1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানিতে উচ্চশিক্ষা

ডিএএডি-র অনলাইন গেমস -স্টুডি স্টাট

জার্মানিতে বিদেশি ছাত্র-ছাত্রীদের নতুন পরিবেশে দ্রুত মানিয়ে নেয়ার জন্য ডিএএডি বের করেছে অনলাইন গেমস৷ রয়েছে বিশেষ একটি ওয়েবসাইট৷

default

খেলাচ্ছলে দেশ চেনা যাবে ‘স্টুডি স্টাট’এর মধ্যে

খেলার মাধ্যমে ভার্চুয়ালি দেখানো হবে জার্মানিতে প্রথমবার এসে একজন ছাত্র বা ছাত্রী কোন ধরণের সমস্যার সম্মুখীন হয়৷ এর মধ্যে বাড়ি খোঁজার খেলাটি সবচেয়ে আকর্ষণীয়৷ অনলাইন গেমসের শুরুতে শোনা যাবে, ‘‘জার্মানিতে তোমাকে স্বাগতম৷ তুমি জার্মানিতে এসে পৌঁছেছো৷ বিদেশে পড়তে আসার প্রথম পদক্ষেপ সফলভাবে সম্পন্ন করেছো৷ এখন শুধু একটি মাত্র সমস্যা তোমার সামনে৷ তোমার প্রয়োজন একটি থাকার জায়গা৷''

বেশ রঙিন এবং আকর্ষণীয়ভাবে ওয়েবসাইটটিতে স্বাগত জানানো হয় – ‘স্টুডি স্টাট'এ৷ স্টুডি – অর্থাৎ পড়াশোনা, স্টাট – অর্থাৎ শহর৷ একটি কার্টুন দেখা যাবে৷ ধরে নেয়া হবে এই কার্টুন চরিত্রটিই হল কোনো ছাত্র বা ছাত্রী৷ সে বাড়ি খুঁজছে৷

অনলাইন গেমসের কন্ঠ বলবে,‘‘স্টুডেন্ট ডর্মে থাকার জন্য আবেদন করার তারিখ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে৷ একা একটি বাড়ি নেয়ার জন্য যথেষ্ট টাকা তোমার কাছে নেই৷ তবে শেয়ারে তোমাকে থাকার জায়গা করে দেয়া যেতে পারে৷

DAAD-Online-Spiel Studi-Stadt: Die Bewohner

দৈনন্দীন জীবনযাত্রার নানা দিক জানা যায় এই খেলার মাধ্যমে

কীভাবে বাড়ি খোঁজা যায়

আগেই জার্মানিতে পড়াশোনা পর্বে জানানো হয়েছে সবাই মিলে শেয়ার করে থাকার ব্যবস্থা কেমন৷ জার্মান ভাষায় যাকে বলা হয় ভেগে বা ভোনগেমাইনশাফ্ট৷ ভার্চুয়াল এই শহরে রয়েছে পাঁচটি এমন ভেগে৷ এর থেকে যে কোন একটি বেছে নিতে হবে ছাত্র বা ছাত্রীকে৷ ভেগে-তে বসবাস করে সব মিলিয়ে পাঁচজন ছাত্র-ছাত্রী৷ খেলায় জিতলে ছাত্র বা ছাত্রীটি এই ভেগে-তে থাকার সুযোগ পাবে৷ এই খেলাটি তৈরি করেছে টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি কেমনিৎস'এর কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের ছাত্রী জেনিফার বোন৷ এই খেলা তৈরি করতে ২৬ বছরের জেনিফারের সঙ্গে কাজ করেছে আরো চারজন ছাত্র-ছাত্রী৷ প্রায় এক বছর সময় লেগেছে খেলাটি তৈরি করতে৷

জেনিফার বোন বললেন,‘‘পুরোপুরি কাল্পনিক জগতে আমরা চলে গিয়েছি৷ সেখানেই পুরো গল্পটি৷ সেখানে কীভাবে একজন থাকার মত বাড়ি খুঁজে পেতে পারে তাই দেখাতে চেয়েছি৷ এবং যে কোন ধরণের বাড়ি নয় – ভেগে বা শেয়ারে থাকার ব্যবস্থা৷ কারণ ভেগে যে কোন ছাত্র-ছাত্রীর জন্য সবচেয়ে সস্তা৷ আর এ জন্য আমাকে ভেগে তৈরি করতে হয়েছে, তৈরি করতে হয়েছে আরো বেশ কিছু কার্টুন চরিত্র৷ প্রশ্নোত্তরের পালা ছিল৷ অনেক কিছু ঢোকাতে হয়েছে – বাস্তবে যা যা ঘটে বা ঘটতে পারে, তার পুরোটাই পাওয়া যাবে এই খেলায়৷''

