1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি ইউরোপ

ডিএএডি’র কর্মসূচি ‘ব্যাচেলর প্লাস’

১৪ বছর আগে ইউরোপীয় শিক্ষামন্ত্রীরা একটি উদ্যোগ নিয়েছিলেন৷ তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল, ইউরোপের শিক্ষার্থীরা যেন কোর্সের একটা অংশ বিদেশে সম্পন্ন করতে পারেন৷ কিন্তু সে প্রচেষ্টা বাস্তবায়িত হয়নি৷

default

কোর্সের একটি অংশ দেশের বাইরে পড়াটা গুরুত্বপূর্ণ

শিক্ষা বিষয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সবচেয়ে বড় জার্মান প্রতিষ্ঠান ডিএএডি৷ তাদের একটি কর্মসূচি ‘ব্যাচেলর প্লাস'৷ জার্মানির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা বিষয়কে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে৷ ছাত্রছাত্রীদের ছয় সেমিস্টারের বদলে আট সেমিস্টারে ‘ব্যাচেলর প্লাস' শেষ করতে হয়৷ এর পরিবর্তে তাঁরা একটি পুরো শিক্ষাবছর বিদেশে পড়াশোনা করতে পারেন৷

‘ব্যাচেলর প্লাস' কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ

মিউনিখের টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটির কয়েকজন ছাত্রছাত্রী ‘ব্যাচেলর প্লাস' কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে দেশে ফিরে এসেছেন৷ আসুন তাঁদের সঙ্গে পরিচিত হওয়া যাক৷

TU München Technische Universität München Bayern Drei Stipendiaten des DAAD Bachelor plus Programms

‘ব্যাচেলর প্লাস' কর্মসূচি থেকে বৃত্তি পাওয়া তিন শিক্ষার্থী

মাক্সিমিলিয়ানে হুরনাউস মিউনিখের টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে স্থাপত্য বিভাগে পড়াশোনা করছেন৷ তিনি বলেন, ‘‘আমি এই ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হয়েছি ‘বিদেশের বছরটি'র জন্য৷ কারণ আমি মনে করি ব্যক্তিগতভাবে আমার পক্ষে বাইরে পড়া সম্ভব হতো না৷ তাই এই কর্মসূচিটি বেশ উপযোগী মনে হয় আমার৷ এটা একটা দারুণ অভিজ্ঞতা৷ ওখানকার বিশ্ববিদ্যালয়টি সম্পূর্ণ অন্যরকম৷ এখানেও এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে৷''

টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটির স্থাপত্যের ৭০০ ছাত্রছাত্রীর মধ্যে মাক্সিমিলিয়ানেও একজন৷ তিনি সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে দুই সেমিস্টার পড়াশোনা করেছেন৷ ডিএএডি-এর ‘ব্যাচেলর প্লাস' কর্মসূচির আওতায় সেখানে গিয়েছিলেন৷

বাঁশের স্থাপত্য

ম্যাক্সিমিলিয়ানে আরো জানান, ‘‘সাধারণ ছাত্রভিসা নিয়ে সিঙ্গাপুরে গেলে পড়াশোনার পাশাপাশি কাজও করতে হতো৷ এজন্য এই বৃত্তিটা উপকারে লেগেছে৷ ছুটিতে এদিক ওদিক ঘুরে বেড়ানোও সম্ভব হয়েছে৷

Bildergalerie Das Recht auf sauberes Wasser Weltwasserwoche 2011 Skyline von Singapur

অনেক শিক্ষার্থী সিঙ্গাপুরে পড়তে যান

সিঙ্গাপুরের আকাশচুম্বী ও আধুনিক ভবন সম্পর্কেতো আগেই ধারণা ছিল৷ এছাড়া ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া কিংবা ইন্দোনেশিয়ায় যাবারও সুযোগ হয়েছে আমার৷ কীভাবে মানুষ বাঁশ দিয়ে স্থাপত্য বানায় চোখে পড়েছে সেটাও৷''

