1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

ঠিক যেন এক বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি!

সত্যিই যেন একটা বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি – বিজ্ঞানীদের কাছে এখনও কিন্তু এমনটাই মনে হচ্ছে৷ ১০ বছর ধরে ধাওয়া করার পর, শেষে বুধবার ধূমকেতু ৬৭পি বা চুরিয়মোভ-গেরাসিমেনকোর কাছে পৌঁছেছে ইউরোপীয় মহাকাশ যান রোসেটা৷

পৃথিবী থেকে প্রায় ৫০ কোটি কিলোমিটার দূরে থাকা ধূমকেতুটিকে খুব কাছে থেকে পর্যবেক্ষণের চেষ্টায় বড় সাফল্য পেয়েছে রোসেটা৷ বিজ্ঞানীদের আশা পৃথিবীতে প্রাণের উৎস যে কার্বন এবং পানি, তা এই ধূমকেতু থেকেই এসেছিল কিনা – সেটা পরীক্ষা করে থেকে জানা যেতে পারে৷ রোসেটা নামের এই যানটির লক্ষ্য হচ্ছে আগামী এক বছর ধরে ধূমকেতুটিকে প্রদক্ষিণ করা এবং সেখানে একটি ল্যান্ডার অবতরণযান পাঠিয়ে তার উপাদানগুলো পরীক্ষা করা৷ এই প্রকল্পটিতে খরচ হয়েছে প্রায় দুইশ কোটি ডলার৷

ঐতিহাসিক গবেষণা

২০০৪ সালের ২রা মার্চ রোসেটা মহাকাশের উদ্দেশ্যে রওনা হয়৷ দীর্ঘ ১০ বছর ধরে সৌরমণ্ডলের ভিতর দিয়ে যাত্রা শেষে ৬৭পি ধূমকেতুর পাশে পৌঁছায় যানটি৷ ধূমকেতুর কাছে পৌঁছাতে গিয়ে রোসেটাকে নানা বাধা পেরিয়ে অতিক্রম করতে হয়েছে প্রায় ৬০০ কোটি কিলোমিটার পথ৷ এই যাত্রাপথে জার্মানির ডার্মস্টাট শহর থেকে বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিবিদরা তাকে নিয়ন্ত্রণ করেছে৷

European Space Agency 06.08.2014

দীর্ঘ অপেক্ষার পর রসেটার সাফল্য, বিজ্ঞানীরা খুশি

রোসেটা মহাকাশযান এখন ধূমকেতুর পাশে নিজেকে এমনভাবে স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে যাতে ধূমকেতুর কক্ষপথে এটি পাশাপাশি প্রদক্ষিণ করতে পারবে৷ জার্মানির ডার্মস্টাটে সংস্থাটির নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র থেকে অভিযানের সাফল্য ঘোষণা করেন ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি ইএসএ মহাপরিচালক জ্যঁ জ্যাকস ডর্ডাইন৷ বলেন, ‘‘দশ বছর, পাঁচ মাস এবং চারদিন ঘোরার পর এবং সূর্যকে পাঁচবার প্রদক্ষিণ করার পর চারশ কোটি মাইল ঘোরার পর অবশেষে লক্ষ্যে পৌঁছেছে রোসেটা৷ এখন আমরা বিজ্ঞানের একটা স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে পা রেখেছি৷ এটাই সুযোগ৷''

এর আগের মিশনগুলোতে যে মহাকাশযান পাঠানো হয়েছে সেগুলো ধূমকেতুর গতিপথের কাছ দিয়ে দ্রুত পার হয়ে গেছে৷ কেবল ধূলিকণার নমুনা এবং কিছু তথ্য সংগ্রহ ছাড়া ওই মিশনে আর কিছু অর্জন সক্ষম হয়নি৷

এই দীর্ঘ পথে শক্তি বাঁচানোর জন্য রোসেটাকে ৩১ মাসের জন্য অকেজো করে রাখা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা৷ চলতি বছরের জানুয়ারিতে তার কাজ আবার চালু করা হয়৷

গত দু'মাস ধরে ধীরে ধীরে কমানো হয়েছে রোসেটার গতি৷ ধূমকেতুটির গতি ঘণ্টায় প্রায় ৫৫ হাজার কিলোমিটার৷ আগামী ১৫ মাস ধরে রোসেটা এভাবেই ঘুরবে৷

সব কিছু ঠিকঠাক চললে এ বছরের নভেম্বরে রোসেটার সঙ্গে থাকা যান ফিলায়ে ল্যান্ডারকে ধূমকেতুর উপরে নামাতে চায় ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি৷ বিজ্ঞানীরা বলছেন, সব কিছু যদি পরিকল্পনা মাফিক চলে, তাহলে নভেম্বর নাগাদ তারা রোসেটাকে ফিরিয়ে আনতে মহাশূন্যে একটি অবতরণযান পাঠাবেন৷ ধূমকেতুর উপরে গর্ত করে পরীক্ষা চালানোরও পরিকল্পনা রয়েছে ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির৷ এর ফলে ধূমকেতু সম্পর্কে আরও তথ্য জানা যাবে বলে বিজ্ঞানীদের ধারণা৷ হয়ত নভেম্বরে ধুমকেতুটির বরফস্তরে প্রবেশ করতে পারে রোসেটা৷

রোসেটা প্রকল্পের সাথে যুক্ত এক বিজ্ঞানী অবশ্য সংবাদ সংস্থা এএফপিকে জানালেন, ‘‘মিশন ইমপসিবল, অর্থাৎ যানটির অবতরণ অসম্ভব একটি কাজ৷ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঐ কর্মকর্তা জানান অবরতরণে ব্যর্থ হলেও ২০১৫ সালের শেষ পর্যন্ত ঐ ধূমকেতুকে প্রদক্ষিণ করার সময় বেশ কিছু নতুন তথ্য পাওয়া যেতে পারে৷''

প্রাচীন মিশরের সাংকেতিক লিপি ‘হায়ারোগ্লিফিকস'-এর জনক রোসেটা স্টোনের নামে এই মহাকাশ গবেষণাযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘রোসেটা'৷

এপিবি/ডিজি(এপি, ডিপিএ)

নির্বাচিত প্রতিবেদন