1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

ড্রেসডেনে নব্য নাৎসিদের মিছিল বানচাল, সংঘর্ষ

জার্মানির ড্রেসডেন শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল শনিবার৷ নব্য নাৎসিদের ঘোষিত একটি মিছিলকে বানচাল করে দিতে পথে নামে বামপন্থী এবং মুক্তমনা কিছু সংগঠন৷ ড্রেসডেন শহরকে নাৎসি মুক্ত করার জন্য আয়োজন করা হয় মানবশৃঙ্খলের৷

default

পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বিক্ষোভকারীদের

চরম দক্ষিণপন্থী নব্য নাৎসিদের বিরোধিতার এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করল জার্মান শহর ড্রেসডেন শনিবার৷ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের চূড়ান্ত দিনগুলির স্মরণে তথা মিত্রশক্তির বোমাবর্ষণের ৬৫ তম বর্ষ পালন করার জন্য নব্য নাৎসিদের সংগঠন তাদের বার্ষিক অনুষ্ঠানের ডাক দিয়েছিল ড্রেসডেনে৷ কিন্তু বামপন্থী জোট এবং মুক্তমনা শিল্পী,সাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ এবং কর্মী সংগঠনগুলির যৌথ সংগঠন ‘ড্রেসডেন উইদাউট নাৎসিজ'- এর তীব্র বিরোধিতায় নব্য নাৎসিদের ওই অনুষ্ঠান কার্যত বানচাল হয়ে যায় এদিন৷

সকাল থেকেই পরিস্থিতি ছিল টানটান৷ নব্য নাৎসিদের সঙ্গে ‘ড্রেসডেন উইদাউট নাৎসিজ' সংগঠনের সংঘর্ষের আশঙ্কায় প্রচুর পুলিশ মোতায়েন ছিল শহরের বিশেষ কিছু জায়গায়৷ পুলিশের সঙ্গে প্রতিবাদকারীদের দফায় দফায় সংঘর্ষেরও খবর পাওয়া গেছে৷ কোন কোন জায়গায় রাস্তার ডাস্টবিনগুলিতে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে৷ আক্রান্ত হয়েছেন পুলিশ কর্মীরা এবং বেশ কিছু প্রতিবাদকারীও৷ পুলিশ সূত্রের খবর, হামলাকারী বেশ কিছু ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে৷

Dresden Gedenktag Demonstration gegen Rechtsextremismus

নব্য নাত্সিদের মিছিল বানচাল করতে রাস্তায় ব্যারিকেড

নব্য নাৎসিদের বাড়াবাড়ি ঠেকাতে এবং শহরের নয়েস্টাড অঞ্চলে ডাকা তাদের মিছিলকে বানচাল করতে ড্রেসডেন শহরের বাসিন্দাদের কাছে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের আর্জি জানিয়েছিল ‘ড্রেসডেন উইদাউট নাৎসিজ' সংগঠনটি৷ সেই আহ্বানে সাড়া দিয়েই মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে পথে নেমেছিলেন বলে দাবি করেছেন সংগঠনের নেত্রী লেনা রথ৷ তিনি বলেন, ইউরোপে নব্য নাৎসিদের বৃহত্তম মিছিল বানচাল করতে আমরা সফল হয়েছি এই প্রথমবার৷ প্রসঙ্গত, কালো পোষাক পরা প্রায় পাঁচ হাজার নব্য নাৎসি জার্মানির বিভিন্ন এলাকা থেকে এদিন সমবেত হয় ড্রেসডেনে তাদের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে৷ কিন্তু, ব্যাপক বিরোধিতায় তাদের মূল অনুষ্ঠান বাস্তবায়িত হতে পারেনি৷ এক পর্যায়ে নব্য নাৎসিদের একটি বাসের ওপর হামলা চালায় প্রতিবাদকারীরা৷ সময়মত পুলিশ এসে বাসটিকে নিরাপদে যেতে দিলে কোনরকম অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি৷

শুধু ‘ড্রেসডেন উইদাউট নাৎসিজ' সংগঠনই নয়, ড্রেসডেন শহরের মেয়র হেলমা ওরোসজ-এর ডাকে শহরের এলবে নদীর ওপারে দশ হাজার ড্রেসডেনবাসী হাতে হাত ধরে একটি প্রতীকি মানবশৃঙ্খল গড়ে তোলেন এদিন৷ এই শৃঙ্খলও ছিল নব্য নাৎসিদের মিছিলের প্রতিবাদেই আয়োজিত৷ সিডিইউ নেত্রী মেয়র হেলমা ওরোসজ বলেন, ড্রেসডেন শহরকে আমরা একটি শান্তিপূর্ণ আন্তর্জাতিক শহর হিসেবে দেখতে চাই৷ এখানে কোনরকমের অস্বস্তিকর কিংবা চরম দক্ষিণপন্থী আচরণ বরদাস্ত করব না আমরা৷

সিটি হল-এর এক মুখপাত্র জানান, ড্রেসডেন যে একটি বিশ্বমানের শহর এবং এই শহরে যে সন্ত্রাস আর ইহুদি বিদ্বেষের কোনরকম স্থান নেই তা প্রমাণ করতেই এই প্রতীকি আয়োজনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল৷ এই আয়োজনের ফলে নব্য নাৎসিরা তাদের মিছিলের জায়গায় পৌঁছতে বাধা পায়৷

প্রতিবেদন- সুপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়

সম্পাদনা - রিয়াজুল ইসলাম

সংশ্লিষ্ট বিষয়