1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

ডেঙ্গু প্রতিরোধে জিনগত বৈশিষ্ট্যের সন্ধান

ডাব্লিউএইচও’র হিসাবে, প্রতিবছর ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয় প্রায় পাঁচ কোটি মানুষ৷ এতে প্রাণহানি ঘটে প্রায় ২২ হাজার জনের, যাদের অধিকাংশই শিশু৷ এই ডেঙ্গু জ্বরের সংক্রমণ রোধে এবার জিনগত সূত্র আবিষ্কারের পথে বিজ্ঞানীরা৷

default

ডেঙ্গু ভাইরাস বহনকারী মশা

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা - ডাব্লিউএইচও'র সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বিশ্বের শতাধিক দেশে ২.৫ বিলিয়ন মানুষ ডেঙ্গু হেমোরাজিক ফিভার তথা ডিএইচএফ নামক এই জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে৷ সংস্থাটি বলছে, ১৯৭০ সালের পূর্বে মাত্র ৯টি দেশে এই জ্বরের সংক্রমণ ছিল৷ অথচ ১৯৭০ সালের পর থেকে এর সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে চারগুণ হারে৷ আর এই হার এখনও অব্যাহত রয়েছে৷

বলছি ডেঙ্গু জ্বরের কথা৷ এর ভাইরাস লালিত হয় মানুষেরই দেহে৷ আর এই ভাইরাসটি একজনের শরীর থেকে অন্যের শরীরে সংক্রমণের দায়িত্ব পালন করে এডিস মশা৷ এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু ১, ২, ৩ এবং ৪ - এই চারটি ধরণ আবিষ্কার হয়েছে এই রোগটির৷ এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি সিঙ্গাপুরে, এমন পর্যবেক্ষণই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার৷ গত সাত বছরে সেখানকার প্রায় ৫০ লাখ মানুষের দেহে ডেঙ্গু ১ এবং ২ - এই দু' ধরণের ডেঙ্গু প্রকাশ পেয়েছে সবচেয়ে বেশি৷ আর চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে ৩ এবং ৪ - এই দু'টি জাতের ডেঙ্গুর সংক্রমণ লক্ষ্য করছেন বিজ্ঞানীরা৷

Dengue-Fieber - Mücke

সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি সিঙ্গাপুরে, জানাচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

ভারতে ডেঙ্গু রোগ

এদিকে, ভারতের কলকাতা শহরে প্রথম ডেঙ্গু হেমোরাজিক রোগ ধরা পড়েছিল ১৯৬৩ সালে৷ তবে ১৯৯৬ সালে ভারতের বেশ কিছু রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ে এই রোগের প্রকোপ৷ ঐ বছর সারা দেশে ১০ হাজার ২৫২ জনের দেহে ধরা পড়ে ডেঙ্গু৷ প্রাণ হারায় ৪২৩ জন৷ এরপর থেকে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তেই আছে৷ ডাব্লিউএইচও'র হিসাবে, ভারতে গত দশ বছরে ডেঙ্গু জ্বরে মারা যাওয়ার হার ১ শতাংশেরও বেশি৷

শুধু তাই নয়, ডেঙ্গু হচ্ছে একটি ব্যয়বহুল রোগ৷ হাসপাতালে ভর্তি হওয়া একজন ডেঙ্গু রোগীর পেছনে খরচ হয় প্রায় দেড় হাজার ডলার৷ এছাড়া ঐ রোগী কমপক্ষে দশ দিন কাজ করতে পারে না, বলে উল্লেখ করেছে ডাব্লিউএইচও৷ অধিক হারে নগরায়ন, তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং মানুষের চলাফেরা আরো বেড়ে যাওয়ায় ডেঙ্গু জ্বরের ভাইরাস বহনকারী এডিস অ্যাজিপ্টাই মশার পরিধিও বেড়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা৷ এই প্রেক্ষিতে বিশ্বব্যাপী ডেঙ্গু জ্বরের সংক্রমণ রোধে একটু নড়ে চড়ে বসেছে ডাব্লিউএইচও৷

BdT Mückenplage Zunahme der bissigen Insekten erwartet

টিকা না থাকলেও, এখন এর একটা বিহিত করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন বিজ্ঞানীরা

