1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন

ডোনাল্ড ট্রাম্প: একটি প্রতিকৃতি

ডোনাল্ড ট্রাম্প গত চল্লিশ বছর ধরে নিজেকে একটি ব্র্যান্ড নেম-এ পরিণত করে ফেলেছেন৷ তাঁর দু’জন জীবনীকারের মতে, ট্রাম্পের ব্যক্তিত্বের চাবিকাঠি হলো তাঁর আত্মপ্রীতি৷

আগ্রাসী, বিক্ষিপ্ত, নীতিহীন, বস্তুবাদী, দাম্ভিক, চতুর, বিশৃঙ্খল, চটজলদি ও ক্যারিসম্যাটিক – ট্রাম্প সম্পর্কে নানা ধরণের বিশেষণ ব্যবহার করা হয়েছে৷ তবে তার মধ্যে নার্সিসিজম বা আত্মপ্রীতি এবং সেলসম্যান, এই দু’টি কথা বার বার এসে পড়ে৷

গোয়েন্ডা ব্লেয়ার ট্রাম্প ও ট্রাম্প পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সম্পর্কে দু’টি বই লিখেছেন৷ তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘উনি একজন সেলসম্যান, ওনার নিজের সেলসম্যান৷ নিজের প্রতি ওনার অগাধ বিশ্বাস৷ যদি কেউ কখনো বলে বসে যে, ওনার করা কোনো কাজ বা প্রকল্প সাফল্য পায়নি – তাহলে উনি এমন ব্যবহার করেন, যেন ওনাকে ভীমরুলে কামড়েছে৷ দেখে বোঝা যায় যে, উনি অত্যন্ত আঘাত পেয়েছেন, আত্মশ্লাঘায় আঘাত৷’’

ভিডিও দেখুন 01:51

টিমোথি এল. ও’ব্রায়েন ‘‘ট্রাম্পনেশন’’ বইটির লেখক৷ ও’ব্রায়েন নাকি তাঁর বইতে আভাসে-ইঙ্গিতে বলার চেষ্টা করেছেন যে, ট্রাম্প নিজেকে যতটা বড়লোক বলে থাকেন, আসলে তিনি ততটা নন – এই অভিযোগ তুলে ডোনাল্ড ট্রাম্প টিমোথি এল. ও’ব্রায়েনের বিরুদ্ধে পাঁচ বিলিয়ন ডলারের মামলা করেন৷ তবে ট্রাম্প সে মামলায় জিততে পারেনি৷

ও’ব্রায়েন বলেন, ‘‘উনি আসলে একটি সাত বছরের ছোট ছেলে যার বয়স খালি বেড়ে গেছে৷ একা একা ওঁর সঙ্গে কথা বললে ভালোই লাগে, কিন্তু ওনার আসলে কোনো শৃঙ্খলাবোধ নেই: ব্যক্তিগতভাবে, আবেগ-অনুভূতির দিক থেকে, আর্থিক বিচারে বা জনসমক্ষে৷ উনি গভীরভাবে নার্সিসিস্ট৷ জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে ওনার একমাত্র চিন্তা হল তিনি নিজে৷’’

ব্লেয়ার আর ও’ব্রায়েন দুজনেই একমত যে, আমরা টেলিভিশনে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে যা দেখি, বাস্তবেও তিনি তাই৷ ‘‘উনি যেভাবে কথা বলেন, উনি ঠিক তাই’’, বলেছেন ব্লেয়ার৷ কাজেই ট্রাম্প কেমন ব্যক্তি, সেটা প্রশ্ন নয়; প্রশ্ন হলো, তিনি রিপাবলিকান পার্টির মনোনয়ন পেলেন কি করে?

অ্যাংরি অ্যামেরিকান

ট্রাম্পের ব্যক্তিত্বের সমালোচনা করা যতই সহজ হোক, বহু মার্কিনির মধ্যে যে ক্ষোভ ও রোষ জমা হয়ে রয়েছে, তা চ্যানেল করার ক্ষমতা যে ট্রাম্পের আছে, তা তাঁর জীবনীকাররাও স্বীকার করেন৷ ও’ব্রায়েন বলেন, ‘‘২০০৮ সালের আর্থিক সংকটের সুদীর্ঘ ছায়া পড়ে ট্রাম্পের মনোনয়ন সম্ভব হয়েছে৷ ঐ সংকটের ফলে শিল্পায়ন-পরবর্তী যুগের বহু শ্রমিক শ্রেণির মার্কিনির মধ্যে গভীর অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়৷ তারা বন্ধকী ঋণ শোধ করতে পারবেন কিনা; তাদের পেনশন, সন্তানদের শিক্ষার খরচ, এ সবের কি হবে৷ তথাকথিত অ্যামেরিকান ড্রিম-ই যেন বিপন্ন হয়ে পড়ে৷’’

