1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

ঢাকায় ‘বৃদ্ধ শিশুর' চিকিৎসা শুরু

বাংলাদেশের একটি চার বছর বয়সি শিশু রহস্যময় এক রোগে আক্রান্ত হয়ে ক্রমশ বুড়িয়ে যাচ্ছে৷ ইতোমধ্যে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও, চিকিৎসকরা এখনো তার রোগ শনাক্ত করতে পারেনি৷

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মিশু বায়েজিদ সিকদারের চিকিৎসা শুরু হয়েছে৷ চিকিৎসকরা বলছেন, তার রোগ নির্ধারণে অনেক পরীক্ষা-নীরিক্ষার প্রয়োজন৷ তবে গরিব পরিবারের শিশুটিকে বিনামূল্যে চিকিৎসা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ৷

শরীরে বাড়তি চামড়া নিয়ে জন্ম নেয়া শিশুটির বিভিন্ন অঙ্গ এবং চোহারা ঝুলে গেছে৷ পাশাপাশি তার হৃদপিণ্ডে নানা সমস্যাসহ দেখার এবং শোনার সমস্যা রয়েছে৷ বাবা লাবলু সিকদার জানিয়েছেন যে, বেশিরভাগ চিকিৎসকই তার ছেলের সমস্যা আসলে কী – তা নির্ধারণে ব্যর্থ হয়েছেন৷ তিনি বলেন, ‘‘আমরা স্থানীয় হাসপাতালে তার চিকিৎসা করাতে জমিজমা বিক্রি করেছি৷ আমরা তাকে বৈদ্য এবং হার্বাল চিকিৎসকও দেখিয়েছি৷ কিন্তু তার অবস্থার পরিবর্তন হয়নি৷ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ আমাদের শেষ ভরসা৷''

চিকিৎসকরা শুরুতে সন্দেহ করেছিলেন, শিশুটি ‘প্রোজেরিয়া' রোগে আক্রান্ত৷ এই রোগ হলে জন্মের পর থেকেই একটি শিশুর চামড়া দ্রুত বুড়িয়ে যেতে থাকে এবং সে অসময়ে বার্ধক্যের শিকার হয়৷ ফলে মারাত্মক সব শারীরিক জটিলতা তৈরি হয়৷

দুর্লভ এই রোগ নিয়ে হলিউডে ‘দ্য কিউরিয়াস কেস অফ বেনজামিন বাটন' নামের একটি ছবি তৈরি হয়েছিল, যেখানে অভিনয় করেছেন ব্রাড পিট৷ বলিউডেও ২০০৯ সালের শেষের দিকে মুক্তি পায় ‘পা', যেখানে ‘বিগ বি' অভিতাভ বচ্চনকে প্রোজেরিয়া রোগে আক্রান্ত ১৩ বছর বয়সি একটি ছেলের ভূমিকায় দেখা যায়৷

ঢাকার চিকিৎসকরা অবশ্য এখনই কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে রাজি নন৷ মেডিক্যাল কলেজের ‘বার্নস অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি' ইউনিটের প্রধান আবুল কালাম জানান, প্রোজেরিয়া হলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেটি বাড়তে থাকে৷ কিন্তু শিশুটির বাবা-মা জানিয়েছেন যে, সম্প্রতি শিশুটির বুড়িয়ে যাওয়ার লক্ষণগুলো থেমে গেছে এবং পরিস্থিতি নাকি উন্নতির দিকে যাচ্ছে৷

চিকিৎসকরা তাই আরো পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে সিকদারের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে চাচ্ছেন৷ তার বাবা এবং মা সম্পর্কে কাজিন ছিলেন৷ খুবই নিকটাত্মীয়ের মধ্যে বিয়ে হওয়ায় শিশুটির কোনো জেনেটিক বা জিনঘটিত রোগ হয়েছে কিনা, তাও পরীক্ষা করে দেখছেন তাঁরা৷

বায়েজিদ সিকদারের পরিবার আশা করছেন, চিকিৎসকরা শিশুটিকে অন্যান্য স্বাভাবিক শিশুদের মতো অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে পারবেন৷ সিকদারের মা খাতুনের কথায়, অন্যান্য স্বাভাবিক শিশুর মতো তার ছেলেও ভাত এবং মাছ খেতে পছন্দ করে৷ এছাড়া কাজিনদের সঙ্গে লুকোচুরি ও ফুটবল খেলতে ভালোবাসে সে৷

উল্লেখ্য, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসকরা ২৬ বছর বয়সি এক যুবকেরও চিকিৎসা করছেন যাকে ‘‘বৃক্ষ মানব'' আখ্যা দেয়া হয়েছিল৷ তাঁর হাত এবং পায়ে গাছের শিকড়ের মতো বেরিয়েছিল, যা অস্ত্রপচারের মাধ্যমে কেটে ফেলতে সক্ষম হন চিকিৎসকরা৷ বর্তমানে তাঁর অবস্থা উন্নতির দিকে৷

এআই/ডিজি (এএফপি, ডিপিএ)

নির্বাচিত প্রতিবেদন