চিকিৎসা পদ্ধতি এবং ওষুধ আবিষ্কারের প্রচেষ্টা

এতদিন এই রোগের কোন চিকিৎসা কিংবা টিকা না থাকলেও এখন এর একটা বিহিত করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন বিজ্ঞানীরা৷ ইতিমধ্যে ডেঙ্গু জ্বরের বিভিন্ন ধরণ এবং এর প্রভাব সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পেতে সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড এবং কম্বোডিয়ায় বিজ্ঞানীরা গবেষণা শুরু করেছেন৷

সিঙ্গাপুরের গেনোম ইন্সটিটিউটের সংক্রামক ব্যাধি বিভাগের সহযোগী পরিচালক ড. মার্টিন হিবার্ড জানান, ভিয়েতনামে সাত হাজার মানুষের উপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হয়েছে৷ তিনি বলেন, ‘‘প্রত্যেক ব্যক্তির দেহে ছয় লাখ জিনগত বৈশিষ্ট্যের দিকে আমরা নজর রাখছি৷ এগুলোর মধ্যে যেসব বৈশিষ্ট্য ডেঙ্গু জ্বর সংক্রমণের জন্য দায়ী সেগুলোকে চিহ্নিত করার চেষ্টা করছি আমরা৷'' তিনি বলেন, ভিয়েতনামের ঘটনাগুলো অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রেও সঠিক কিনা, বিজ্ঞানীরা সেটিও নির্ণয় করার চেষ্টা করবেন৷ আর এর পরেই আবিষ্কার করা সম্ভব হবে ডেঙ্গু জ্বরের ওষুধ, প্রত্যাশা হিবার্ডের৷

BdT Im Kampf gegen die Dengue-Mücke wird in Indien ein Cricket-Stadion ausgeräuchert

ডেঙ্গু প্রতিরোধে ওষুধ স্প্রে করা হচ্ছে ভারতের একটি স্টেডিয়ামে

ডা. মো. শামীম হোসেন চৌধুরীর সাক্ষাৎকার

বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. মো. শামীম হোসেন চৌধুরী বললেন, ‘‘ডেঙ্গু হচ্ছে ডেঙ্গু ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত রোগ৷ এডিস অ্যাজিপ্টি মশা বহন করে এই ভাইরাস৷ এই মশা বদ্ধ পরিষ্কার পানিতে বংশ বিস্তার করে, যেমন টবের পানি, এসি থেকে নির্গত পানি কিংবা অল্প বৃষ্টির পানি৷'' বাংলাদেশে ডেঙ্গু রোগের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘‘বাংলাদেশ এবং ভারতে গত তিন-চার বছর আগে এই রোগের বেশ প্রকোপ ছিল৷ এছাড়া এতে আক্রান্ত হয়ে প্রাণহানির ঘটনাও ছিল বেশ৷ তবে বর্তমানে সচেতনতা অনেক বাড়ার ফলে এই রোগের প্রকোপ কমেছে৷ তবুও ১ থেকে ১.৫ শতাংশ মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছে৷ আর এই রোগটি ঢাকা মহানগরী এবং এর আশপাশেই বেশি দেখা যাচ্ছে৷''

ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধে এবং এতে কেউ আক্রান্ত হলে করণীয় সম্পর্কে তিনি বললেন, ‘‘যদি রোগটি হয়, তাহলে পানি স্বল্পতা কাটানোর জন্য যথেষ্ট পরিমাণ স্যালাইন দিতে হবে৷ রক্ত স্বল্পতা কাটানোর জন্য রক্ত দিতে হবে৷ আর এই রোগ প্রতিরোধের জন্য এর বাহক মশাকে মেরে ফেলতে হবে৷ এই মশা যেহেতু পরিষ্কার বদ্ধ পানিতে বংশ বিস্তার করে তাই এই ধরণের পানি সরিয়ে ফেলতে হবে৷ এছাড়া এই মশাটা খুব ভোরে এবং শেষ বিকেলে আক্রমণ করে৷ তাই এই দুই সময়ে খুব ভালো করে সুরক্ষামূলক পোশাক পরতে হবে এবং মশারি ব্যবহার করতে হবে৷''

প্রতিবেদক : হোসাইন আব্দুল হাই

সম্পাদনা : আব্দুল্লাহ আল-ফারূক

সংশ্লিষ্ট বিষয়