ব্লেয়ারেরও তাই মত৷ ‘‘এই ‘বাদ পড়া’ নিয়ে দেশে প্রচুর অসন্তুষ্টি আছে; যে ব্যক্তিরা দেশ চালাচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে; এমন একটি কংগ্রেস, যেখানে শুধু বিবাদ....দোষ তো কারুকে দিতে হবে৷ ট্রাম্প এসে দোষীদের একটা লম্বা লিস্টি ধরিয়ে দিয়েছেন, মেক্সিকো থেকে আসা বহিরাগত থেকে শুরু করে মুসলিম মহিলা, ওদিকে মিথ্যাবাদী মিডিয়া৷’’

জনতার কাছে ট্রাম্পের আকর্ষণ হলো তাঁর আত্মবিশ্বাস, যা নাকি ছেলেবেলা থেকেই তাঁর মনে গাঁথা হয়ে আছে – বলেন ব্লেয়ার৷ ব্যক্তিগত জীবনে ট্রাম্প কোনোরকম মাদক স্পর্শ করেন না৷ তাঁর একমাত্র নেশা হল সাফল্য৷ ‘‘ওনার মূল্যবোধের কেন্দ্রবিন্দু হলো, অর্থোপার্জন এবং যে কোন মূল্যে জেতা’’, বলেন ব্লেয়ার৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

অপরিকল্পিত

ও’ব্রায়েন বলেন, ট্রাম্প দীর্ঘমেয়াদি কোনো পরিকল্পনা করেন না৷ ব্যবসাপত্র যখন ভালো চলছে না, তখন ট্রাম্প যেন নিজের অজান্তেই রাজনীতিতে এসে পড়েন; ঠিক যেমন ট্রাম্প রিয়াল এস্টেট ডেভেলপার থেকে টিভি সেলিব্রিটি হয়ে দাঁড়ান, তারপর আন্ডারওয়্যার থেকে শুরু করে স্টেক বা ভডকা বা বাড়িঘর এনডর্স করতে শুরু করেন৷ এই পন্থায় ট্রাম্প যে স্কিলটি আবিষ্কার করেন, সেটি হলো ফ্রি মার্কেটিং৷ যদিও তিনি জানেন যে, প্রেসিডেন্ট হবার যোগ্যতা তাঁর নেই – এই হলো ও’ব্রায়েনের অভিমত৷

ট্রাম্পের কোনো আন্তরিক রাজনৈতিক মতামত আছে বলে তাঁর জীবনীকাররা মনে করেন না৷ অতীতে তিনি একাধিক দলনিরপেক্ষ, এমনকি বামপন্থি অবস্থানকেও সমর্থন করেছেন৷ সম্ভবত রিপাবলিকান তরফে সুযোগ আছে দেখে তিনি হাত বাড়ান৷ এছাড়া আছে তাঁর প্রেসিডেন্ট ওবামার প্রতি গভীর বিরূপতা৷

মজাদার কিন্তু বিপজ্জনক

ট্রাম্প সম্পর্কে এই হলো তাঁর জীবনীকারদের রায়৷ তিনি কোনো মতাদর্শে বা নৈতিকতায় বাঁধা নন৷ অপরদিকে তাঁর মধ্যে সম্ভবত কোনো গভীর অনিশ্চয়তা লুকিয়ে আছে, নয়ত তাঁর নিজের সম্পদ নিয়ে, অথবা মহিলাদের প্রতি তাঁর আকর্ষণীয়তে নিয়ে এতটা হামবড়াই করার প্রয়োজন পড়ত না৷ সব মিলিয়ে ট্রাম্প জনতার মনোরঞ্জন করতে পারেন; কিন্তু তাঁর নিজস্ব নানা দোষত্রুটি, এছাড়া চলতি বিশ্ব সম্পর্কে তাঁর জ্ঞান ও আগ্রহের অভাবের কারণে তাঁকে হোয়াইট হাউসের জন্য যোগ্য প্রার্থী হিসেবে গণ্য করা যায় না৷

জেফারসন চেজ/এসি

আপনার কী মনে হয়? ট্রাম্পই কি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হতে চলেছেন? লিখুন নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়