1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

ডেঙ্গু প্রতিষেধক টিকা তৈরিতে সাফল্য, ঝুঁকিও আছে

প্রতিষেধক টিকার মাধ্যমে ডেঙ্গু রোগ প্রতিরোধ করা গেলে অনেক জীবন বাঁচানো সম্ভব৷ বিজ্ঞানীরা তাই এই নিয়ে গবেষণা করছেন দীর্ঘদিন ধরে৷ সম্প্রতি একটি প্রতিষেধকের তৃতীয় পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে৷

ওষুধ প্রস্তুতকারী ফরাসি প্রতিষ্ঠান সানোফি পাস্ট্যোর সম্প্রতি এশিয়ায় ডেঙ্গু টিকার পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে৷ শুক্রবার ‘দ্য ল্যানসেট' সাময়িকীতে প্রকাশ হয়েছে এই তথ্য৷ প্রতিষ্ঠানটি গবেষণা এবং উন্নয়ন বিভাগের প্রধান জন শিভার এই বিষয়ে বলেছেন, ‘‘ডেঙ্গুকে টিকা দিয়ে প্রতিরোধ সক্ষম রোগে পরিণত করার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে আমরা৷''

সাধারণত কোনো ভ্যাকসিন বা টিকা পেটেন্ট এবং বাজারে ছাড়ার আগে চূড়ান্ত পর্যায়ের পরীক্ষাকে বলা হয় তৃতীয় মাত্রার পরীক্ষা৷ ডেঙ্গু টিকার এই পরীক্ষায় অবশ্য সানোফি পাস্ট্যোর খুব বেশি সাফল্য অর্জন করেনি৷ তাদের পরীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, দুই থেকে ১৪ বছর বয়সি শিশুদের ক্ষেত্রে এই টিকার সাফল্য মাত্র ৫৬ দশমিক পাঁচ শতাংশ৷

সিঙ্গাপুরের নানিয়াং টেকনোলজি ইউনিভার্সিটির গবেষক অ্যানেলিস উইল্ডার-স্মিথ এই বিষয়ে বলেন, ‘‘আমাদের প্রত্যাশার তুলনায় ফলাফল অনেক কম হয়েছে৷ আমাদের ধারণা ছিল এই টিকা ৯০ শতাংশের বেশি সাফল্য দেখাতে সক্ষম হবে৷''

তবে মূল সমস্যা অন্যত্র৷ বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু সাধারণত চার প্রকারের হয়৷ আর পরীক্ষামূলক ভ্যাকসিনটি এই চার প্রকারের ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে সমানভাবে কাজ করে না৷ ডেঙ্গু টাইপ ৩ এবং ৪ এর ক্ষেত্রে টিকাটির সাফল্যের মাত্র ৭৫ শতাংশ৷ অন্যদিকে টাইপ ১ এর ক্ষেত্র সাফল্য ৫০ শতাংশ আর টাইপ ২ এর ক্ষেত্রে সাফল্য মাত্র ৩৫ শতাংশ৷ অথচ এসব টাইপের যে কোনোটিই মানুষের শরীরে দেখা দিতে পারে৷ তাছাড়া সব মিলিয়ে ৫৬ শতাংশ সাফল্যের অর্থ হচ্ছে, বাকি ৪৬ শতাংশের ক্ষেত্রে এই টিকা কাজ করবে না৷

উইল্ডার-স্মিথ জানান, বিশ্বের অনেক দেশে টাইপ ২ ডেঙ্গুর সংক্রমণই বেশি হয়৷ তাই সর্বশেষ ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার ফলাফল তার কাছে হতাশাজনক৷

উল্লেখ্য, প্রতি বছর পাঁচ লাখের মতো মানুষ মারাত্মক ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়৷ এই ভাইরাসের কারণে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে৷ বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে মৃত্যু ঝুঁকি বেশি থাকে৷ ফলে এটির কার্যকরী প্রতিষেধক তৈরিতে আরো গবেষণা প্রয়োজন বলে মনে করেন বিজ্ঞানীরা৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়