1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভারত

ডোনাল্ড ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতিতে মোদীর গুরুত্ব

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর পররাষ্ট্রনীতিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে প্রথম সারিতে নিয়ে এসেছেন, তা স্পষ্ট হলো মঙ্গলবার মোদীকে ফোন করার মধ্য দিয়েই৷ এর উদ্দেশ্য কি শুধুই সম্পর্ক ঘনিষ্ঠতর করা, না অন্য কিছু?

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জমানায় ভারতের গুরুত্ব কি আরও বাড়তে চলেছে? অন্তত শাসনভার নেবার সঙ্গে সঙ্গে সে রকমই আভাস দিয়েছেন স্বয়ং ট্রাম্প৷ বিশ্বের অন্যান্য তাবড় তাবড় রাষ্ট্র নেতাদের ছেড়ে গত মঙ্গলবার ভারতীয় সময় রাত সাড়ে এগারোটায় মোদীকে ফোন করে সেটাই বুঝিয়ে দিলেন তিনি৷ ফোনালাপে আগামী দিনে দু'দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করে এগিয়ে যাবার প্রতিশ্রুতি ছিল৷ ভারতকে যুক্তরাষ্ট্রের সত্যিকারের বন্ধু বলে ট্রাম্প উল্লেখ করেন৷ বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় ভারতকে প্রকৃত বন্ধু ও সহযোগী বলে মনে করে পাশে পেতে চায় যুক্তরাষ্ট্র৷ অবশ্য নির্বাচনি প্রচারের শুরু থেকেই তিনি মোদীর ভূয়সী প্রশংসা করে এসেছেন৷ বলেছেন, মোদীর মধ্যে রয়েছে অফুরন্ত কর্মশক্তি৷

বলা বাহুল্য, মোদীকে ফোন করে অ্যামেরিকার ভারত-বান্ধব অবস্থানকে আবারো প্রমাণ করলেন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট৷  পরে টুইটারে মোদী জানান, ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর কথাবার্তা ছিল উষ্ণ ও আন্তরিক৷ মোদী বলেন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ঘনিষ্ঠতর করতে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত৷

দুই নেতার মধ্যে ফোনালাপে উঠে আসে অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং সন্ত্রাসবাদ ইস্যু৷ উঠে আসে সন্ত্রাস মোকাবিলায় কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করার ঘোষণা৷ আর পরমাণু পণ্যসামগ্রী সরবরাহকারী দেশগোষ্ঠীতে ভারতের অন্তর্ভুক্তি সুনিশ্চিত করার ইস্যুটি৷

‘‘অ্যামেরিকা শুধু অ্যামেরিকানদের জন্য'' – নির্বাচনি প্রচার পর্বে এবং শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের এই উক্তি এবং কঠোর অভিবাসী নীতিতে ভারত কিছুটা শঙ্কিত ছিল৷ তাই সেই শঙ্কা দূর করতে মোদীকে কতটা আশ্বস্ত করতে পেরেছেন ট্রাম্প, কিংবা এ বিষয়ে মোদী কতটা বোঝাতে পেরেছেন ট্রাম্পকে – সেটা এখনও পরিষ্কার না হলেও পরিস্থিতি ইতিবাচক বলেই ধারণা করা হচ্ছে৷ এই প্রসঙ্গে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক অধ্যাপক ইমন কল্যাণ লাহিড়ি ডয়চে ভেলেকে বললেন, ‘‘ট্রাম্প বি-ওয়ান ভিসা নিয়ে কড়াকড়ি করার কথা বললেও, মনে হয় না যুক্তরাষ্ট্র ভারত থেকে আউটসোর্সিং ছাঁটাই করবে৷ তথ্য-প্রযুক্তি শিল্পে ভারতের মেধাশক্তির চাহিদা অস্বীকার করতে পারবে না অ্যামেরিকা৷ কারণ এত কম পয়সায় এ রকম ভালো মেধাশক্তি অ্যামেরিকায় পাওয়া মুশকিল৷

দ্বিতীয়ত পরিষেবা ক্ষেত্রেও সেটা দরকার হবে৷ যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব পরিকাঠামো শিল্পে যথেষ্ট মেধাশক্তি গড়ে তোলা সময়সাপেক্ষ৷ পাশাপাশি ভারতের মতো বড় বাজার অর্থনীতি আর এশিয়ায় নেই৷ চীন তার বাজার নিয়ন্ত্রণ করে নিজেই৷ চীনকে বাদ দিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সরাসরি বাজার আর নেই৷ অন্যদিকে, ইসলামিক জঙ্গিদের বাড়বাড়ন্ত রুখতে ভারত ও অ্যামেরিকা এক মানসিক যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছে৷ তবে ভুললে চলবে না পাকিস্তান এখনও ন্যাটো তালিকাভুক্ত৷ তাই সন্ত্রাস মোকাবিলায় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিতে ট্রাম্পকে দ্বিতীয়বার ভাবতে হবে৷''

অপর একজন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক উদয়ন বন্দোপাধ্যায় এ প্রসঙ্গে ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আউটসোর্সিং কম করা বা অভিবাসী সংক্রান্ত ট্রাম্পের ঘোষিত নীতি ভারতের ওপর কতটা প্রযোজ্য হবে, সেটা এখনো স্পষ্ট নয়৷ তবে ভারত-মার্কিন বন্ধুত্ব নিবিড় করার শর্তে মোদী কতটা দর কষাকষি করতে পেরেছেন বা পারবেন, তার ওপরই এটা নির্ভর করছে৷ এটা অবশ্য যে ঠিক এশিয়া অঞ্চলে চীন, পাকিস্তান, রাশিয়ার নতুন অক্ষশক্তির প্রতিপক্ষ হিসেবে ভারত-মার্কিন সহযোগিতা পারস্পরিক স্বার্থে জরুরি৷ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের চালিকা শক্তি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ৷ তাই ট্রান্স-প্যাসিফিক-পার্টনারশিপ বা চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসায় পরোক্ষভাবে ভারতের সুবিধাই হবে৷''

ফোনালাপে উভয় নেতা একে-অপরকে নিজের দেশে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বলে খবর৷ খুব সম্ভবত মোদী এ বছরের শেষাশেষি ওয়াশিংটন যেতে পারেন৷ অবশ্য তার আগেই, এ বছরের জুলাই মাসে, উভয় নেতা মিলিত হচ্ছেন জার্মানির হামবুর্গ শহরে জি-টোয়েন্টি শীর্ষ সম্মেলনে

নির্বাচিত প্রতিবেদন