ডয়চে ভেলের সাক্ষাৎকারের কারণে ইরানি রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর কারাদণ্ড | বিশ্ব | DW | 14.03.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ইরান

ডয়চে ভেলের সাক্ষাৎকারের কারণে ইরানি রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর কারাদণ্ড

ইরানের একটি আদালত বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী সাদেঘ জিবাকালামকে ১৮ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে৷ জিবাকালাম ডিডাব্লিউকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে মিথ্যাভাষণ ও অপপ্রচার করেছেন' বলে অভিযোগ৷

ইসলামি বিপ্লবী আদালত মঙ্গলবার সাদেঘ জিবাকালামকে দণ্ডদানের সময় ‘একটি ফার্সি ভাষায় প্রচারিত বিদেশি সংবাদমাধ্যমকে প্রদত্ত সাক্ষাৎকারের' উল্লেখ করে৷

তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক জিবাকালাম গত জানুয়ারি মাসে ডয়চে ভেলের ফার্সি অনুষ্ঠানের একটি সাক্ষাৎকারে ইরানে সাম্প্রতিক অস্থিরতার কথা বলেন৷ 

জিবাকালাম ঐ সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে ‘ভুল তথ্য' ছড়িয়েছেন ও ‘‘ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে'' অপপ্রচার চালিয়েছেন বলে আদালত অভিযোগ করেছে৷ কারাদণ্ড ছাড়া জিবাকালামের জনসমক্ষে ভাষণ, প্রবন্ধ প্রকাশ, সাক্ষাৎকার প্রদান ও বিভিন্ন সোশ্যাল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেটে সক্রিয় অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে৷

ডিডাব্লিউ ঘটনাবলীর দিকে নজর রাখছে

আদালতের রায়ের স্বল্প পরেই জিবাকালাম টেলিফোনের মাধ্যমে ডয়চে ভেলেকে জানান যে, আদালতের রায়ে ডিডাব্লিউকে একটি ‘‘প্রতিক্রিয়াশীল ও বৈরী ওয়েবসাইট'' হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে৷

ডয়চে ভেলের মহাপরিচালক পেটার লিমবুর্গ বলেছেন, ‘‘মিডিয়াকে বৈরী বিবেচনা করা তেহরান প্রশাসনের মতো একনায়কতন্ত্রের লক্ষণ৷''

‘‘দৃশ্যত তারা নিজেদের দুর্বলতা সম্পর্কে সচেতন বলেই এ ধরনের রায় দেওয়া হয়ে থাকে৷ আমরা অধ্যাপক জিবাকালামের মামলার দিকে নজর রাখব ও তাঁকে সাহায্য করব,'' বলেছেন লিমবুর্গ৷ 

ইরানের ক্রিমিন্যাল কোড বা দায়রা আইনের ৫০০ নং ধারা অনুযায়ী অপপ্রচার সংক্রান্ত অপরাধে তিন থেকে ১২ মাস অবধি কারাদণ্ড হতে পারে৷ বিপ্লবী আদালত জিবাকালামকে আরো কড়া দণ্ড দিয়েছেন, কেননা, তাঁর ক্ষেত্রে ‘অপরাধের পুনরাবৃত্তি' ঘটেছে৷ ২০১৪ সালে অধ্যাপক জিবাকালামকে একই অভিযোগে ১৮ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল, যদিও তা পরে কমিয়ে জরিমানায় রূপান্তর করা হয়৷

জিবাকালাম জানিয়েছেন, তিনি রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন৷

ইরানে বিক্ষোভ

ডয়চে ভেলেকে প্রদত্ত গত জানুয়ারি মাসের সাক্ষাৎকারে জিবাকালাম ‘‘গোটা প্রশাসনিক কাঠামো সম্পর্কে আন্দোলনকারীদের হতাশা'' সম্পর্কে মন্তব্য করেন এবং বলেন যে, ‘‘ইরানের রাজনৈতিক শাসনব্যবস্থাসম্পর্কে যদি এখন একটি গণভোট অনুষ্ঠিত হতো, তাহলে জনগণের ৭০ শতাংশ ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে মতপ্রকাশ করতেন৷''

২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে ইরানে দেশ জুড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষ দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক দুরবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ প্রদর্শন করেন৷ সেই বিক্ষোভে ২০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন ও ৪৫০ জনের বেশি আন্দোলনকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়৷

২০০৯ সাল থেকে ডয়চে ভেলের ফার্সি অনুষ্ঠানকে ইরানে ‘ব্লক' করে রাখা হয়েছে৷ ডিডাব্লিউ-র এশিয়া বিভাগের প্রধান আলেক্সান্ডার ফ্রয়েন্ড বলেন যে, জিবাকালামের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলি পুরোপুরি ভিত্তিহীন৷

জিবাকালামের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপগুলি ‘‘সম্পূর্ণভাবে অগ্রহণযোগ্য,'' বলেও ফ্রয়েন্ড মন্তব্য করেন এবং যোগ করেন যে, ডয়চে ভেলের ফার্সি অনুষ্ঠানের উপর অবরোধ অবিলম্বে প্রত্যাহার করা উচিত৷

সাদেঘ জিবাকালাম যুক্তরাজ্যের ব্র্যাডফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান অধ্যয়ন করেন৷ তিনি ‘হাউ ডিড উই বিকাম হোয়াট উই আর' ও ‘অ্যান ইন্ট্রোডাকশন টু ইসলামিক রেভোলিউশন'সহ বেশ কিছু পুস্তকের রচয়িতা৷

নাটালি ম্যুলার/এসি

নির্বাচিত প্রতিবেদন