1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি ইউরোপ

ডিস্কোর গেটে বৈষম্য: জার্মানিতে জাতিবাদ

গায়ের রং যদি কালো হয়, তাহলে দৃশ্যত কোনো ডিস্কোয় ঢুকতে গেলেও গেটে ‘বাউন্সার’ বাধা দিয়ে বলে, ‘প্রবেশ নিষেধ’৷ অথচ তার আর কোনো কারণ নেই: শুধুমাত্র গাত্রবর্ণ৷ এই বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে এবার মামলা করেছেন এক কৃষ্ণাঙ্গ৷

অবশ্য ডিস্কোর বাউন্সার তো আর হাল আমলে খোলাখুলি বর্ণবৈষম্য করতে পারে না৷ তাই তার নানা অজুহাত জানা আছে৷ কখনো সে বলে, প্রাইভেট ফাংশন; কখনো বলে, রিজার্ভেশন লাগবে; কখনো বলে, বাঁধা খদ্দেরদের জন্যে৷ অর্থাৎ হামাদো দিপামার ঢুকবার জো নেই৷

২০০২ সালে জার্মানিতে রাজনৈতিক আশ্রয় পান বুর্কিনা ফাসোর এই মানুষটি৷ ডিস্কোয় ঢুকতে না পারাটা তাঁর কাছে ‘‘রোজকার অভিজ্ঞতা'', বলেন ৩৯ বছর বয়সি দিপামা৷ তাঁর অপরাপর বন্ধুবান্ধবের অভিজ্ঞতাও এক৷ অনেকে তো সন্ধ্যায় কোথাও একটা যাবার চেষ্টা করাই ছেড়ে দিয়েছেন৷ কেননা তা-তে লাভ কিছুই হয় না, পড়ে থাকে শুধু অপমানবোধ৷

Hamado Dipama

ডিস্কোয় ঢুকতে না পারাকে ‘‘রোজকার অভিজ্ঞতা'' বলেন ৩৯ বছর বয়সি দিপামা

দিপামা ইতিমধ্যে মিউনিখ শহরের বহিরাগত উপদেষ্টা পরিষদের নির্বাচিত সদস্য৷ কাজেই তিনি আর ডিস্কোর বৈষম্য মেনে নিতে রাজি নন৷ অপরাপর ছ'জন বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে দিপামা ২০১৩ সালের এপ্রিলে মিউনিখ শহরের ডিস্কোগুলিতে ঢোকার চেষ্টা করেন৷ বন্ধুরা ছিলেন আফ্রিকান, তুর্কি, ফরাসি, গ্রিক ও জার্মান৷ দেখা যায়, ২৫টি ডিস্কোর মধ্যে ২০টি ডিস্কোতে দিপামা ও তাঁর এক কৃষ্ণাঙ্গ বন্ধুকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি৷ এক তুর্কি বন্ধুকেও বহুবার গেট থেকেই ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে৷ অপরদিকে দিপামার শ্বেতাঙ্গ সহচররা সকলেই বিনা বাধায় ঢুকতে পেয়েছেন৷

দিপামা এই বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হবার সিদ্ধান্ত নেন৷ তিনি চান ক্ষতিপূরণ৷ তাঁর পক্ষে রয়েছে জার্মানির বৈষম্য বিরোধী আইন, যা কিনা বলে যে, জাতি, লিঙ্গ, ধর্ম, প্রতিবন্ধিত্ব বা মতাদর্শের কারণে বৈষম্য নিষিদ্ধ৷ কিন্তু জটিলতাও আছে: একটি ক্লাবের কি তার সদস্যদের বেছে নেবার অধিকার নেই? নিজের বাড়ির উপর বাড়িওলার কতোটুকু অধিকার? বৈষম্য বলে কা-কে?

ডিস্কো কর্তৃপক্ষ যে সব নিরাপত্তা সংস্থাকে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের ভার দেন, তাদের যুক্তি হলো, তারা ট্র্যাকস্যুট এবং নোংরা কেডস পরা অতিথি, কিংবা মাতাল কি অপ্রাপ্তবয়স্কদেরই গেট থেকে ফিরিয়ে দেয়৷ এখন তারা যে সত্যি বলছে, না মিথ্যে বলছে, সেটা প্রমাণ করবে কে এবং কিভাবে? অবশ্য সাক্ষ্যপ্রমাণ আনাটা যে একেবারে অসম্ভব নয়, তার প্রমাণ: হ্যানোভারের একটি আদালত তুর্কি বংশোদ্ভূত বাদীপক্ষকে এক হাজার ইউরো ক্ষতিপূরণ মঞ্জুর করেন, কেননা তাঁকে একটি ডিস্কোয় ঢুকতে দেওয়া হয়নি৷ অনুরূপভাবে স্যাক্সনি রাজ্যেও এক সিরীয় ছাত্র ৫০০ ইউরো ক্ষতিপূরণ পেয়েছিল৷

বৈষম্য শুধু ডিস্কোয় ঢুকতে দেওয়া কি না দেওয়া নিয়ে, এটা ভাবলে গোটা সমস্যাটাকে একটা খেলো এবং হাস্যকর পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হবে৷ বস্তুত জার্মানিতে যে সব মানুষ তথাকথিত ‘‘অভিবাসী পটভূমি'' থেকে এসেছেন, তাদের কর্মসংস্থান এবং চাকুরি ক্ষেত্রেও নানা বৈষম্যের সম্মুখীন হতে হয়৷ এই বৈষম্যমূলক মনোবৃত্তির কারণ হিসেবে সমাজতত্ত্ববিদরা দেখছেন, অর্থনৈতিক সংকটের কারণে মানুষজনের অনিশ্চয়তা বেড়েছে, তারা নিজেদের বিপন্ন বোধ করছে৷ তাদের নিজেদের চোখে তাদের নিজেদের মূল্য যতটা কমছে, ততই তারা তাদের চেয়েও অসহায়, অনধিকারী মানুষদের হেয় করতে চাইছে৷

দিপামা তাঁর নিজের ও তাঁর মেয়ের জন্য একটি নতুন ফ্ল্যাটের খোঁজ করছেন৷ কোনো এক বাড়িওলার সঙ্গে টেলিফোনে কথা হচ্ছে৷ ‘‘আপনি কোত্থেকে এসেছেন?'' বাড়িওলার প্রশ্ন৷ দিপামার উত্তর: ‘বুর্কিনা ফাসো৷' আর কিছু বলার দরকার হয়নি৷ বাড়িওলা সেখানেই লাইন কেটে দিয়েছেন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন