থাকার জন্য প্রথমেই খোঁজে এমন একটি জায়গা যেখানে অল্প খরচে সে থাকতে পারবে৷ এবং এক্ষেত্রে বাড়িভাড়া কম এবং এখানে মানুষ খুব সহজেই মানিয়ে নিতে পারে৷ যার করণে আমি মনে করি যে উপার্জন একটা মূল কারণ এবং এ কারণেই এসব মানুষরা বসবাস করছে বস্তিতে৷'

In den Slums von Dhaka ist Wasser eine Brutstätte von Krankheiten

দূষিত বায়ু, পানি, দূষিত পরিবেশ – সবকিছু মিলিয়ে বস্তিতে রোগ শোকের পরিমাণ বেশি

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে অনেক ধরণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে৷ কারণ প্রত্যেক সরকারই চায় তার দেশের মানুষ ভাল থাকুক৷ কিন্তু যে সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে তা পর্যাপ্ত নয়৷ বিশেষ করে স্বাস্থ্য সমস্যা বস্তিতে তীব্র৷ মধ্যবিত্ত বা উচ্চবিত্তদের চিকিৎসার সুযোগ সুবিধা রয়েছে সেই তুলনায় বস্তিবাসীদের কোন সুযোগ নেই৷ আর্থিক সঙ্গতি না থাকা সবচেয়ে বড় কারণ৷

বস্তিবিহীন ঢাকা ? কবে ?

অনেকদিন ধরেই বস্তি তুলে দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে৷ বেশ কিছু বস্তি ভেঙেও ফেলা হয়েছে৷ এর ফলে সমাধানের চেয়ে সমস্যাই হয়েছে বেশি৷ সবার মনে একটি প্রশ্ন – বস্তিবিহীন ঢাকা কি আমরা কখনো দেখবো ? মোবারক হোসেইন খানের মত,‘এক কথায় বলবো ‘‘না'', কারণ আমি যদি ঢাকা শহরের পরিসংখ্যান দেখি তাহলে বলবো ১৯৯১ সালে বস্তির সংখ্যা ছিল ২১৫৬ এবং সেখানে প্রায় সাড়ে সাত লক্ষ মানুষ বসবাস করতো৷ ২০০৫ সালে সে সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় পাঁচ হাজার বস্তিতে এবং সেখানে প্রায় ৩৫ লক্ষ মানুষ বসবাস করছে৷ ঢাকা শহরের প্রায় ৩৭ শতাংশ মানুষই বসবাস করছে বস্তিতে৷'

ঢাকা শহরে প্রায় ৩৫ লক্ষ মানুষ বস্তিতে বাস করে৷ সেখানে একটি ছাপড়া ঘরে পুরো পরিবার নিয়েই তাদের জীবন৷ নিরাপত্তা, আরাম-আয়েশ কোন কিছুই বস্তিতে নেই৷ তাহলে কেন বস্তিতে থাকা ? বস্তিতে থাকার বিশেষ কোন সুবিধা আছে কী ? মোবারক হোসেন খানের উত্তর,‘ আপনি যদি উচ্চবিত্ত হন তাহলে আপনি যখন বস্তিতে যাবেন তখন আপনার কাছে মনে হবে এখানে কোন সুযোগ-সুবিধা নেই৷ কিন্তু যারা ওখানে বসবাস করছে তাদের সঙ্গে যখন কথা বলা হয়, আমরা যখন প্রশ্ন করি,‘‘আপনি কেমন আছেন ?'' তারা বলে, ‘‘আমরা ভাল আছি''৷ কারণ ওরা দেখে ওদের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে৷ ওদের উপার্জন কম, শিক্ষা কম এছাড়া সামাজিক অবস্থাও অনেক নিচে৷ যার কারণে ওদের মধ্যে সেই ধরণের উচ্চাশা নেই, যে,‘‘ আমাকে ঢাকা শহরে ভাল জায়গায় থাকতে হবে৷'' ফলে ওরা বস্তিতেই সুখি৷ আমরা এটাই দেখেছি যে ওখানে যখন ওদের উপার্জন বেড়ে যায় তখন তাদের সবকিছু ভাল হয়ে যায়৷ ওরা হাসিখুশি থাকে৷ আসলে ওদের সবকিছুই হচ্ছে উপার্জনের ওপর নির্ভরশীল৷'

নগর জীবনে বস্তির প্রভাব

একটা বস্তি আশেপাশের নগর জীবনে ওপর কোন ধরণের প্রভাব ফেলতে পারে ? প্রথমত, ঢাকা শহরের ধনী এলাকার আশেপাশে বস্তি দেখা যায় বেশি৷ ধানমন্ডি, গুলশান, বনানী – এসব জায়গাতে বস্তিগুলো বেশ বড়৷ আর যেহেতু কোন বস্তিই স্থায়ী নয় তাই যে কেউ চাইলে এক বস্তিতে থেকে অন্য বস্তিতে সহজেই আশ্রয় গ্রহণ করতে পারে৷ বস্তিতে যারা থাকে তারা বেশির ভাগই রিক্সাচালক, ভ্যানচালক, দিন মজুর৷ এদের যোগাযোগের নেটওয়ার্কও বেশ বড়৷ কোন বস্তিতে জায়গা আছে, কার একটু মাথা গোঁজার ঠাই দরকার তাও তারা জানতে পারে দ্রুত৷ এবং যেহেতু এরা একেবারে শহরের কেন্দ্রস্থলগুলোতে বসবাস করে তাই সেখান থেকে ছোঁয়াচে রোগও দ্রুত ছড়িয়ে পরে আশেপাশের এলাকায়৷

প্রতিবেদন: মারিনা জোয়ারদার

সম্পাদনা: আবদুল্লাহ আল-ফারূক