1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

খেলাধুলা

ডোপিং টেস্টের যত ফাঁকফোকর

প্রযুক্তির উন্নতির কারণে অনেক ক্রীড়াবিদই এমন সব নিষিদ্ধ পদার্থ ব্যবহার করেন, যা ডোপিং পরীক্ষায় ধরা পড়ে না৷ ডয়চে ভেলেকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ডোপিং পরীক্ষার সীমাবদ্ধতা তুলে ধরেছেন ডোপিং বিশেষজ্ঞ পেরিকলেস সিমন৷

এবারের শীতকালীন অলিম্পিক সোচি অলিম্পিকে ডোপিং পরীক্ষা করা হয়েছে প্রায় সাড়ে তিন হাজার৷ এটি একটি রেকর্ড৷ কারণ এত বিপুল পরিমাণ পরীক্ষা এর আগে কোনো প্রতিযোগিতায় করা হয়নি৷ তবে এ সব পরীক্ষায় নানা সীমাব্ধতা রয়েছে, যার কারণে নিষিদ্ধ ওষুধ ব্যবহারকারী প্রতিযোগীরা প্রায়ই পার পেয়ে যাচ্ছেন৷ এমনটাই জানিয়েছেন সিমন৷

তাঁর কাছে প্রশ্ন রাখা হয়েছিল, এত পরীক্ষা করে আসলেই কি কোন ফল পাওয়া যাচ্ছে? এর উত্তরে তিনি বলেছেন, ‘‘রেকর্ড সংখ্যক পরীক্ষা আসলে নামে মাত্র৷ এটা নতুন কিছু নয়৷ প্রতি অলিম্পিকেই এ সংখ্যাটা বাড়তে থাকে৷ আসলে আমাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত যাঁরা আসলেই প্রতিযোগিতায় নিষিদ্ধ দ্রব্য ব্যবহার করেন তাঁদের শাস্তি দেয়া৷ কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, প্রতিযোগীরা এ সব দ্রব্য ব্যবহার করলেও পরীক্ষায় তা প্রমাণ করা কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়ায়৷''

তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি বা আইওসি-র প্রেসিডেন্ট সম্প্রতি ডোপিং পরীক্ষা উন্নত করার কথা বলেছেন৷ আসলেই কি এমন কোনো পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে? এর জবাবে সিমন জানান, ‘‘তাঁরা হয়ত ডোপিং বিরোধী প্রচারণা বাড়ানোর কথা বলেছেন৷ কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে গত কয়েক বছরে চিকিৎসা শাস্ত্রের উন্নতি হলেও ডোপিং পরীক্ষায় তা প্রয়োগ করা হচ্ছে না৷ সমস্যাটা হলো, যেসব প্রতিযোগী ভীষণ চালাক, তাঁদের একটি দল আছে৷ এই দলটি জানে, কিভাবে স্বল্প পরিমাণে একটি দ্রব্যের সাথে অন্য দ্রব্য মিশিয়ে ব্যবহার করা যায়, যার ফলে তা পরীক্ষায় ধরা পড়ে না৷''

Olympia Winterspiele in Sotschi 2014 Slopestyle Ski Joss Christensen

গত কয়েক বছরে চিকিৎসা শাস্ত্রের উন্নতি হলেও ডোপিং পরীক্ষায় তা প্রয়োগ করা হচ্ছে না

সিমন আরো জানান, উন্নত বিশ্বের খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতায় এ সব নিষিদ্ধ দ্রব্য ব্যবহারের বেশি চল রয়েছে৷ তাঁরা জানেন তাঁদের সমস্যাটা কোথায়, হয়ত কারো আচরণগত সমস্যা থাকতে পারে, কারো মনোযোগের সমস্যা থাকতে পারে, সেগুলো কাটিয়ে উঠতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তারা এসব ওষুধ বা দ্রব্য ব্যবহার করে৷

এছাড়া যেসব অ্যাথলিট ডোপিং পরীক্ষায় ধরা পড়েন, তাঁদের বেশিরভাগই হয় ব্যাপারটা নিয়ে মাথা ঘামান না, অথবা জানেন না কী পরিমাণ ব্যবহার করলে এটি এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব৷ তবে সিমনের ধারণা, অনেক অ্যাথলিটকে পুণরায় পরীক্ষা করলে এটি ধরা পড়তে পারে৷ তিনি স্বীকার করেন, স্প্রিন্টারদের মধ্যে ডোপিং-এর প্রবণতা বেশি৷

গ্রীষ্মকালের চেয়ে শীতকালীন অলিম্পিকে ডোপিং-এর ঘটনা বেশি ঘটে – সাংবাদিকের এমন মন্তব্য অস্বীকার করে সিমন বলেন, আবহাওয়ার সাথে এর কোনো সম্পৃক্ততা নেই৷ তিনি আরো জানান, ‘‘আইওসি ক্রীড়াঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর সাথে জড়িত, কিন্তু এই একটি বিষয়ে তারা তেমন কোনো উন্নতি করতে পারেনি৷'' তাই ডোপিং বিরোধী প্রচারণায় বেশি জোর না দিয়ে ডোপিং পরীক্ষার উন্নয়ন ঘটানো উচিত বলে মনে করেন সিমন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন