1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

‘ড্রাকুলানগরী’ এখন সরগরম

ড্রাকুলা ছিলো কি ছিলো না - সে বিতর্ক পাশে রেখে এটা অন্তত বলা যায়, ব্রাম স্টোকার যা লিখেছেন, তাতে মানব মনে ভয়ের অনুভূতি ঠিকই সৃষ্টি হতো৷ অবশ্য একুশ শতকে এসে ড্রাকুলা আর রক্ত হিম করা আতঙ্ক নিয়ে আসে না৷

default

তারপরও রুমানিয়ায় গেলে অনেকেই ঘুরে আসেন ড্রাকুলা ক্যাসেলে, একটু ভয় পেতে৷ আর ভয় দেখানোর নানা বন্দোবস্ত নতুন করে যোগ হচ্ছে সেখানে৷ ট্রান্সিলভেনিয়ার ছোট্ট শহর ব্রান৷ পাহাড়ের কোলঘেঁষা শহরটিতে নানা দেশের, নানা বরণের পর্যটক ঘুরে বেড়াচ্ছেন৷ এত লোক দেখে কাউন্ট ড্রাকুলা নিশ্চয়ই বিরক্ত হতেন৷ তার প্রাসাদের সুনসান নীরবতা ভঙ্গের জন্য৷ ব্রাম স্টোকারের গল্প অনুযায়ী, এই ব্রানেই ছিলো কাউন্ট ড্রাকুলার বাস৷ বিশ্বজুড়ে পরিচিত তাঁর বইটি৷ চলচ্চিত্রও হয়েছে একাধিক তা নিয়ে৷

দশককাল আগেও তেমন কিছুই ছিলো না ব্রানে৷ শুধু কয়েকটি প্রাসাদ ছাড়া৷ সে কথা বললেন স্থানীয় বাসিন্দা ইয়ানুস জালিনস্কি৷ তবে পর্যটকদের আনাগোনা বাড়ার পর অনেকের মধ্যেই ঢোকে ব্যবসাচিন্তা৷ আসতে থাকে ড্রাকুলা, ভ্যাম্পায়ার, আরো কত কী৷ ভয়ের কিছু নেই, এগুলো আসল নয়, সবই কৃত্রিম৷ বিশ্বের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে মানুষকে আনন্দ দেওয়ার অনেক কিছুই থাকে৷ তবে ব্রান দেয় ভয়, অবশ্য সেই ভয় পাওয়ার আনন্দ নিতেই তো সবার সেখানে ছুটে যাওয়া৷

পর্যটকদের কাছে ব্রানকে আকর্ষণীয় করে তুলতে জালিনস্কিরও ভালো ভূমিকা আছে৷ হরর মুভি দেখানোর জন্য সেখানে একটি থিয়েটার চালু করেছেন তিনি৷ জার্মানির বার্তা সংস্থা ডিপিএকে তিনি বলেন, ‘‘শুরুটা সহজ ছিলো না৷ এখানে ড্রাকুলা মানে শয়তান৷ সবাই ভাবছিলো, আমি বুঝি শয়তানের সাধনা শুরু করতে যাচ্ছি৷ তবে স্থানীয় যাজক সায় দেওয়ার পরই লোকের ভয় কাটে৷''

ব্রানে এখন অনেক কিছুই বদলেছে৷ হয়েছে শপিং মল, যেখানে মিলবে ড্রাকুলা আর ভ্যাম্পায়ারের ছবি খচিত টুপি, গেঞ্জি- নানা কিছু৷ একটি বাস কোম্পানি আবার ড্রাকুলা প্যাকেজ ট্যুরও ছেড়েছে৷ যাতে তিনটি প্রাসাদ ঘুরিয়ে দেখানো হয়৷ আশেপাশে হোটেলও হয়েছে অনেক৷ গ্রীষ্মের এই সময়ে অনেকেই চলে গেছেন ড্রাকুলা প্রাসাদে৷ গত রোববার বেশ ভিড় দেখা গেলো সেখানে৷

ড্রাকুলা চরিত্রের কোনো ঐতিহাসিক ভিত্তির কথা ব্রাম স্টোকার সরাসরি বলেননি৷ তবে অনেকের মতে, ভালাসিয়ার প্রিন্স ভ্লাদ তেপেসকেই ড্রাকুলা চরিত্রে এঁকেছেন তিনি৷ বলা হয়, ভ্লাদ বহু মানুষকে হত্যা করেছেন৷ তবে ড্রাকুলা ক্যাসলে তিনি কখনো ছিলেন কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে ইতিহাসবেত্তাদের৷ স্টোকারের বইটি বাজারে আসে ১৮৯৭ সালে৷ এর প্রায় দুই যুগ পরে রুমানিয়ার রানি কেস্টিন মেরি প্রাসাদটির নাম দেন ড্রাকুলা ক্যাসেল৷ কারণ তিনি স্টোকারের লেখার ভক্ত ছিলেন৷

ড্রাকুলাকে নিয়ে এই মাতামাতিতে রুমানিয়ার অনেক আবার খুশি নয়৷ তারা বলছেন, এতে অন্য পর্যটন কেন্দ্রগুলোর কথা চাপা পড়ে যাচ্ছে৷ তবে জালিনস্কি বলেন, ড্রাকুলার প্রাসাদের জন্যই রুমানিয়াকে সবাই চেনে৷ সেটা দেখতেই তারা আসে৷ আর এই কারণে আসে বলেই অন্য স্থানগুলোতে পর্যটক যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়৷

প্রতিবেদন: মনিরুল ইসলাম

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক

সংশ্লিষ্ট বিষয়