মিউনিখের ১৮০-এর মতো স্থাপত্যের ছাত্রছাত্রী এখন বিদেশে পড়াশোনা করছেন৷ এর মধ্যে ১২ জন ‘ব্যাচেলর প্লাস' কর্মসূচির বৃত্তি পাচ্ছেন৷ এই অর্থ থেকে ভাষাশিক্ষা কোর্সের জন্যও ব্যয় করা হয়৷ তবে বৃত্তির সিংহভাগই ছাত্রছাত্রীদের সরাসরি দেওয়া হয়৷

অনেক জায়গায় জীবনযাত্রা ব্যয়বহুল

ডোমিনিক বুর অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড ইউনিভার্সটিতে এক বছর পড়াশোনা করেছেন৷ বৃত্তির টাকাটা তাঁর খুব কাজে লেগেছে৷

তাঁর ভাষায়, ‘‘বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ায় যেখানে জার্মানির তুলনায় জীবনযাত্রার মান অনেক ব্যয়বহুল৷ যেখানে বাড়িভাড়াই প্রতিমাসে গুণতে হয় ১২০০ ইউরো৷ সেজন্য এই বৃত্তিটা খুব সাহায্য করেছে৷''

ডোমিনিক আরো জানান, ‘‘নতুন করে দৃষ্টি খুলে গেছে আমার৷ অন্যান্য মানুষের সঙ্গে একসাথে বসবাস করা, অন্য দেশের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার ফলে মানুষের মনে পরিপক্কতাও আসে, দৃষ্টি প্রসারিত হয়৷ বিশেষ করে স্থাপত্য শিক্ষার ক্ষেত্রে এটা খুবই প্রয়োজনীয়৷''

টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটির প্রফেসর ফ্রাঙ্ক পেটৎসোল্ড এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘আমরা চাই ছাত্রছাত্রীরা বিদেশে অভিজ্ঞতা অর্জন করুক৷ এটা আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ৷ বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশ যেমন দক্ষিণ অ্যামেরিকা, ভারত ও এশিয়ার অন্যান্য দেশের নির্মাণ পদ্ধতি সম্পর্কে নতুন নতুন আইডিয়া পেতে পারেন তাঁরা৷ আর সেটা কাজে লাগাতে পারেন জার্মানিতেও৷ কেননা নির্মাণের কলাকৌশলে ক্রমেই আন্তর্জাতিক ছোঁয়া গুরুত্ব পাচ্ছে৷ ''

মিউনিখের ছাত্রছাত্রীরা এই কর্মসূচিতে চার মহাদেশের সাতটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে বেছে নিতে পারেন, কোথায় তারা যেতে চান৷ এই কর্মসূচির বৃত্তি পেতে হলে ছাত্রছাত্রীদের বিদেশি ভাষা জ্ঞান থাকতে হয়৷ করতে হয় পরীক্ষার ভাল ফলাফল৷ এছাড়া একটা মানসিক পরিপক্কতা, প্রজ্ঞা ও দৃঢ়তাও থাকা প্রয়োজন৷

বিভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের পাশাপাশি বসবাস

এই প্রসঙ্গে মাক্সিমিলিয়ানে হুরনাউস বলেন, ‘‘সিঙ্গাপুরে বিভিন্ন সংস্কৃতির মানুষ পাশাপাশি বাস করেন৷ হিন্দু, মুসলিম, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ সবাই৷ আমার কাছে এটা দেখে খুবই ভাল লেগেছে, কীভাবে নানা সংস্কৃতির মানুষ সহজেই পাশাপাশি বসবাস করতে পারেন৷ এজন্য নিজেকে বদলাতে হয় না৷ যে যার সাংস্কৃতিক রীতনীতি পালন করেন৷ কেউ এতে বিরক্ত হয় না৷ মানুষ খাপ খাইয়ে নেয়৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন