1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি ইউরোপ

ডয়চে ভেলের ৬০ বছর পূর্তি

১৯৫৩ সালের ৩রা মে যাত্রা শুরু করে ডয়চে ভেলে৷ শুরু হয় শর্ট ওয়েভে জার্মান ভাষায় বেতার অনুষ্ঠান৷ তত্কালীন জার্মান প্রেসিডেন্ট থেওডোর হয়স ‘‘সারা বিশ্বে প্রিয় দেশবাসীদের উদ্দেশে’’ তাঁর শুভেচ্ছা বাণী পাঠান এই বেতারের মাধ্যমে৷

কয়েক সপ্তাহ পর ১৯৫৩ সালের ১১ই জুন জার্মান পাবলিক ব্রডকাস্টার এআরডি-র সদস্যরা ডয়চে ভেলের শর্ট ওয়েভ প্রোগ্রাম চালু করার ব্যাপারে একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করে৷ এই প্রোগ্রামের সামগ্রিক দায়িত্বে ছিল তত্কালীন নর্থ-ওয়েস্ট জার্মান রেডিও৷ পরবর্তীতে ওয়েস্ট জার্মান রেডিও এই দায়িত্ব হাতে নেয়৷

বছর খানেক পর ডয়চে ভেলে ইংরেজি, ফ্রেঞ্চ, স্প্যানিশ, পর্তুগিজ, ও পোলিশ ভাষায় প্রচার শুরু করে৷

স্বায়ত্ত শাসিত প্রতিষ্ঠান

১৯৬০ সালে ফেডারেল আইনের মাধ্যমে ডয়চে ভেলে একটি স্বায়ত্ত শাসিত প্রতিষ্ঠান হিসাবে আত্নপ্রকাশ করে৷ ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠানটি তার ভাষার পরিধি বিস্তৃত করে৷ চালু হয় ফার্সি, তুর্কি, রাশিয়ান, চেক, হাঙ্গেরিয়ান, সার্বিয়ান, ক্রোয়েশিয়ান ইত্যাদি ভাষায় প্রোগ্রাম ৷

Bundespräsident Theodor Heuss

সাবেক জার্মান প্রেসিডেন্ট থেওডোর হয়স

১৯৬৩ সালে যুক্ত হয় আফ্রিকান ভাষা কিসুয়ালি৷ এছাড়া ইন্দোনেশিয়ান, বুলগেরিয়ান, রুমানিয়ান ইত্যাদি ভাষাও আসে এই সারিতে৷ ১৯৬৪ সালে যুক্ত হয় গ্রিক, ইটালিয়ান, হিন্দি, ও উর্দু, ১৯৭০ পশতু ও দারি৷ ১৯৭৫ সালের ১৫ই এপ্রিল থেকে শুরু হয় বাংলাভাষার যাত্রা৷

কোলন শহরের ছোট কেন্দ্র থেকে রাডারব্যার্গ গ্যুর্টেলের নতুন ভবনে উঠে আসে ডয়চে ভেলে৷ উদ্বোধন হয় ১৯৮০ সালে৷ ১৯৯০ সালে বার্লিনেও স্থাপিত হয় ডয়চে ভেলের শাখা৷ ১৯৯২ সালের পয়লা এপ্রিল সূচিত হয় আর এক নতুন অধ্যায়৷ বার্লিন কেন্দ্র থেকে জার্মান ও ইংরেজি ভাষায় টেলিভিশন প্রোগ্রাম শুরু করে ডয়চে ভেলে৷ এরপর টিভি প্রোগ্রামের তালিকায় যুক্ত হয় স্প্যানিশ, আরবি ও আলবেনিয়ান ভাষাও ৷

দুর্দিনের কথা

তবে ডয়চে ভেলের দুর্দিনের কথাও এ প্রসঙ্গে বলতে হয়৷ ৯০-এর দশকের মাঝামাঝি থেকেই আর্থিক সংকট দেখা দেয় প্রতিষ্ঠানটিতে৷ ঐ দশকের শেষ দিকে এসে অনেক বিভাগ বন্ধ হয়ে যায়৷ বিদায় নিতে হয় ডেনিশ, নরওয়েজিয়ান, ডাচ, ইটালিয়ান, সংস্কৃত, জাপানি, স্প্যানিশ, চেক, হাঙ্গেরিয়ান ইত্যাদি ভাষাকে৷ বাজেটে অর্থ কমিয়ে দেয়া হতে থাকে৷ পাঁচ বছরের মধ্যে ২০০৪ সাল পর্যন্ত প্রায় ৭৫ মিলিয়ন ইউরো কমে যায় বাজেটে৷

অ্যাসবেস্টস সমস্যা দেখা দেওয়ায় কোলনের ভবনটি ছাড়তে হয় ডয়চে ভেলেকে৷ ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে ২০০৩ সালের জুন মাসে বাড়ি পরিবর্তন করে প্রতিষ্ঠানটি৷ শুধু ভবন নয়, শহরও ছাড়ে ৷ থিতু হয় বনে৷ বন কেন্দ্র থেকে রেডিও প্রোগ্রাম প্রচারিত হতে থাকে, আর টিভি প্রোগ্রাম বার্লিন থেকে৷

অনলাইনের যাত্রা

ইতোমধ্যে প্রযুক্তির আরেকটি দুয়ারও খুলে যায়৷ শুরু হয় অনলাইনের যাত্রা৷ ডয়চে ভেলের ৩০টি ভাষা অনলাইনের সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করে৷ শুধু তাই নয়, ডয়চে ভেলের জন্য প্রণিত নতুন আইন অনুযায়ী অনলাইনকে রেডিও এবং টেলিভিশনের সমমর্যাদা দেওয়া হয়৷

এর মধ্যে অবশ্য বেতার, টিভি ও অনলাইনকে একত্র করার ব্যবস্থা করা হয়েছে৷ ওদিকে, আরো কমিয়ে দেওয়া হয়েছে রেডিওর প্রোগ্রাম৷ টেলিভিশনের গুরুত্ব বাড়ানো হয়েছে৷ ইন্টারনেটের মাধ্যমে টিভির প্রোগ্রাম প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে৷

বাংলা বিভাগের চলার পথ

অন্যদিকে, দীর্ঘ চলার পথে বাংলা বিভাগেও আসে বেশ কিছু পরিবর্তন৷ বাংলাদেশ বেতারের সঙ্গে এক চুক্তিতে খুলে যায় এফএম ব্যান্ডের পথ৷ ২০১০ সাল থেকে ২০১৩ সালের ৮ই মার্চ পর্যন্ত দিনে দুবার এই ব্যান্ডের মাধ্যমে প্রচার হয়েছে বাংলা অনুষ্ঠান৷

২০১৩ সালের এপ্রিল মাস থেকে ডয়চে ভেলের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও পরিবেশ বিষয়ক টেলিভিশন অনুষ্ঠান বাংলাতেও প্রচার হচ্ছে, যার নাম ‘অন্বেষণ'৷ বাংলাদেশের একুশে টেলিভিশনে নিয়মিত দেখা যাচ্ছে এই অনুষ্ঠান৷ পাশাপাশি ওয়েবসাইটেও উপভোগ করা যাবে অন্বেষণ৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়