রয়েছে পাঁচ ধরণের খেলা

যে পাঁচটি ভেগে দিয়ে খেলাটি তৈরি করা হয়েছে তা পাঁচ ধরণের৷ যেমন একটি ভেগে-তে যারা থাকে, তারা সবাই রান্নায় ওস্তাদ৷ সেখানে সবকিছুই রান্না করে খাওয়া হয়৷ আরেকটি ভেগে-তে যারা থাকে, তাদের সবার বয়স ১৯ থেকে ২১, সবাই তরুণ৷ আরেকটি ভেগে-তে ছেলে-মেয়ে মিলে থাকে৷ প্রতিটি ভেগের পক্ষ থেকে একটি করে ইউজারকে একটি সমস্যা দেয়া হয়৷ সমাধান করতে পারলেই সেখানে থাকার জায়গা করে দেয়া হবে৷ নিয়মটা এরকম৷

ভার্চুয়াল জগতের পুরুষ কন্ঠস্বর স্বাগত জানাবে,‘‘তুমি এখানে এসেছে৷ দারুণ! ভেতরে চলে আসো৷ আমার নাম ফেলিক্স, আর এরা হচ্ছে হানা এবং মারি৷''

আরেকটি ভেগে-তে খেলার সময় জার্মানির রাজনৈতিক দলগুলি প্রতীক চিহ্ন সঠিক জায়গায় বসাতে হবে৷ তরুণদের ভেগে-তে জার্মানির ফুটবল দল সম্পর্কে খুব ভাল জ্ঞান থাকতে হবে৷ ফুটবল মাঠে জাতীয় দলের প্রতিটি খেলোয়াড়কে এনে দাঁড় করাতে হবে৷ এছাড়া জার্মানির ১৬টি রাজ্য নিয়ে থাকবে প্রশ্ন৷ কোন রাজ্যটি কোথায় অবস্থিত তা জার্মানির ম্যাপে সাজাতে হবে৷ সবকিছুই সম্ভব মাউসের ক্লিকের মাধ্যমে৷

DAAD-Spiel: Studi-Stadt - Bewohner der Szene-WG

বাড়ি খোঁজা থেকে শুরু করে একসঙ্গে থাকার বন্দোবস্ত করা – সবই জানাচ্ছে স্টুডি স্টাট

জানুন জার্মানির নানা দিক

এই খেলার মধ্যে দিয়ে জার্মানি সম্পর্কে নানা তথ্য দেয়া হয়, শেখানো হয়৷ কথাগুলো বলেন ডিএএডি-র আন্তর্জাতিক বিভাগের প্রধান নিনা লেমেন্স৷ নিনা লেমেন্স জানান,‘‘ডিএএডি সবসময় একেবারে প্রচলিত পদ্ধতিতে নিজেদের উপস্থাপন করে আসছে৷ ইদানিং এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ইন্টারনেট৷ আর বিদেশে যেহেতু আমাদের মূল লক্ষ্য হল তরুণ প্রজন্ম, তাই আমাদের ভাবতে হয়েছে, কীভাবে তাদের আনা যায়৷ তাদের সঙ্গে কীভাবে যোগাযোগ করা যায়? কী করলে তারা আগ্রহী হবে জার্মানিতে আসতে বা পড়াশোনা করতে? তখন ইন্টারনেটকেই ধরে নেয়া হয় একমাত্র এবং অত্যন্ত কার্যকর মাধ্যম হিসেবে৷''

‘স্টুডি স্টাট'এর খেলাটি জার্মান এবং ইংরেজি দুটি ভাষাতেই খেলা যায়৷ ডিএএডির এই প্রকল্পে আর্থিকভাবে সাহায্য করেছে জার্মানির শিক্ষা মন্ত্রণালয়৷ এই প্রকল্পে কাজ করতে আবেদন করেছিল গোটা জার্মানি থেকে মাত্র বারোটি দল৷ জিতেছে জেনিফার বোনের দল৷

প্রতিবেদন: মারিনা জোয়ারদার

সম্পাদনা: সঞ্জীব বর্মন